বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তারুণ্যের সভার নানা আয়োজনে মুখরিত কচি-কাঁচার মেলা

রাজধানীতে তরুণদের সংগঠন ‘তারুণ্যের সভা’র উদ্যোগে নানা আয়োজনে মুখরিত হয়ে ওঠেছে ঢাকার কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা। শুক্রবার (৫ জুলাই, ২০২৪) বিকেল ৩টায় ‘তারুণ্যের সভা’র আয়োজনে
সেগুনবাগিচাস্থ কচি-কাঁচার মেলায় আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি,পুরষ্কার বিতরণসহ নানা অনুষ্ঠানের। হাজারো তরুণের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসে এসময় ভরে ওঠে কেন্দ্রীয়
কচি-কাঁচা ভবন।

‘উগ্রবাদ মোকাবেলায় তরুণদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তারুণ্যের সভার সভাপতি
আয়েশা ছিদ্দিকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন, হেযবুত তওহীদের উপদেষ্টা খাদিজা খাতুন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মশিউর রহমান, তারুণ্যের সভার উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের সভাপতি ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক উম্মুত তিজান মাখদুমা পন্নী, দৈনিক দেশেরপত্রের সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী, সাহিত্য সম্পাদক কবি রিয়াদুল হাসান, দৈনিক বজ্রশক্তি সম্পাদক এস এম সামসুল হুদা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লেখক ও নাট্যকার ওবায়দুল হক বাদল ও তারুণ্যের সভার সদস্য নওশীন আমিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “তরুণরা জাতির মূল শক্তি। তাই কোনো জাতিকে মেরুদণ্ডহীন ও পদানত করতে তরুণদের উপর প্রথম আঘাত হানা হয়। এই আঘাতের হাতিয়ার হল অপসংস্কৃতি, মাদক, কুশিক্ষা, অপরাজনীতি ইত্যাদি অপশক্তি। ব্রিটিশ যুগে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতবর্ষের উর্বর জমিতে আফিমের চাষ আরম্ভ করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তরুণরা আফিম খেয়ে বুঁদ হয়ে থাকবে। এতে একদিকে তাদের ব্যবসাও হবে আবার তরুণরা কোম্পানির দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার তেজও হারাবে।”

তিনি আরও বলেন, “তারুণ্যকে নিজেদের অনুগত করতে ব্রিটিশরা প্রবর্তন করেছিল ষড়যন্ত্রমূলক দুই ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা। একটি মাদ্রাসা শিক্ষা আরেকটি সাধারণ শিক্ষা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে বের হবে এমন একটি জনগোষ্ঠী যারা আধুনিক পৃথিবীতে অচল, তাদের মধ্যে কোনো জীবনমুখী দক্ষতাই থাকবে না। তারা দেশ জাতি রাষ্ট্র কীভাবে চলে তা নিয়ে মাথা ঘামাবে না। অন্যদিকে তারা সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে সৃষ্টি করল এমন একটি শ্রেণি যাদের কাজ হল উপনিবেশের কেরানিগিরি করা।

তাদের ভিতরে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হল নিজেদের জাতি সম্পর্কে অজ্ঞতাপ্রসূত হীনম্মন্যতা ও ইউরোপীয়দের প্রতি অন্ধভক্তি। কোনো আদর্শ, কোনো দেশপ্রেম, ন্যায়নীতিবোধ তাদের হৃদয়ে স্থাপন করা হল না। ব্রিটিশ শাসন আজ না থাকলেও তাদের শিক্ষা আজও আছে। আমাদের তরুণ সমাজ আজও শিক্ষার দিক থেকে দ্বিধাবিভক্ত।”

হেযবুত তওহীদের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আজকে সবার হাতে স্মার্টফোন, যার নেশা আফিমের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। সেখানে অশ্লীল অপসংস্কৃতির এক অন্ধকার জগৎ। সেখানে জীবনের মূল্যবান সময়কে
নিঃশেষ করে ফেলার অগণিত অলিগলি। সে সব গলিতে ঢুকে হারিয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত আমাদের
তারুণ্য।”

তরুণ সমাজকে অধঃপতনের হাত থেকে বাঁচাতে ও তরুণদেরকে মানবতার কল্যাণে কাজ করতে উৎসাহী করায় তারুণ্যের সভা’র নানা উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। সংগঠনটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে ভবিষ্যতে সংগঠনটি তরুণ সমাজকে সঠিক পথ দেখাবে এবং আগামীর তরুণদের সামনে উজ্জ্বল অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও সভাপতির শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে তারুণ্যের সভার থিম সং ‘আমরা তরুণ সেনা’ গান পরিবেশন, সংগঠনের পথচলা ও
কার্যক্রম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানজুড়ে “তারুণ্যের অঙ্গীকার, রুখতে হবে অবিচার; তারুণ্যের অগ্রগতি, বাঁচবে সমাজ বাঁচবে জাতি; দিকে দিকে একি শুনি, তারুণ্যের জয়ধ্বনি” ইত্যাদি
স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কচি-কাঁচা ভবন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তারুণ্যের সভার সদস্য ও মাটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর শিল্পীরা সংগীত, কবিতা পরিবেশন করে। এছাড়াও হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা এমামুয্যামান মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম পাঁচজনকে পুরষ্কৃত করা হয়। পরে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

তারুণ্যের সভার নানা আয়োজনে মুখরিত কচি-কাঁচার মেলা

প্রকাশের সময় : ০৯:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুলাই ২০২৪

রাজধানীতে তরুণদের সংগঠন ‘তারুণ্যের সভা’র উদ্যোগে নানা আয়োজনে মুখরিত হয়ে ওঠেছে ঢাকার কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা। শুক্রবার (৫ জুলাই, ২০২৪) বিকেল ৩টায় ‘তারুণ্যের সভা’র আয়োজনে
সেগুনবাগিচাস্থ কচি-কাঁচার মেলায় আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি,পুরষ্কার বিতরণসহ নানা অনুষ্ঠানের। হাজারো তরুণের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসে এসময় ভরে ওঠে কেন্দ্রীয়
কচি-কাঁচা ভবন।

‘উগ্রবাদ মোকাবেলায় তরুণদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তারুণ্যের সভার সভাপতি
আয়েশা ছিদ্দিকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন, হেযবুত তওহীদের উপদেষ্টা খাদিজা খাতুন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মশিউর রহমান, তারুণ্যের সভার উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের সভাপতি ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক উম্মুত তিজান মাখদুমা পন্নী, দৈনিক দেশেরপত্রের সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী, সাহিত্য সম্পাদক কবি রিয়াদুল হাসান, দৈনিক বজ্রশক্তি সম্পাদক এস এম সামসুল হুদা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লেখক ও নাট্যকার ওবায়দুল হক বাদল ও তারুণ্যের সভার সদস্য নওশীন আমিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “তরুণরা জাতির মূল শক্তি। তাই কোনো জাতিকে মেরুদণ্ডহীন ও পদানত করতে তরুণদের উপর প্রথম আঘাত হানা হয়। এই আঘাতের হাতিয়ার হল অপসংস্কৃতি, মাদক, কুশিক্ষা, অপরাজনীতি ইত্যাদি অপশক্তি। ব্রিটিশ যুগে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতবর্ষের উর্বর জমিতে আফিমের চাষ আরম্ভ করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তরুণরা আফিম খেয়ে বুঁদ হয়ে থাকবে। এতে একদিকে তাদের ব্যবসাও হবে আবার তরুণরা কোম্পানির দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার তেজও হারাবে।”

তিনি আরও বলেন, “তারুণ্যকে নিজেদের অনুগত করতে ব্রিটিশরা প্রবর্তন করেছিল ষড়যন্ত্রমূলক দুই ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা। একটি মাদ্রাসা শিক্ষা আরেকটি সাধারণ শিক্ষা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে বের হবে এমন একটি জনগোষ্ঠী যারা আধুনিক পৃথিবীতে অচল, তাদের মধ্যে কোনো জীবনমুখী দক্ষতাই থাকবে না। তারা দেশ জাতি রাষ্ট্র কীভাবে চলে তা নিয়ে মাথা ঘামাবে না। অন্যদিকে তারা সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে সৃষ্টি করল এমন একটি শ্রেণি যাদের কাজ হল উপনিবেশের কেরানিগিরি করা।

তাদের ভিতরে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হল নিজেদের জাতি সম্পর্কে অজ্ঞতাপ্রসূত হীনম্মন্যতা ও ইউরোপীয়দের প্রতি অন্ধভক্তি। কোনো আদর্শ, কোনো দেশপ্রেম, ন্যায়নীতিবোধ তাদের হৃদয়ে স্থাপন করা হল না। ব্রিটিশ শাসন আজ না থাকলেও তাদের শিক্ষা আজও আছে। আমাদের তরুণ সমাজ আজও শিক্ষার দিক থেকে দ্বিধাবিভক্ত।”

হেযবুত তওহীদের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আজকে সবার হাতে স্মার্টফোন, যার নেশা আফিমের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। সেখানে অশ্লীল অপসংস্কৃতির এক অন্ধকার জগৎ। সেখানে জীবনের মূল্যবান সময়কে
নিঃশেষ করে ফেলার অগণিত অলিগলি। সে সব গলিতে ঢুকে হারিয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত আমাদের
তারুণ্য।”

তরুণ সমাজকে অধঃপতনের হাত থেকে বাঁচাতে ও তরুণদেরকে মানবতার কল্যাণে কাজ করতে উৎসাহী করায় তারুণ্যের সভা’র নানা উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। সংগঠনটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে ভবিষ্যতে সংগঠনটি তরুণ সমাজকে সঠিক পথ দেখাবে এবং আগামীর তরুণদের সামনে উজ্জ্বল অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও সভাপতির শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে তারুণ্যের সভার থিম সং ‘আমরা তরুণ সেনা’ গান পরিবেশন, সংগঠনের পথচলা ও
কার্যক্রম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানজুড়ে “তারুণ্যের অঙ্গীকার, রুখতে হবে অবিচার; তারুণ্যের অগ্রগতি, বাঁচবে সমাজ বাঁচবে জাতি; দিকে দিকে একি শুনি, তারুণ্যের জয়ধ্বনি” ইত্যাদি
স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কচি-কাঁচা ভবন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তারুণ্যের সভার সদস্য ও মাটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর শিল্পীরা সংগীত, কবিতা পরিবেশন করে। এছাড়াও হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা এমামুয্যামান মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম পাঁচজনকে পুরষ্কৃত করা হয়। পরে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।