বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বেনাপোল কাস্টমসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১৬ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায়

ভারতের সাথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৮০ ভাগই সম্পন্ন হয় দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে। গেল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ডলার সঙ্কটের কারণে ব্যবসায়ীরা চাহিদা মতো এলসি করতে না পারায় আমদানি কমলেও গেল অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১৬ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় বেশি হয়েছে।

বিগত ১০ বছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউস  রাজস্ব  আদায়ের লক্ষমাত্রা পুরনে ব্যর্থ হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর রাজস্ব আদায়ের লক্ষমাত্রা পুরন করে , বেশী রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়েছে  কমিশনারের দক্ষতা ,দ্রুত সিদ্ধান্ত ও রাজস্ব আদায়ে যত্নশীল হওয়া।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে গেল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৬ হাজার ১৬৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানায়, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে পণ্য আমদানি হয়েছিল ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পণ্য আমদানি হয়েছে ১৭ লাখ ২১ হাজার ৭৮০ টন পণ্য।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মহসিন মিলন জানান, বৈশ্বিক মন্দা, ডলারের বিনিময় হার ঊর্ধ্বগতি আর সংকটের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গত কয়েক বছর ধরে এলসির সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে কমে যায় আমদানি বানিজ্য, দেখা দেয় রাজস্ব ঘাটতি।  তবে বছরের শেষে উচ্চ শুল্ক হারের পণ্য বেশি আমদানি হওয়ায় রাজস্ব আদায়  বেড়ে যায়। বেনাপোল কাস্টম হাউসের  বর্তমান কমিশনার আব্দুল হাকিম রাজস্ব ফাকি রোধে জিরো টলারেন্স ণীতি অনুসরন করায় রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পায়।

আমদানিকারক আল মামুন জানান, বৈশ্বিক মন্দায় ডলার সংকট দেখিয়ে দেশের ব্যাংকগুলো বিনিময় হার বাড়ানোয় এলসি খুলতে পারেননি অনেক ব্যবসায়ী। এতে করে বেনাপোল দিয়ে আমদানি কমে যায় ব্যাপক হারে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার আব্দুল হাকিম জানান, অর্থবছরে শেষ দিকে উচ্চ শুল্ক হারের পণ্য বেশী আমদানি হয়। রাজস্ব বোর্ড বেশ কিছু পণ্যের  শুল্কহার বাড়ানোর ফলে  লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। রাজস্ব ফাঁকি রোধে এ বন্দরে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হয়। অনিয়ম ধরা পড়লে রাজস্ব পরিশোধ পূর্বক ২০০ থেকে ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত  জরিমানা আদায় করায় বৃদ্ধি পায় রাজস্ব।  তাছাড়া গেল অর্থবছরে সরকারের মেগা প্রকল্পের পণ্য বেনাপোল দিয়ে বেশী আমদানি হয়েছে। এতে করে কাস্টমসের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ব্যবসায়ীদের বৈধ সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য কমিশনার আব্দুল হাকিমের নির্দেশনায় চৌকস আই আরএম টিম রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।  আইআরএম টিমের  প্রধান ডেপুটি কশিনার অথেলো চৌধুরী রাজস্ব ফাঁকি রোধে   কঠোর ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি এ টিমের দায়িত্ব পাওয়ার পর সব ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে সক্ষম হন।

বেনাপোল কাস্টমসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১৬ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায়

প্রকাশের সময় : ০২:২৬:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০২৪

ভারতের সাথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৮০ ভাগই সম্পন্ন হয় দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে। গেল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ডলার সঙ্কটের কারণে ব্যবসায়ীরা চাহিদা মতো এলসি করতে না পারায় আমদানি কমলেও গেল অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১৬ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় বেশি হয়েছে।

বিগত ১০ বছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউস  রাজস্ব  আদায়ের লক্ষমাত্রা পুরনে ব্যর্থ হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর রাজস্ব আদায়ের লক্ষমাত্রা পুরন করে , বেশী রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়েছে  কমিশনারের দক্ষতা ,দ্রুত সিদ্ধান্ত ও রাজস্ব আদায়ে যত্নশীল হওয়া।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে গেল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৬ হাজার ১৬৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানায়, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে পণ্য আমদানি হয়েছিল ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পণ্য আমদানি হয়েছে ১৭ লাখ ২১ হাজার ৭৮০ টন পণ্য।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মহসিন মিলন জানান, বৈশ্বিক মন্দা, ডলারের বিনিময় হার ঊর্ধ্বগতি আর সংকটের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গত কয়েক বছর ধরে এলসির সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে কমে যায় আমদানি বানিজ্য, দেখা দেয় রাজস্ব ঘাটতি।  তবে বছরের শেষে উচ্চ শুল্ক হারের পণ্য বেশি আমদানি হওয়ায় রাজস্ব আদায়  বেড়ে যায়। বেনাপোল কাস্টম হাউসের  বর্তমান কমিশনার আব্দুল হাকিম রাজস্ব ফাকি রোধে জিরো টলারেন্স ণীতি অনুসরন করায় রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পায়।

আমদানিকারক আল মামুন জানান, বৈশ্বিক মন্দায় ডলার সংকট দেখিয়ে দেশের ব্যাংকগুলো বিনিময় হার বাড়ানোয় এলসি খুলতে পারেননি অনেক ব্যবসায়ী। এতে করে বেনাপোল দিয়ে আমদানি কমে যায় ব্যাপক হারে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার আব্দুল হাকিম জানান, অর্থবছরে শেষ দিকে উচ্চ শুল্ক হারের পণ্য বেশী আমদানি হয়। রাজস্ব বোর্ড বেশ কিছু পণ্যের  শুল্কহার বাড়ানোর ফলে  লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। রাজস্ব ফাঁকি রোধে এ বন্দরে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হয়। অনিয়ম ধরা পড়লে রাজস্ব পরিশোধ পূর্বক ২০০ থেকে ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত  জরিমানা আদায় করায় বৃদ্ধি পায় রাজস্ব।  তাছাড়া গেল অর্থবছরে সরকারের মেগা প্রকল্পের পণ্য বেনাপোল দিয়ে বেশী আমদানি হয়েছে। এতে করে কাস্টমসের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ব্যবসায়ীদের বৈধ সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য কমিশনার আব্দুল হাকিমের নির্দেশনায় চৌকস আই আরএম টিম রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।  আইআরএম টিমের  প্রধান ডেপুটি কশিনার অথেলো চৌধুরী রাজস্ব ফাঁকি রোধে   কঠোর ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি এ টিমের দায়িত্ব পাওয়ার পর সব ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে সক্ষম হন।