বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কি করবেন?

ছবি-সংগৃহীত

যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে তাদের অনেক সতর্ক থাকতে হয়। হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে রক্ত প্রবাহের চাপ বেশি থাকলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই-ব্লাড প্রেশার বলা হয়। উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেইলিওরের মতো অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ কারণে হঠাৎ করে রক্তচাপ বেড়ে গেলে বিপদের ঝুঁকি থাকে। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের চিকিৎসক ও ‘সহায় হেলথ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডা. তাসনিম জারা একটি ভিডিওতে জানিয়েছেন, কেন রক্তচাপ বাড়ে এবং বেড়ে গেলে করণীয় সম্পর্কে।

কেন বেড়ে যায় রক্তচাপ

১. উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা না হওয়া কিংবা অপর্যাপ্ত চিকিৎসা হওয়া রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। অনেক সময় রোগী নিজেই জানে না যে তার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। নিয়মিত রক্তচাপ না মাপার কারণে অনেকেরই জানা থাকে না তারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। এতে চিকিৎসা নেয়া হয় না, এমনকি রোগী না জানার কারণে তার জীবনযাপন পদ্ধতিও পরিবর্তন করেন না। ফলে যেকোনো সময় রক্তচাপ অনেক বেড়ে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি তৈরি হয়।

২. অনেকে চিকিৎসকের কথা না মেনে ওষুধ সেবন করেন। যেমন ডাক্তার দুটো ওষুধ দিলেও কেউ কেউ একটি খেয়ে থাকে। কিংবা নিয়ম না মেনে রাতের ওষুধ সকালে খায়। এতে হুট করে বেড়ে যেতে পারে রক্তচাপ। রক্তচাপের ওষুধ নিয়মিত খেতে হয়। কিন্তু যেহেতু জ্বর বা মাথা ব্যথার মতো লক্ষণ থাকে না, তাই অনেকেই ভুলে যান ওষুধ খেতে। এতেও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৩. উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়াও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। অনেকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তচাপের ওষুধ খাওয়া শুরু করলেও একটু সুস্থ বোধ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বন্ধ করে দেন ওষুধ। এতে নীরবে রক্তচাপ শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে থাকে। যেমন, রক্তচাপের কারণে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতি একদিন হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে।

৪. মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের কারণে বাড়তে পারে ব্লাড প্রেসার।

৫. উচ্চ রক্তচাপ থেকে সৃষ্ট কিডনি বা থাইরয়েডের রোগের কারণে হুট করে ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়।

৬. নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ যেমন স্টেরয়েড, ভেষজ ওষুধ, ব্যথানাশক বা আইবুপ্রোফেন ধরনের ওষুধ খেলেও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

হঠাৎ ব্লাড প্রেসার বেড়ে গেলে করণীয়

প্রেসার মাপার পর যদি দেখেন অনেক বেশি হয়েছে, তাহলে শুরুতেই ঘাবড়ে যাবেন না। প্রথমে শান্ত হয়ে বসুন। ৫ মিনিট পর আবার প্রেসার মাপুন। দ্বিতীয়বার মাপার পরও যদি বেশি আসে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। যদি উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আর কোনো লক্ষণ না থাকে তবে একটু ভেবে দেখুন কেন হঠাৎ প্রেসার বেড়েছে। ওষুধ মিস হয়েছে নাকি অন্যকিছু। তবে যাই হোক, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

যদি ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য লক্ষণ যেমন মাথা ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, বমি বা বমিভাব, আবোলতাবোল বকা, ভুলে যাওয়া, ঝিমিয়ে পড়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হাত পা অবশ হয়ে যাওয়া, মুখের কথা আটকে যাওয়া, অস্থির লাগা, বুকে, ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, পেটে বা পিঠে ব্যথা বা খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে নিজে নিজে ওষুধ খেয়ে প্রেসার কমানোর চেষ্টা করবেন না। এতে অনেক সময় হিতে বিপরীত হতে পারে। যেমন স্ট্রোক হলে অনেক সময় তাৎক্ষণিক ব্লাড প্রেসার কমানো হয় না। কারণ, এতে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল আরও কমে যেতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে খুব দ্রুত কমাতে হয় রক্তচাপ, যেমন রক্তনালী ছিঁড়ে গেলে। সে ক্ষেত্রে শিরায় ইনজেকশন দিয়ে ব্লাড প্রেসার কমানো হয়, মুখে ওষুধ দেয়া হয় না। তাই এমন অবস্থায় দ্রুততম উপায়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চলে যেতে হবে চিকিৎসার জন্য।

তেঁতুল খাওয়ার সঙ্গে প্রেসার কমার সম্পর্ক:

অনেকে মনে করেন তেঁতুল খেলে দ্রুত রক্তচাপ কমে যায়। তবে এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। যদিও দীর্ঘমেয়াদে তেঁতুল খেলে উপকার রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের প্রতিদিন ৪/৫টা করে ফল খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কারণ, ফলে তুলনামূলক বেশি পটাশিয়াম থাকে। আর পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কি করবেন?

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে তাদের অনেক সতর্ক থাকতে হয়। হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে রক্ত প্রবাহের চাপ বেশি থাকলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই-ব্লাড প্রেশার বলা হয়। উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেইলিওরের মতো অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ কারণে হঠাৎ করে রক্তচাপ বেড়ে গেলে বিপদের ঝুঁকি থাকে। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের চিকিৎসক ও ‘সহায় হেলথ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডা. তাসনিম জারা একটি ভিডিওতে জানিয়েছেন, কেন রক্তচাপ বাড়ে এবং বেড়ে গেলে করণীয় সম্পর্কে।

কেন বেড়ে যায় রক্তচাপ

১. উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা না হওয়া কিংবা অপর্যাপ্ত চিকিৎসা হওয়া রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। অনেক সময় রোগী নিজেই জানে না যে তার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। নিয়মিত রক্তচাপ না মাপার কারণে অনেকেরই জানা থাকে না তারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। এতে চিকিৎসা নেয়া হয় না, এমনকি রোগী না জানার কারণে তার জীবনযাপন পদ্ধতিও পরিবর্তন করেন না। ফলে যেকোনো সময় রক্তচাপ অনেক বেড়ে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি তৈরি হয়।

২. অনেকে চিকিৎসকের কথা না মেনে ওষুধ সেবন করেন। যেমন ডাক্তার দুটো ওষুধ দিলেও কেউ কেউ একটি খেয়ে থাকে। কিংবা নিয়ম না মেনে রাতের ওষুধ সকালে খায়। এতে হুট করে বেড়ে যেতে পারে রক্তচাপ। রক্তচাপের ওষুধ নিয়মিত খেতে হয়। কিন্তু যেহেতু জ্বর বা মাথা ব্যথার মতো লক্ষণ থাকে না, তাই অনেকেই ভুলে যান ওষুধ খেতে। এতেও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৩. উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়াও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। অনেকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তচাপের ওষুধ খাওয়া শুরু করলেও একটু সুস্থ বোধ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বন্ধ করে দেন ওষুধ। এতে নীরবে রক্তচাপ শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে থাকে। যেমন, রক্তচাপের কারণে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতি একদিন হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে।

৪. মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের কারণে বাড়তে পারে ব্লাড প্রেসার।

৫. উচ্চ রক্তচাপ থেকে সৃষ্ট কিডনি বা থাইরয়েডের রোগের কারণে হুট করে ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়।

৬. নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ যেমন স্টেরয়েড, ভেষজ ওষুধ, ব্যথানাশক বা আইবুপ্রোফেন ধরনের ওষুধ খেলেও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

হঠাৎ ব্লাড প্রেসার বেড়ে গেলে করণীয়

প্রেসার মাপার পর যদি দেখেন অনেক বেশি হয়েছে, তাহলে শুরুতেই ঘাবড়ে যাবেন না। প্রথমে শান্ত হয়ে বসুন। ৫ মিনিট পর আবার প্রেসার মাপুন। দ্বিতীয়বার মাপার পরও যদি বেশি আসে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। যদি উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আর কোনো লক্ষণ না থাকে তবে একটু ভেবে দেখুন কেন হঠাৎ প্রেসার বেড়েছে। ওষুধ মিস হয়েছে নাকি অন্যকিছু। তবে যাই হোক, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

যদি ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য লক্ষণ যেমন মাথা ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, বমি বা বমিভাব, আবোলতাবোল বকা, ভুলে যাওয়া, ঝিমিয়ে পড়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হাত পা অবশ হয়ে যাওয়া, মুখের কথা আটকে যাওয়া, অস্থির লাগা, বুকে, ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, পেটে বা পিঠে ব্যথা বা খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে নিজে নিজে ওষুধ খেয়ে প্রেসার কমানোর চেষ্টা করবেন না। এতে অনেক সময় হিতে বিপরীত হতে পারে। যেমন স্ট্রোক হলে অনেক সময় তাৎক্ষণিক ব্লাড প্রেসার কমানো হয় না। কারণ, এতে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল আরও কমে যেতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে খুব দ্রুত কমাতে হয় রক্তচাপ, যেমন রক্তনালী ছিঁড়ে গেলে। সে ক্ষেত্রে শিরায় ইনজেকশন দিয়ে ব্লাড প্রেসার কমানো হয়, মুখে ওষুধ দেয়া হয় না। তাই এমন অবস্থায় দ্রুততম উপায়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চলে যেতে হবে চিকিৎসার জন্য।

তেঁতুল খাওয়ার সঙ্গে প্রেসার কমার সম্পর্ক:

অনেকে মনে করেন তেঁতুল খেলে দ্রুত রক্তচাপ কমে যায়। তবে এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। যদিও দীর্ঘমেয়াদে তেঁতুল খেলে উপকার রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের প্রতিদিন ৪/৫টা করে ফল খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কারণ, ফলে তুলনামূলক বেশি পটাশিয়াম থাকে। আর পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।