বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আজও সারাদেশে শিক্ষার্থীদের ‘বাংলা ব্লকেড’

ছবি-সংগৃহীত

কোটাবিরোধী আন্দোলনে ঘোষিত এক দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ বুধবার (১০ জুলাই) সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’।

গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের চলমান বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১০ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদেশে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করা হবে। রেলপথ ও সড়কপথ এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, এই আন্দোলন কিন্তু শিক্ষার্থীরা নিজেরাই তৈরি করেনি। হাইকোর্টের রায় ও সরকারের নিশ্চুপ ভূমিকার প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলন। আমাদের আন্দোলনের ফলে জনগণের যে ভোগান্তি হচ্ছে, তার দায় সরকারকে নিতে হবে। কারণ আমরা এতদিন ধরে আন্দোলন করছি কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার বা নির্বাহী বিভাগ থেকে কোনো আলোচনার ডাক বা আশ্বাস পাইনি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমরা এমন একটা চূড়ান্ত সমাধান চাচ্ছি, যাতে করে ভবিষ্যতে কোটা নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি না হয়। সেজন্য আমরা অনগ্রসর জাতির কথা বিবেচনায় রেখে সংসদে আইন পাস করার মাধ্যমে কোটার যৌক্তিক সংস্কার দাবি করছি।

আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলো তীব্র যানজটের কবলে পড়তে পারে।

এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় যেসব এলাকায় ব্লকেড হতে পারে সেগুলো হলো-

১। শাহবাগ

২। কারওয়ানবাজার

৩। ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়

৪। ফার্মগেট

৪। চানখারপুল মোড়

৫। চানখারপুল ফ্লাইওভারে উঠার মোড়

৬। বঙ্গবাজার

৭। শিক্ষা চত্বর

৮। মৎস্য ভবন

৯। জিপিও

১০। গুলিস্তান

১১। সায়েন্সল্যাব

১২। নীলক্ষেত

১৩। রামপুরা ব্রিজ

১৪। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক

১৫। মহাখালী

১৬। বাংলামোটর

১৭। পল্টন মোড়

১৮। সচিবালয়

অন্যদিকে, ঢাকার বাইরে যেসব এলাকায় ব্লকেড হতে পারে সেগুলো হলো-

১। রাজশাহী (জিরো পয়েন্ট, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, রেলগেট, স্টেশনবাজার)

২। সিলেট-সুনামগঞ্জ রোড (সাস্ট)

৩। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়)

৪। বটতলা চত্বর (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)

৫। ময়মনসিংহ (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়)

৬। রংপুর মডার্ন মোড় (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়)

৭। দেওয়ান হাট (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজসমূহ)

৮। খুলনা, নতুন রাস্তা, দৌলতপুর (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা আঞ্চলিক কেন্দ্র)

৯। গাজীপুর (আওয়ালে বদরে আলম সরকারি কলেজ, গাজীপুর )

১০। নোয়াখালী প্রেসক্লাব (নোয়াখালী জেলার শিক্ষার্থীবৃন্দ)

১১। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সামনে

১২। ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক (পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সরকার। পরে ২০২১ সালে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে এর বিরুদ্ধে রিট করেন। গত ৫ জুন হাইকোর্টের এক রায়ের মাধ্যমে আবারও ফিরে আসে কোটা ব্যবস্থা।

এরপর গত ১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনে নামে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার রাজধানীর শাহবাগ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী রোববার ও সোমবার টানা দু’দিন বিকেলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ এলাকা থেকে এ কর্মসূচি পালন করেন।

আজও সারাদেশে শিক্ষার্থীদের ‘বাংলা ব্লকেড’

প্রকাশের সময় : ০৯:৪১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

কোটাবিরোধী আন্দোলনে ঘোষিত এক দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ বুধবার (১০ জুলাই) সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’।

গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের চলমান বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১০ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদেশে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করা হবে। রেলপথ ও সড়কপথ এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, এই আন্দোলন কিন্তু শিক্ষার্থীরা নিজেরাই তৈরি করেনি। হাইকোর্টের রায় ও সরকারের নিশ্চুপ ভূমিকার প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলন। আমাদের আন্দোলনের ফলে জনগণের যে ভোগান্তি হচ্ছে, তার দায় সরকারকে নিতে হবে। কারণ আমরা এতদিন ধরে আন্দোলন করছি কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার বা নির্বাহী বিভাগ থেকে কোনো আলোচনার ডাক বা আশ্বাস পাইনি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমরা এমন একটা চূড়ান্ত সমাধান চাচ্ছি, যাতে করে ভবিষ্যতে কোটা নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি না হয়। সেজন্য আমরা অনগ্রসর জাতির কথা বিবেচনায় রেখে সংসদে আইন পাস করার মাধ্যমে কোটার যৌক্তিক সংস্কার দাবি করছি।

আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলো তীব্র যানজটের কবলে পড়তে পারে।

এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় যেসব এলাকায় ব্লকেড হতে পারে সেগুলো হলো-

১। শাহবাগ

২। কারওয়ানবাজার

৩। ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়

৪। ফার্মগেট

৪। চানখারপুল মোড়

৫। চানখারপুল ফ্লাইওভারে উঠার মোড়

৬। বঙ্গবাজার

৭। শিক্ষা চত্বর

৮। মৎস্য ভবন

৯। জিপিও

১০। গুলিস্তান

১১। সায়েন্সল্যাব

১২। নীলক্ষেত

১৩। রামপুরা ব্রিজ

১৪। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক

১৫। মহাখালী

১৬। বাংলামোটর

১৭। পল্টন মোড়

১৮। সচিবালয়

অন্যদিকে, ঢাকার বাইরে যেসব এলাকায় ব্লকেড হতে পারে সেগুলো হলো-

১। রাজশাহী (জিরো পয়েন্ট, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, রেলগেট, স্টেশনবাজার)

২। সিলেট-সুনামগঞ্জ রোড (সাস্ট)

৩। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়)

৪। বটতলা চত্বর (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)

৫। ময়মনসিংহ (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়)

৬। রংপুর মডার্ন মোড় (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়)

৭। দেওয়ান হাট (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজসমূহ)

৮। খুলনা, নতুন রাস্তা, দৌলতপুর (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা আঞ্চলিক কেন্দ্র)

৯। গাজীপুর (আওয়ালে বদরে আলম সরকারি কলেজ, গাজীপুর )

১০। নোয়াখালী প্রেসক্লাব (নোয়াখালী জেলার শিক্ষার্থীবৃন্দ)

১১। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সামনে

১২। ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক (পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সরকার। পরে ২০২১ সালে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে এর বিরুদ্ধে রিট করেন। গত ৫ জুন হাইকোর্টের এক রায়ের মাধ্যমে আবারও ফিরে আসে কোটা ব্যবস্থা।

এরপর গত ১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনে নামে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার রাজধানীর শাহবাগ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী রোববার ও সোমবার টানা দু’দিন বিকেলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ এলাকা থেকে এ কর্মসূচি পালন করেন।