বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মধ্যমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা চলতি মাসের শেষ ভাগে

আষাঢ়ের শেষভাগে এসে ভারত থেকে নেমে আসা উজানী ঢল আর টানা ভারী বৃষ্টিপাতে স্বল্পমেয়াদী বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে হয়ে পড়েছে দেশের অন্তত দশটি জেলা। প্রতিদিন বিস্তৃত হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে থামছে না বারিপাত। এরমধ্যে আবহাওয়া ও পানি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভিঘাতে এবং স্বাভাবিক বর্ষাকালে মৌসুমি বায়ু অতি সক্রিয় থাকায় ভারী বৃষ্টির কারণেই জুলাই মাসের মধ্যভাগের পর দেশে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। হতে পারে মধ্যমেয়াদি বন্যা।

ইতিমধ্যে সক্রিয় হতে যাচ্ছে জোরদার মেঘ-বৃষ্টিপাতের আবহে তৈরি ভয়ংকর ‘লা নিনা’ চক্র। এতে বাড়বে বৃষ্টিপাতের মাত্রা। এতে অন্তত ১৫০ গুণ এমনকি এর চেয়েও অতি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশজুড়ে অতিভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল (রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী), উত্তর মধ্যাঞ্চল (যমুনা নদী-তীরবর্তী এলাকার টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও জামালপুর) এবং উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে (বগুড়া, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলা) বড় ধরনের বন্যা হতে পারে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে চলতি জুলাই মাসে বেশি এবং ভারী বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পানি বাড়তে পারে এবং বিপদসীমার বাইরে গিয়ে জুলাইয়ের মধ্যভাগের দিকে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছি আমরা। ওই সময়ে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে এবং কিছু এলাকায় বিপদসীমার বাইরে যেতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দিতে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চলতি জুলাই মাসে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান জানান, জুলাইয়ে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এছাড়া দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে তিন-চারদিন বিজলিসহ মাঝারি ধরনের বজ্রঝড় হতে পারে। সারাদেশে পাঁচ-ছয়দিন বিজলিসহ হালকা বজ্রঝড় হতে পারে। এ কারণে উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বন্যার পদধ্বনি দেখা দিয়েছে। জুলাই মাসে মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতজনিত কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-মধ্যাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলের কতিপয় স্থানে অল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য অববাহিকার কতিপয় স্থানে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ভারী বৃষ্টি থাকলেও এ মাসে এক থেকে দুটি বিচ্ছিন্নভাবে মৃদু (৩৬-৩৮ ডিগ্রি) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা কিছুটা বেশি থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, প্রকৃতি বদলাচ্ছে। আমাদের অবশ্যই প্রকৃতিকে বুঝতে হবে। বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে বৃষ্টি বেশি হওয়ায় এবং ভারতের মেঘালয় ও আসামে বেশি বৃষ্টি হওয়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের বাসিন্দারা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়াও সিলেট ও সুনামগঞ্জে শহররক্ষা বাঁধ নেই। ফলে বছরে তিন-চার বার এবং প্রতিবছর বন্যা হওয়াটা অস্বাভবিক কিছু না। সেখানে কার্যকর বাঁধ থাকলে বন্যায় মানুষ আক্রান্ত হতো না। আর দেশের বেশিরভাগ এলাকায় মাটি দিয়ে বাঁধ তৈরি করায় অনেক ক্ষেত্রে তা টিকে না।

তিনি বলেন, দেশে জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত যে কোনো সময় বন্যা হতে পারে-যদি উজানে ও মেঘালয়ে বেশি বৃষ্টি হয়। আর তখন উজানের পানি নেমে আসবে। আমাদের বৃষ্টির দেশে যে বৃষ্টি হবে তা নদীতে গড়াবে। ধারণক্ষমতার চেয়ে পানি বেশি হওয়ায় লোকালয় প্লাবিত হবে। কিন্তু সিলেটের বন্যা আর গাইবান্ধার বন্যা কখনই এক হবে না। সিলেটের পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। কিন্তু গাইবান্ধা বা বগুড়ার পানি সহজে নামবে না। বিশেষ করে আমাদের উজানে ভারতের মেঘালয়ে একদিনে ভারী বৃষ্টির ঘটনা ঘটলেই বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কারণ আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীব্যবস্থা এত স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ পানি পরিবহন করতে পারে না।

দেশে বারবার বন্যার কারণ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের ড. অধ্যাপক একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে, নিষ্কাশন ব্যবস্থাজনিত এবং সমুদ্র-তীরবর্তী অঞ্চলে ঝড়-সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসজনিত কারণে বন্যা হতে পারে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে আবহাওয়া-জলবায়ু বা বৃষ্টির ধরন বদলে গেছে। খরা হলে প্রবল খরা, আবার বৃষ্টি হলে অতি বৃষ্টি—এ নিয়ে প্রকৃতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। আবার এখন বৃষ্টি হলে অনেক বেশি গভীর বৃষ্টি হয়। উজান থেকে নেমে আসা অতিবৃষ্টির পানি ধরে রাখতে ও পরিবহন করতে হাওর ও নদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ক্রমাগত অপরিকল্পিত উন্নয়নসহ নদী-হাওর ও বিল দখল ও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নদীর নাব্য সংকট, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, জমি ভরাট ও পূর্ব-পশ্চিমে আড়াআড়ি মহাসড়কই পানিপ্রবাহে মূল বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে অতিবৃষ্টিতে চরম জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তাই বন্যার নতুন ধরনের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নদী খনন ছাড়াও জলাভূমি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সমন্বিত ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা করে বাঁধ নির্মাণ করতে হবে, নইলে প্রতি বছরই বন্যা হবে।

আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা সাউথ এশিয়া ক্লাইমেট আউটলুকের বরাত দিয়ে দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, চলতি বছর বর্ষা মৌসুমে আবহাওয়ার বিশেষ অবস্থা ‘লা নিনা’র কারণে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হবে। সুত্র: ইওেফাক

মধ্যমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা চলতি মাসের শেষ ভাগে

প্রকাশের সময় : ০৪:০৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুলাই ২০২৪

আষাঢ়ের শেষভাগে এসে ভারত থেকে নেমে আসা উজানী ঢল আর টানা ভারী বৃষ্টিপাতে স্বল্পমেয়াদী বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে হয়ে পড়েছে দেশের অন্তত দশটি জেলা। প্রতিদিন বিস্তৃত হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে থামছে না বারিপাত। এরমধ্যে আবহাওয়া ও পানি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভিঘাতে এবং স্বাভাবিক বর্ষাকালে মৌসুমি বায়ু অতি সক্রিয় থাকায় ভারী বৃষ্টির কারণেই জুলাই মাসের মধ্যভাগের পর দেশে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। হতে পারে মধ্যমেয়াদি বন্যা।

ইতিমধ্যে সক্রিয় হতে যাচ্ছে জোরদার মেঘ-বৃষ্টিপাতের আবহে তৈরি ভয়ংকর ‘লা নিনা’ চক্র। এতে বাড়বে বৃষ্টিপাতের মাত্রা। এতে অন্তত ১৫০ গুণ এমনকি এর চেয়েও অতি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশজুড়ে অতিভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল (রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী), উত্তর মধ্যাঞ্চল (যমুনা নদী-তীরবর্তী এলাকার টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও জামালপুর) এবং উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে (বগুড়া, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলা) বড় ধরনের বন্যা হতে পারে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে চলতি জুলাই মাসে বেশি এবং ভারী বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পানি বাড়তে পারে এবং বিপদসীমার বাইরে গিয়ে জুলাইয়ের মধ্যভাগের দিকে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছি আমরা। ওই সময়ে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে এবং কিছু এলাকায় বিপদসীমার বাইরে যেতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দিতে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চলতি জুলাই মাসে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান জানান, জুলাইয়ে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এছাড়া দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে তিন-চারদিন বিজলিসহ মাঝারি ধরনের বজ্রঝড় হতে পারে। সারাদেশে পাঁচ-ছয়দিন বিজলিসহ হালকা বজ্রঝড় হতে পারে। এ কারণে উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বন্যার পদধ্বনি দেখা দিয়েছে। জুলাই মাসে মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতজনিত কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-মধ্যাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলের কতিপয় স্থানে অল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য অববাহিকার কতিপয় স্থানে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ভারী বৃষ্টি থাকলেও এ মাসে এক থেকে দুটি বিচ্ছিন্নভাবে মৃদু (৩৬-৩৮ ডিগ্রি) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা কিছুটা বেশি থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, প্রকৃতি বদলাচ্ছে। আমাদের অবশ্যই প্রকৃতিকে বুঝতে হবে। বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে বৃষ্টি বেশি হওয়ায় এবং ভারতের মেঘালয় ও আসামে বেশি বৃষ্টি হওয়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের বাসিন্দারা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়াও সিলেট ও সুনামগঞ্জে শহররক্ষা বাঁধ নেই। ফলে বছরে তিন-চার বার এবং প্রতিবছর বন্যা হওয়াটা অস্বাভবিক কিছু না। সেখানে কার্যকর বাঁধ থাকলে বন্যায় মানুষ আক্রান্ত হতো না। আর দেশের বেশিরভাগ এলাকায় মাটি দিয়ে বাঁধ তৈরি করায় অনেক ক্ষেত্রে তা টিকে না।

তিনি বলেন, দেশে জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত যে কোনো সময় বন্যা হতে পারে-যদি উজানে ও মেঘালয়ে বেশি বৃষ্টি হয়। আর তখন উজানের পানি নেমে আসবে। আমাদের বৃষ্টির দেশে যে বৃষ্টি হবে তা নদীতে গড়াবে। ধারণক্ষমতার চেয়ে পানি বেশি হওয়ায় লোকালয় প্লাবিত হবে। কিন্তু সিলেটের বন্যা আর গাইবান্ধার বন্যা কখনই এক হবে না। সিলেটের পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। কিন্তু গাইবান্ধা বা বগুড়ার পানি সহজে নামবে না। বিশেষ করে আমাদের উজানে ভারতের মেঘালয়ে একদিনে ভারী বৃষ্টির ঘটনা ঘটলেই বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কারণ আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীব্যবস্থা এত স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ পানি পরিবহন করতে পারে না।

দেশে বারবার বন্যার কারণ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের ড. অধ্যাপক একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে, নিষ্কাশন ব্যবস্থাজনিত এবং সমুদ্র-তীরবর্তী অঞ্চলে ঝড়-সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসজনিত কারণে বন্যা হতে পারে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে আবহাওয়া-জলবায়ু বা বৃষ্টির ধরন বদলে গেছে। খরা হলে প্রবল খরা, আবার বৃষ্টি হলে অতি বৃষ্টি—এ নিয়ে প্রকৃতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। আবার এখন বৃষ্টি হলে অনেক বেশি গভীর বৃষ্টি হয়। উজান থেকে নেমে আসা অতিবৃষ্টির পানি ধরে রাখতে ও পরিবহন করতে হাওর ও নদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ক্রমাগত অপরিকল্পিত উন্নয়নসহ নদী-হাওর ও বিল দখল ও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নদীর নাব্য সংকট, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, জমি ভরাট ও পূর্ব-পশ্চিমে আড়াআড়ি মহাসড়কই পানিপ্রবাহে মূল বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে অতিবৃষ্টিতে চরম জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তাই বন্যার নতুন ধরনের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নদী খনন ছাড়াও জলাভূমি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সমন্বিত ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা করে বাঁধ নির্মাণ করতে হবে, নইলে প্রতি বছরই বন্যা হবে।

আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা সাউথ এশিয়া ক্লাইমেট আউটলুকের বরাত দিয়ে দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, চলতি বছর বর্ষা মৌসুমে আবহাওয়ার বিশেষ অবস্থা ‘লা নিনা’র কারণে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হবে। সুত্র: ইওেফাক