বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চুল-দাড়ির স্টাইল কেয়ার করবেন কিভাবে

চুল-দাড়ি: স্টাইল ও কেয়ার

কেবল স্টাইলিস্ট হেয়ার কাট ও বা ট্রেন্ডি বিয়ার্ড রাখলেই হল না, সঠিক যত্নের উপায়ও জানা চাই। জিম করা পেশীবহুল শরীর‌ হোক বা নতুন‌ পোশাকের বাহার, ফ্যাশনিস্তা হয়ে উঠতে কোনও অংশেই পিছিয়ে নেই ছেলেরা। বাস্তব জীবনে পরিপাটি লুক, সঙ্গে সোশ্যাশ মিডিয়াতেও রমরমা পরিচিতি— দু’দিকেই বহাল সমান ক্রেজ়। সেই তালিকায় যোগ হয়েছে হেয়ার ও বিয়ার্ড কেয়ার। আমজনতা থেকে সেলেব্রিটি, বড় দাড়ি রাখা এখন ভীষণ ট্রেন্ডি। চুলের পাশাপাশি দাড়িতেও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন কালার-স্ট্রোক বা হইলাইটার। এসেছে সার্কেল বিয়ার্ড, ইউ-শেপড বিয়ার্ড, হর্স-সু বিয়ার্ড, অ্যাঙ্কর বিয়ার্ড, ফ্রেঞ্চ ফর্ক বিয়ার্ডের মতো দাড়ির একাধিক ধরনও। সঙ্গে চুলের নানা রকম স্টাইল। বাজ় কাট, ফক্স হক, আন্ডার কাট বা মর্ডান মালেট— হেয়ার স্টাইলে বাজিমাত করছে হাল ফ্যাশনের ট্রেন্ড। সব মিলিয়ে চুল ও দাড়ির প্রতি অবসেশন বাড়ছেই, বলা যায়। তবে, ট্রেন্ড-সেটার হতে গেলে খেয়াল রাখতে হবে সাম্প্রতিক স্টাইল স্টেটমেন্টে। ২০২৪-এ দাঁড়িয়ে কোন ধরনটা বেশি চলছে, উষ্ম আবহাওয়ায় কোন কাট স্বাস্থ্যকর, কোনটাই বা আপনার জন্য উপযুক্ত, ঝালিয়ে নিন এক নজরে…

১. টেক্সটচারড ক্রপ: তীব্র গরমে ছোট চুল যেমন স্বস্তির তেমনই ট্রেন্ডি। টেক্সচারড কাটে মাথার দু’পাশে চুলের পরিমাণ কম থাকে। ফরম্যাল বা ইনফরম্যাল, যে কোনও পোশাকেই মানানসই।

২. ফেড হেয়ারকাট: টিনএজার ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফেড কাট খুবই জনপ্রিয়। হাই ফেড থেকে লো, সবধরনের চুলের ধরনই রয়েছে ছেলেদের পছন্দের তালিকায়। ফেড কাটে আপনাকে দেখাবে পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয়।

৩. আন্ডারকাট: সামনের দিকের চুলের লেংথ কিছুটা বড়, তুলনায় মাথার পিছনের চুল ছোট। বস্তুত, পিছনের দিকের চুল ট্রিম করা হয়। এতে একদিকে যেমন বজায় থাকবে আপনার স্টাইল স্টেটমেন্ট, পাশাপাশি গরমে থাকবেন ফুরফুরে।

৪. স্বাভাবিক টেক্সচার: চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এমনিতেই আপনার একটা ন্যাচারাল লুক তৈরি করে দেয়। সেখানে প্রতি মাসেই চুলের কাট ও পরিচর্যা করলে নিজস্ব স্টাইল তৈরি হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে চুল স্ট্রেট হোক বা কোঁকড়ানো, মামানসই থাকবে সবটাই।

৫. দাড়ির ক্ষেত্রে: গোঁফ ও দাড়ির প্রতি অনেকেই বেশ যত্নশীল। গরমে নিয়মিত পরিচর্যা না করলে আকারের বিকৃতি তো ঘটবেই, সঙ্গে হতে পারে ত্বকের সমস্যাও। ইদানীং ট্রিমড কাট, কর্পোরেট বিয়ার্ড বা লুম্বারজ্যাক বিয়ার্ড কাট বেশ জনপ্রিয় এবং গরমের জন্য আদর্শ।

    চুল ও দাড়ির যত্নে…

১. নিজেকে হাইড্রেটেড রাখুন। গরমের মরসুমে জল কম খাওয়া ও অতিরিক্ত প্রস্বেদনের কারণে দেহ থেকে জলের পরিমাণ কমে যাওয়ায় অজান্তেই দেহ থেকে জলের ভাগ কমে যায়। তাই চুল ও হেয়ার গ্রোথ সঠিক রাখতে নিয়মিত জল খান। দিনে ৩ লিটার জল অন্তত, প্রয়োজনে ৪-৫ লিটার জলও চলতে পারে। দেখা গিয়েছে, দেহে জলের পরিমাণ বেশি থাকলে হেয়ার গ্রোথ প্রায় ১.৫ গুণ বাড়ে।

২. শুধু পরিচর্যাই নয়, চরম আবহাওয়ায় চুলের প্রয়োজন স্বাস্থ্যসম্মত রক্ষাকবচ। বিশেষ করে, অতিরিক্ত ইউভি রশ্মি চুলের প্রোটিনকে নষ্ট করে দেয়। ফলে চুল গোড়া থেকে ভেঙে যেতে থাকে। বাইরে বেরোলে টুপি বা ইউভি প্রোটেকটেড হেয়ার ক্রিম ব্যবহার করুন। এতে চুলের শুকিয়ে যাওয়াও আটকানো সম্ভব।

৩. সপ্তাহে কত দিন শ্যাম্পু করবেন, কন্ডিশনার করার ক্ষেত্রেই বা কী কী মাথায় রাখবেন, এই নিয়ে রয়েছে নানা মুনির নানা মত। তবে একটা বিজ্ঞানসম্মত পন্থা মেনে চলা উচিত। গরমে ঘামের পরিমাণ বেড়ে যায়, ফলে ধুলো, ময়লা জমে স্ক্যাল্পে ফাংগাল ইনফেকশনের আশঙ্কা থাকে। এই সময়ে সম্ভব হলে প্রতিদিনই শ্যাম্পু করুন। খুব বেশি ক্ষারীয় শ্যাম্পু ব্যবহার না করাই ভাল। মাইল্ড কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। তবে, শ্যাম্পু করে চুল সম্পূর্ণ না শুকিয়ে রোদে বের হবেন না। এতে, চুলের আর্দ্রতা নষ্ট হয়।

৪. হেয়ার গ্রোথের অন্যতম শর্ত হল ময়শ্চারাইজ়িং। স্নানের পর তোয়ালে দিয়ে হালকা স্পঞ্জ করে চুল ও দাড়িতে ময়শ্চারাইজ়ার লাগান। মনে রাখবেন, একদম শুষ্ক অবস্থায় ময়শ্চারাইজ়ার অপেক্ষাকৃত কম কার্যকর। দিনে দু’বার ব্যবহার করুন তবে অবশ্যই আপনার ত্বকের পি এইচ ভ্যালু অনুযায়ী। সাধারণত, চুলের পিএইচ ভ্যালু ৪.৫ থেকে ৫.৫-এর মধ্যে থাকে। চেষ্টা করুন এই পিএইচ মাত্রার মধ্যেই ময়শ্চারাইজার ব্যবহারের।

৫. কোঁকড়ানো দাড়ি ট্রিম করুন। মোটামুটি তিন থেকে চার সপ্তাহ পর পর দাড়ি রি-শেপ করুন। কারণ অবিন্যস্ত দাড়ির বৃদ্ধি আপনার সামগ্রিক হেয়ার গ্রোথে বাধা দেয়। সবসময় সেলুনে না গিয়ে বাড়িতেও ট্রিম করতে পারেন।

৬. দাড়ি বাড়তে শুরু করলেই ড্যানড্রফের সমস্যা দেখা দেয়। তাছাড়া আর্দ্র আবহাওয়ায় দাড়িতে ঘাম জমে ফাংগাল সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেবরিয়্যাক ডার্মাটাইটিস (Seborrheic Dermatitis) এই সমস্যার অন্যতম কারণ। আপনার স্কিন অনুযায়ী কিটোকোনাজ়ল (ketoconazole) যুক্ত বিয়ার্ড শ্যাম্পু ও বিয়ার্ড ওয়াশ বাছুন। এটি একটি অ্যান্টি ফাংগাল পিগমেন্ট হিসেবে কাজ করে যা আপনার বর্ধিত দাড়িকে ড্যানড্রফ ও ফাংগাল প্রবলেম থেকে রক্ষা করে। সুত্র: সানন্দা।

চুল-দাড়ির স্টাইল কেয়ার করবেন কিভাবে

প্রকাশের সময় : ০৯:১৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪

চুল-দাড়ি: স্টাইল ও কেয়ার

কেবল স্টাইলিস্ট হেয়ার কাট ও বা ট্রেন্ডি বিয়ার্ড রাখলেই হল না, সঠিক যত্নের উপায়ও জানা চাই। জিম করা পেশীবহুল শরীর‌ হোক বা নতুন‌ পোশাকের বাহার, ফ্যাশনিস্তা হয়ে উঠতে কোনও অংশেই পিছিয়ে নেই ছেলেরা। বাস্তব জীবনে পরিপাটি লুক, সঙ্গে সোশ্যাশ মিডিয়াতেও রমরমা পরিচিতি— দু’দিকেই বহাল সমান ক্রেজ়। সেই তালিকায় যোগ হয়েছে হেয়ার ও বিয়ার্ড কেয়ার। আমজনতা থেকে সেলেব্রিটি, বড় দাড়ি রাখা এখন ভীষণ ট্রেন্ডি। চুলের পাশাপাশি দাড়িতেও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন কালার-স্ট্রোক বা হইলাইটার। এসেছে সার্কেল বিয়ার্ড, ইউ-শেপড বিয়ার্ড, হর্স-সু বিয়ার্ড, অ্যাঙ্কর বিয়ার্ড, ফ্রেঞ্চ ফর্ক বিয়ার্ডের মতো দাড়ির একাধিক ধরনও। সঙ্গে চুলের নানা রকম স্টাইল। বাজ় কাট, ফক্স হক, আন্ডার কাট বা মর্ডান মালেট— হেয়ার স্টাইলে বাজিমাত করছে হাল ফ্যাশনের ট্রেন্ড। সব মিলিয়ে চুল ও দাড়ির প্রতি অবসেশন বাড়ছেই, বলা যায়। তবে, ট্রেন্ড-সেটার হতে গেলে খেয়াল রাখতে হবে সাম্প্রতিক স্টাইল স্টেটমেন্টে। ২০২৪-এ দাঁড়িয়ে কোন ধরনটা বেশি চলছে, উষ্ম আবহাওয়ায় কোন কাট স্বাস্থ্যকর, কোনটাই বা আপনার জন্য উপযুক্ত, ঝালিয়ে নিন এক নজরে…

১. টেক্সটচারড ক্রপ: তীব্র গরমে ছোট চুল যেমন স্বস্তির তেমনই ট্রেন্ডি। টেক্সচারড কাটে মাথার দু’পাশে চুলের পরিমাণ কম থাকে। ফরম্যাল বা ইনফরম্যাল, যে কোনও পোশাকেই মানানসই।

২. ফেড হেয়ারকাট: টিনএজার ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফেড কাট খুবই জনপ্রিয়। হাই ফেড থেকে লো, সবধরনের চুলের ধরনই রয়েছে ছেলেদের পছন্দের তালিকায়। ফেড কাটে আপনাকে দেখাবে পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয়।

৩. আন্ডারকাট: সামনের দিকের চুলের লেংথ কিছুটা বড়, তুলনায় মাথার পিছনের চুল ছোট। বস্তুত, পিছনের দিকের চুল ট্রিম করা হয়। এতে একদিকে যেমন বজায় থাকবে আপনার স্টাইল স্টেটমেন্ট, পাশাপাশি গরমে থাকবেন ফুরফুরে।

৪. স্বাভাবিক টেক্সচার: চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এমনিতেই আপনার একটা ন্যাচারাল লুক তৈরি করে দেয়। সেখানে প্রতি মাসেই চুলের কাট ও পরিচর্যা করলে নিজস্ব স্টাইল তৈরি হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে চুল স্ট্রেট হোক বা কোঁকড়ানো, মামানসই থাকবে সবটাই।

৫. দাড়ির ক্ষেত্রে: গোঁফ ও দাড়ির প্রতি অনেকেই বেশ যত্নশীল। গরমে নিয়মিত পরিচর্যা না করলে আকারের বিকৃতি তো ঘটবেই, সঙ্গে হতে পারে ত্বকের সমস্যাও। ইদানীং ট্রিমড কাট, কর্পোরেট বিয়ার্ড বা লুম্বারজ্যাক বিয়ার্ড কাট বেশ জনপ্রিয় এবং গরমের জন্য আদর্শ।

    চুল ও দাড়ির যত্নে…

১. নিজেকে হাইড্রেটেড রাখুন। গরমের মরসুমে জল কম খাওয়া ও অতিরিক্ত প্রস্বেদনের কারণে দেহ থেকে জলের পরিমাণ কমে যাওয়ায় অজান্তেই দেহ থেকে জলের ভাগ কমে যায়। তাই চুল ও হেয়ার গ্রোথ সঠিক রাখতে নিয়মিত জল খান। দিনে ৩ লিটার জল অন্তত, প্রয়োজনে ৪-৫ লিটার জলও চলতে পারে। দেখা গিয়েছে, দেহে জলের পরিমাণ বেশি থাকলে হেয়ার গ্রোথ প্রায় ১.৫ গুণ বাড়ে।

২. শুধু পরিচর্যাই নয়, চরম আবহাওয়ায় চুলের প্রয়োজন স্বাস্থ্যসম্মত রক্ষাকবচ। বিশেষ করে, অতিরিক্ত ইউভি রশ্মি চুলের প্রোটিনকে নষ্ট করে দেয়। ফলে চুল গোড়া থেকে ভেঙে যেতে থাকে। বাইরে বেরোলে টুপি বা ইউভি প্রোটেকটেড হেয়ার ক্রিম ব্যবহার করুন। এতে চুলের শুকিয়ে যাওয়াও আটকানো সম্ভব।

৩. সপ্তাহে কত দিন শ্যাম্পু করবেন, কন্ডিশনার করার ক্ষেত্রেই বা কী কী মাথায় রাখবেন, এই নিয়ে রয়েছে নানা মুনির নানা মত। তবে একটা বিজ্ঞানসম্মত পন্থা মেনে চলা উচিত। গরমে ঘামের পরিমাণ বেড়ে যায়, ফলে ধুলো, ময়লা জমে স্ক্যাল্পে ফাংগাল ইনফেকশনের আশঙ্কা থাকে। এই সময়ে সম্ভব হলে প্রতিদিনই শ্যাম্পু করুন। খুব বেশি ক্ষারীয় শ্যাম্পু ব্যবহার না করাই ভাল। মাইল্ড কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। তবে, শ্যাম্পু করে চুল সম্পূর্ণ না শুকিয়ে রোদে বের হবেন না। এতে, চুলের আর্দ্রতা নষ্ট হয়।

৪. হেয়ার গ্রোথের অন্যতম শর্ত হল ময়শ্চারাইজ়িং। স্নানের পর তোয়ালে দিয়ে হালকা স্পঞ্জ করে চুল ও দাড়িতে ময়শ্চারাইজ়ার লাগান। মনে রাখবেন, একদম শুষ্ক অবস্থায় ময়শ্চারাইজ়ার অপেক্ষাকৃত কম কার্যকর। দিনে দু’বার ব্যবহার করুন তবে অবশ্যই আপনার ত্বকের পি এইচ ভ্যালু অনুযায়ী। সাধারণত, চুলের পিএইচ ভ্যালু ৪.৫ থেকে ৫.৫-এর মধ্যে থাকে। চেষ্টা করুন এই পিএইচ মাত্রার মধ্যেই ময়শ্চারাইজার ব্যবহারের।

৫. কোঁকড়ানো দাড়ি ট্রিম করুন। মোটামুটি তিন থেকে চার সপ্তাহ পর পর দাড়ি রি-শেপ করুন। কারণ অবিন্যস্ত দাড়ির বৃদ্ধি আপনার সামগ্রিক হেয়ার গ্রোথে বাধা দেয়। সবসময় সেলুনে না গিয়ে বাড়িতেও ট্রিম করতে পারেন।

৬. দাড়ি বাড়তে শুরু করলেই ড্যানড্রফের সমস্যা দেখা দেয়। তাছাড়া আর্দ্র আবহাওয়ায় দাড়িতে ঘাম জমে ফাংগাল সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেবরিয়্যাক ডার্মাটাইটিস (Seborrheic Dermatitis) এই সমস্যার অন্যতম কারণ। আপনার স্কিন অনুযায়ী কিটোকোনাজ়ল (ketoconazole) যুক্ত বিয়ার্ড শ্যাম্পু ও বিয়ার্ড ওয়াশ বাছুন। এটি একটি অ্যান্টি ফাংগাল পিগমেন্ট হিসেবে কাজ করে যা আপনার বর্ধিত দাড়িকে ড্যানড্রফ ও ফাংগাল প্রবলেম থেকে রক্ষা করে। সুত্র: সানন্দা।