
ফয়সাল নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ছত্রছাত্রায় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১২টি মামলা রয়েছে।
অভিযুক্ত মো. ফয়সাল ভূঁইয়া (৪৩) জেলার সদর উপজেলার পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং একই ইউনিয়নের চরকাউনিয়া গ্রামের মোকারম ভূঁইয়ার ছেলে। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর তিনি গা ঢাকা দেন।
গত ৭ অক্টোবর ফয়সালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন, মতিউর রহমান সাজ্জাদ নামে এক ভুক্তভোগী।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার ১৯ নং পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নে আওয়ামী রাজনীতির ছত্রছায়ায় গত ১৫-১৬ বছর ফয়সাল এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রতিনিয়ত এলাকার জনগণকে জিম্মি করে রেখেছিল। অস্ত্রের মহড়া দিলেও স্থানীয় লোকজন তার বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খোলার সাহস পায়নি।
লিখিত অভিযোগে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১৭ ও ২০২০ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে দুইটি পৃথক মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এলাকায় মাদক বেচাকেনার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণও ছিল তার হাতে। সে মাদক সেবন ও বিক্রি করে এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংস করে ফেলেছে। ২০২৩ সালে মাদক বিক্রি ও সেবনের সময় সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নাতে ধরা পড়ে। পরে তাকে একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। তার বিরুদ্ধে সুধারামা থানায় ১২টি মামলা রয়েছে।
মতিউর রহমান সাজ্জাদ বলেন, ২০২১ সালে ফয়সেল আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুম করে একদিন আটক করে রাখে। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তার কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
ভয়ে নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে রাজি নন জানিয়ে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনসহ বেশ কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচনে ফয়সাল ও তার অস্ত্রধারী ক্যাডারদের ভয়ে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। অনেকেই ভোট দিতে যাননি প্রাণনাশের ঝুঁকি থাকায়। বেপরোয়া ছিল ফয়সাল ও তার অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.ফয়সাল ভূঁইয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কামরুল ইসলাম বলেন,বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho