বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিএসএফের বাধায় আখাউড়া বন্দরে নির্মাণ কাজ বন্ধ, আজ থেকে ফের চালু

কয়েক দফায় বিএসএফের বাধার মুখে বন্ধ থাকা আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণকাজ আবার শুরু হয়েছে। এটি চালু হলে যাত্রীরা যেমন উন্নত সেবা পাবেন, তেমনি সময় বাঁচবে। স্থলপথে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম আখাউড়া স্থলবন্দর। এ বন্দর পার হলেই ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা শহর। যেখান থেকে দেশটির পর্যটন শহরগুলোতে রেল ও আকাশপথে সহজে যাতায়াত করা যায়। ভ্রমণ ব্যয় তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় দিন দিন আখাউড়া স্থলবন্দর ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। যার ফলে সরকারের রাজস্বও বাড়ছে।

আখাউড়া স্থল শুল্কস্টেশনের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপার হয় ২ লাখ ৬০ হাজার ৬৬ জন। এ সময় ভ্রমণকর আদায় হয়েছিল ৭ কোটি ৮৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা। আর সদ্য সমাপ্ত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ বন্দর ব্যবহার করে যাত্রী পারাপার হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৯ জন। এতে করে সরকার ভ্রমণকর হিসেবে রাজস্ব পেয়েছে ১৩ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। ২৩-২৪ অর্থবছরে সরকার ভ্রমণকর ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করেছে।

ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, আখাউড়া উপজেলার কালিকাপুর ও ভবানীপুর মৌজার ৩ একর ১০ শতাংশ জায়গায় আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। সেখানে বিদ্যমান ভবনটি ১৯৫৩ সালে নির্মাণ করা। বর্তমানে চেকপোস্টে একটি কার্যালয় ও ব্যারাক ভবন আর একটি রান্নাঘর আছে। ১৯৬৫-৬৬ সালে এই ভবনে ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর আর এখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ভবনটি এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

২০১৬ সালে আখাউড়ায় নতুন ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণকাজের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মেসার্স বিজনেস সিন্ডিকেট ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়তলার ভিতের ওপরে দোতলা ভবন নির্মাণের চুক্তি হয়। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজের সামগ্রী নিয়ে জড়ো করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১২০ গজ দূরত্বে আখাউড়া অভিবাসনের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে প্রথম দফায় ভবন নির্মাণের ব্যাপারে বিএসএফ থেকে বাধা আসে। বিজিবির মাধ্যমে পাঠানো ওই মৌখিক আপত্তিতে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের ভেতরে স্থাপনা নির্মাণের বিধিনিষেধের কথা বলা হয়।

এরপর ২০১৯ সালের ২৮ এপ্রিল আবার নির্মাণকাজ শুরু হয়। ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় আবার নির্মাণকাজ বন্ধ করে বিএসএফ। পরে কিছুদিন কাজ চললেও ২০২০ সালের ১৮ ডিসেম্বর তৃতীয় দফায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলে বিএসএফ। বিজিবি তখন বিএসএফের বরাত দিয়ে জানায়, ৩৫ ফুটের বেশি উচ্চতার ভবন নির্মাণ করা যাবে না। ২০২০ সালের ৪ জুলাই ৩৫ ফুট উচ্চতার নতুন ভবনের নকশা বিজিবি এবং ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে ভারতে পাঠানো হয়। এরপর ২০২০ সালের ৮ আগস্ট আবার ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। সীমান্তের শূন্যরেখার ১৫০ গজের ভেতরে দুই দেশের সীমানাপ্রাচীর-সংলগ্ন ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা অংশে বিএসএফের ভবন নির্মাণকাজে বিজিবি বাধা দেয়। ২০২১ সালের মার্চ মাসে বিএসএফ আবার বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনের ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার পর জটিলতার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে আবারও শুরু হয়েছে ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণকাজ; যা আশার আলো জাগিয়েছে যাত্রীদের মাঝে। তবে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি তাদের।

আখাউড়া স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে আরও কয়েক বছর আগে। বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনেই চলে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম। এখানে যাত্রীদের বসার জন্য নেই পর্যাপ্ত জায়গা, সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের।

সিলেটের বাসিন্দা স্বর্ণলতা রায় বলেন, এ বন্দরে অবকাঠামোর কিছু দুর্বলতা আছে। অবকাঠামো আরও উন্নত করা উচিত। কারণ আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারত ইমিগ্রেশনে সুযোগ-সুবিধা অনেক ভালো। আমরাও চাই ভারতের নাগরিকরা এদেশে এসে বলুক আমাদের ইমিগ্রেশনের অবকাঠামো ও সেবা অনেক ভালো। পর্যটককে আকৃষ্ট করতে হলে এ জায়গাগুলোয় আরও কাজ করতে হবে বলে মনে করি। সবাই মিলে উদ্যোগ নিলে এ সমস্যা দূর করা যাবে।

ঢাকার বাসিন্দা মো. সাইফ বলেন, এপার ও ওপারের ইমিগ্রেশনে অনেক তফাত। এখানে অবকাঠামো, প্রফেশনালিজম, চেকিংÑ এগুলোতে আরও উন্নত করতে হবে। প্রতিদিন এক হাজারের বেশি লোক এ চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করে। এই সংখ্যাটা বাড়তে থাকলে এ বন্দরটি লাভজনক বন্দর হতে পারে। যাত্রী সংখ্যা বেশি হলে এখানে বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ওয়াশ রুম নেই। বৃষ্টি হলে দাঁড়ানোর মতো পর্যন্ত জায়গা নেই। এসব সমস্যা দ্রুত দূর করতে হবে। আমরা চাই নতুন ভবনের কাজটা দ্রুত শেষ করা হক।

আখাউড়া স্থল শুল্কস্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার বলেন, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর আখাউড়া। দিন দিন এ পথে যাত্রী পারাপার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সরকারেরও রাজস্ব আয় বাড়চ্ছে। এখন ঢাকা থেকে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় ট্রেনে করে আখাউড়া পৌঁছানো যায়। তা ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেটের সঙ্গে রেল ও সড়কপথে যাতায়াত সহজ এবং অর্থ সাশ্রয়ী হওয়ায় যাত্রীরা অন্য বন্দর ও আকাশপথ ব্যবহার না করে আখাউড়া দিয়ে চলাচল করছে। একই ছাদের নিচে আধুনিক সব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এই স্থলপথ হবে যাত্রীদের প্রথম পছন্দ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ পথে যাত্রী পারাপার যত বাড়বে সরকারের রাজস্বও তত বাড়বে। এসব বিষয় চিন্তা করেই যত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা যায়, আমরা তা করে যাচ্ছি। নতুন ভবনে যাত্রীদের মিলবে আধুনিক সব সুবিধা। একই ছাদের নিচে থাকবে কাস্টমস অফিসও। চলতি বছরেই নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। কাজ শেষ হলে যাত্রী পারাপার বেড়ে সরকারের রাজস্বও বাড়বে। যত দ্রত সম্ভব আমরা নতুন ভবনে উঠে যাব।

বিএসএফের বাধায় আখাউড়া বন্দরে নির্মাণ কাজ বন্ধ, আজ থেকে ফের চালু

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৪:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুলাই ২০২৪

কয়েক দফায় বিএসএফের বাধার মুখে বন্ধ থাকা আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণকাজ আবার শুরু হয়েছে। এটি চালু হলে যাত্রীরা যেমন উন্নত সেবা পাবেন, তেমনি সময় বাঁচবে। স্থলপথে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম আখাউড়া স্থলবন্দর। এ বন্দর পার হলেই ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা শহর। যেখান থেকে দেশটির পর্যটন শহরগুলোতে রেল ও আকাশপথে সহজে যাতায়াত করা যায়। ভ্রমণ ব্যয় তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় দিন দিন আখাউড়া স্থলবন্দর ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। যার ফলে সরকারের রাজস্বও বাড়ছে।

আখাউড়া স্থল শুল্কস্টেশনের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপার হয় ২ লাখ ৬০ হাজার ৬৬ জন। এ সময় ভ্রমণকর আদায় হয়েছিল ৭ কোটি ৮৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা। আর সদ্য সমাপ্ত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ বন্দর ব্যবহার করে যাত্রী পারাপার হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৯ জন। এতে করে সরকার ভ্রমণকর হিসেবে রাজস্ব পেয়েছে ১৩ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। ২৩-২৪ অর্থবছরে সরকার ভ্রমণকর ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করেছে।

ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, আখাউড়া উপজেলার কালিকাপুর ও ভবানীপুর মৌজার ৩ একর ১০ শতাংশ জায়গায় আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। সেখানে বিদ্যমান ভবনটি ১৯৫৩ সালে নির্মাণ করা। বর্তমানে চেকপোস্টে একটি কার্যালয় ও ব্যারাক ভবন আর একটি রান্নাঘর আছে। ১৯৬৫-৬৬ সালে এই ভবনে ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর আর এখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ভবনটি এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

২০১৬ সালে আখাউড়ায় নতুন ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণকাজের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মেসার্স বিজনেস সিন্ডিকেট ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়তলার ভিতের ওপরে দোতলা ভবন নির্মাণের চুক্তি হয়। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজের সামগ্রী নিয়ে জড়ো করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১২০ গজ দূরত্বে আখাউড়া অভিবাসনের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে প্রথম দফায় ভবন নির্মাণের ব্যাপারে বিএসএফ থেকে বাধা আসে। বিজিবির মাধ্যমে পাঠানো ওই মৌখিক আপত্তিতে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের ভেতরে স্থাপনা নির্মাণের বিধিনিষেধের কথা বলা হয়।

এরপর ২০১৯ সালের ২৮ এপ্রিল আবার নির্মাণকাজ শুরু হয়। ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় আবার নির্মাণকাজ বন্ধ করে বিএসএফ। পরে কিছুদিন কাজ চললেও ২০২০ সালের ১৮ ডিসেম্বর তৃতীয় দফায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলে বিএসএফ। বিজিবি তখন বিএসএফের বরাত দিয়ে জানায়, ৩৫ ফুটের বেশি উচ্চতার ভবন নির্মাণ করা যাবে না। ২০২০ সালের ৪ জুলাই ৩৫ ফুট উচ্চতার নতুন ভবনের নকশা বিজিবি এবং ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে ভারতে পাঠানো হয়। এরপর ২০২০ সালের ৮ আগস্ট আবার ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। সীমান্তের শূন্যরেখার ১৫০ গজের ভেতরে দুই দেশের সীমানাপ্রাচীর-সংলগ্ন ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা অংশে বিএসএফের ভবন নির্মাণকাজে বিজিবি বাধা দেয়। ২০২১ সালের মার্চ মাসে বিএসএফ আবার বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনের ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার পর জটিলতার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে আবারও শুরু হয়েছে ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণকাজ; যা আশার আলো জাগিয়েছে যাত্রীদের মাঝে। তবে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি তাদের।

আখাউড়া স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে আরও কয়েক বছর আগে। বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনেই চলে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম। এখানে যাত্রীদের বসার জন্য নেই পর্যাপ্ত জায়গা, সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের।

সিলেটের বাসিন্দা স্বর্ণলতা রায় বলেন, এ বন্দরে অবকাঠামোর কিছু দুর্বলতা আছে। অবকাঠামো আরও উন্নত করা উচিত। কারণ আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারত ইমিগ্রেশনে সুযোগ-সুবিধা অনেক ভালো। আমরাও চাই ভারতের নাগরিকরা এদেশে এসে বলুক আমাদের ইমিগ্রেশনের অবকাঠামো ও সেবা অনেক ভালো। পর্যটককে আকৃষ্ট করতে হলে এ জায়গাগুলোয় আরও কাজ করতে হবে বলে মনে করি। সবাই মিলে উদ্যোগ নিলে এ সমস্যা দূর করা যাবে।

ঢাকার বাসিন্দা মো. সাইফ বলেন, এপার ও ওপারের ইমিগ্রেশনে অনেক তফাত। এখানে অবকাঠামো, প্রফেশনালিজম, চেকিংÑ এগুলোতে আরও উন্নত করতে হবে। প্রতিদিন এক হাজারের বেশি লোক এ চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করে। এই সংখ্যাটা বাড়তে থাকলে এ বন্দরটি লাভজনক বন্দর হতে পারে। যাত্রী সংখ্যা বেশি হলে এখানে বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ওয়াশ রুম নেই। বৃষ্টি হলে দাঁড়ানোর মতো পর্যন্ত জায়গা নেই। এসব সমস্যা দ্রুত দূর করতে হবে। আমরা চাই নতুন ভবনের কাজটা দ্রুত শেষ করা হক।

আখাউড়া স্থল শুল্কস্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার বলেন, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর আখাউড়া। দিন দিন এ পথে যাত্রী পারাপার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সরকারেরও রাজস্ব আয় বাড়চ্ছে। এখন ঢাকা থেকে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় ট্রেনে করে আখাউড়া পৌঁছানো যায়। তা ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেটের সঙ্গে রেল ও সড়কপথে যাতায়াত সহজ এবং অর্থ সাশ্রয়ী হওয়ায় যাত্রীরা অন্য বন্দর ও আকাশপথ ব্যবহার না করে আখাউড়া দিয়ে চলাচল করছে। একই ছাদের নিচে আধুনিক সব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এই স্থলপথ হবে যাত্রীদের প্রথম পছন্দ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ পথে যাত্রী পারাপার যত বাড়বে সরকারের রাজস্বও তত বাড়বে। এসব বিষয় চিন্তা করেই যত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা যায়, আমরা তা করে যাচ্ছি। নতুন ভবনে যাত্রীদের মিলবে আধুনিক সব সুবিধা। একই ছাদের নিচে থাকবে কাস্টমস অফিসও। চলতি বছরেই নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। কাজ শেষ হলে যাত্রী পারাপার বেড়ে সরকারের রাজস্বও বাড়বে। যত দ্রত সম্ভব আমরা নতুন ভবনে উঠে যাব।