বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীরা 

বিগত কয়েক মাস যাবৎ রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের মাদক,সন্ত্রাস, চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অভিযান সফলতার শীর্ষে রয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী চারঘাটে রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
কিন্তু বর্তমানে রাজশাহী জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার সাইফুর রহমানের (পিপিএম) দিক নির্দেশনায় ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খায়রুল ইসলামের সার্বিক প্রচেষ্টায় এই সকল সফল অভিযান সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। বলতে গেলে রাজশাহী জেলা ডিবি বিগত ৪ মাসে মাসে যে সকল অভিযান চালিয়েছে তা নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
কিন্তু রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের সফল অভিযানকে ব্যার্থ করতে মাঠে সক্রিয় মাদক মাফিয়ারা। কেননা চারঘাটের যে এলাকায় রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছিল সেই সেই এলাকা থেকে এবার রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে গুজব ছড়ানোর অপচেস্টা চালানো হচ্ছে।
সেই ধারাবাহিকতায় গত ২৮/০৬/২০২৪ ইং তারিখে রাত আনুমানিক ১১.৩০ মিনিটের দিকে রাজশাহী জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা চারঘাট পৌরসভার মোক্তারপুর পাইকানপাড়া গ্রামে ১০ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন মাদক ব্যবসায়ী আলমগীর (৪০)। কিন্তু আলমগীরের কাছে মাদক উদ্ধার হলেও আলমগীরের ১৪ বছরের ছেলেকেও আটক করার গুজব ছড়ায় একটি মাদক চক্র । এসময় উত্তেজিত কয়েকশ গ্রামবাসী উক্ত ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়।
এসময় চারঘাটের দিক থেকে আমিনুল ইসলাম আনোয়ার ও দীন মোহাম্মদ নামের ২ সাংবাদিক মুক্তারপুর দিয়ে রাজশাহী শহরের দিকে আসলে উত্তেজিত উপস্থিত জনতা দেখতে পেয়ে তারা সেখানে অবস্থান নেন। অবস্থানের এক পর্যায়ে উত্তেজিত গ্রামবাসী সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন – আলমগীর নামের একজন মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার ১৪ বছরের নাবালক সন্তান রুদ্রকেও গ্রেফতারের চেস্টা চালানো হচ্ছে।
উক্ত সময় সাংবাদিক আনোয়ার ও দিন মোহাম্মদ এসআই দাউদ উজ জামানকে জিজ্ঞাসা করেন তারা কার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করেছেন ? এ প্রশ্নের উত্তরে এসআই দাউদ উজ জামান বলেন – আমরা মাদক ব্যবসায়ী আলমগীরকে ১০ বোতল ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার করেছি । কিন্তু তার নাবালক সন্তান রুদ্রের কাছ থেকে কোন মাদক উদ্ধার করিনি বিধায় তাকে গ্রেফতারও করিনি। কিন্তু কারা যেন খবর ছড়িয়েছে আমরা মাদক ব্যবসায়ী আলমগীরের নাবালক শিশু রুদ্রকেও গ্রেফতার করেছি বিধায় গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে বিষয়টি জানতে এসেছে।
এদিকে সরেজমিন অনুসন্ধানে মুক্তারপুর পাইকানপাড়া গ্রামে গ্রেফতার হওয়া মাদক ব্যবসায়ী আলমগীরের স্ত্রী সাফী আলমগীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশ – আমার স্বামীকে মাদক ব্যবসা করার অপরাধে তাকে গ্রেফতার করেছে কিন্তু কারা যেন আমার ছেলে রুদ্রকে গ্রেফতার করার খবর ছড়িয়ে দিয়েছিল বিধায় গ্রামবাসী ঘটনার সময় আমার বাড়িতে উপিস্থিত হয়ে প্রকৃত ঘটনা জানতে চায়। বিধায় আমি উপস্থিত এলাকাবাসীসহ স্থানীয় মেম্বার, সাবেক মেম্বারসহ সাংবাদিকদের জানাই আমার স্বামীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে কিন্তু আমার ছেলেকে নয়।
সার্বিক বিষয়ে রাজশাহীর আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে চারঘাট মুক্তাপুরের স্থানীয় বাসিন্দা ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সদস্য এডভোকেট রুহুল আমীন বলেন – আমরা দেখেছি, রাজশাহী জেলায় হঠাৎ করেই মাদকে তরুন তরুনীরা জড়িয়ে পড়ছে এবং যেখানে সেখানে ভ্রাম্যমান ভাবে মাদক ডেলিভারীও হচ্ছে। পুলিশ পোশাকে থাকে বিধায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের পোশাক কিংবা গাড়ি দেখলেই নিজেকে আড়াল করে নেয়। কিন্তু জেলা ডিবি পুলিশ যেহেতু ছদ্মবেশে যে কোন অভিযান করতে পারে তাই রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের ভূমিকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিধায় এই ডিবি পুলিশকে যদি কোন মাদকচক্র ফাঁসাতে চায় তবে তা প্রতিহত করা উচিৎ।

রাজশাহীতে ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীরা 

প্রকাশের সময় : ০৯:২৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪
বিগত কয়েক মাস যাবৎ রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের মাদক,সন্ত্রাস, চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অভিযান সফলতার শীর্ষে রয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী চারঘাটে রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
কিন্তু বর্তমানে রাজশাহী জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার সাইফুর রহমানের (পিপিএম) দিক নির্দেশনায় ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খায়রুল ইসলামের সার্বিক প্রচেষ্টায় এই সকল সফল অভিযান সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। বলতে গেলে রাজশাহী জেলা ডিবি বিগত ৪ মাসে মাসে যে সকল অভিযান চালিয়েছে তা নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
কিন্তু রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের সফল অভিযানকে ব্যার্থ করতে মাঠে সক্রিয় মাদক মাফিয়ারা। কেননা চারঘাটের যে এলাকায় রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছিল সেই সেই এলাকা থেকে এবার রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে গুজব ছড়ানোর অপচেস্টা চালানো হচ্ছে।
সেই ধারাবাহিকতায় গত ২৮/০৬/২০২৪ ইং তারিখে রাত আনুমানিক ১১.৩০ মিনিটের দিকে রাজশাহী জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা চারঘাট পৌরসভার মোক্তারপুর পাইকানপাড়া গ্রামে ১০ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন মাদক ব্যবসায়ী আলমগীর (৪০)। কিন্তু আলমগীরের কাছে মাদক উদ্ধার হলেও আলমগীরের ১৪ বছরের ছেলেকেও আটক করার গুজব ছড়ায় একটি মাদক চক্র । এসময় উত্তেজিত কয়েকশ গ্রামবাসী উক্ত ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়।
এসময় চারঘাটের দিক থেকে আমিনুল ইসলাম আনোয়ার ও দীন মোহাম্মদ নামের ২ সাংবাদিক মুক্তারপুর দিয়ে রাজশাহী শহরের দিকে আসলে উত্তেজিত উপস্থিত জনতা দেখতে পেয়ে তারা সেখানে অবস্থান নেন। অবস্থানের এক পর্যায়ে উত্তেজিত গ্রামবাসী সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন – আলমগীর নামের একজন মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার ১৪ বছরের নাবালক সন্তান রুদ্রকেও গ্রেফতারের চেস্টা চালানো হচ্ছে।
উক্ত সময় সাংবাদিক আনোয়ার ও দিন মোহাম্মদ এসআই দাউদ উজ জামানকে জিজ্ঞাসা করেন তারা কার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করেছেন ? এ প্রশ্নের উত্তরে এসআই দাউদ উজ জামান বলেন – আমরা মাদক ব্যবসায়ী আলমগীরকে ১০ বোতল ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার করেছি । কিন্তু তার নাবালক সন্তান রুদ্রের কাছ থেকে কোন মাদক উদ্ধার করিনি বিধায় তাকে গ্রেফতারও করিনি। কিন্তু কারা যেন খবর ছড়িয়েছে আমরা মাদক ব্যবসায়ী আলমগীরের নাবালক শিশু রুদ্রকেও গ্রেফতার করেছি বিধায় গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে বিষয়টি জানতে এসেছে।
এদিকে সরেজমিন অনুসন্ধানে মুক্তারপুর পাইকানপাড়া গ্রামে গ্রেফতার হওয়া মাদক ব্যবসায়ী আলমগীরের স্ত্রী সাফী আলমগীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশ – আমার স্বামীকে মাদক ব্যবসা করার অপরাধে তাকে গ্রেফতার করেছে কিন্তু কারা যেন আমার ছেলে রুদ্রকে গ্রেফতার করার খবর ছড়িয়ে দিয়েছিল বিধায় গ্রামবাসী ঘটনার সময় আমার বাড়িতে উপিস্থিত হয়ে প্রকৃত ঘটনা জানতে চায়। বিধায় আমি উপস্থিত এলাকাবাসীসহ স্থানীয় মেম্বার, সাবেক মেম্বারসহ সাংবাদিকদের জানাই আমার স্বামীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে কিন্তু আমার ছেলেকে নয়।
সার্বিক বিষয়ে রাজশাহীর আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে চারঘাট মুক্তাপুরের স্থানীয় বাসিন্দা ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সদস্য এডভোকেট রুহুল আমীন বলেন – আমরা দেখেছি, রাজশাহী জেলায় হঠাৎ করেই মাদকে তরুন তরুনীরা জড়িয়ে পড়ছে এবং যেখানে সেখানে ভ্রাম্যমান ভাবে মাদক ডেলিভারীও হচ্ছে। পুলিশ পোশাকে থাকে বিধায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের পোশাক কিংবা গাড়ি দেখলেই নিজেকে আড়াল করে নেয়। কিন্তু জেলা ডিবি পুলিশ যেহেতু ছদ্মবেশে যে কোন অভিযান করতে পারে তাই রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের ভূমিকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিধায় এই ডিবি পুলিশকে যদি কোন মাদকচক্র ফাঁসাতে চায় তবে তা প্রতিহত করা উচিৎ।