প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ২, ২০২৬, ৪:৩৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ৫, ২০২৪, ৬:২০ পি.এম
নারিকেল জিঞ্জিরা ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায় জবি স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টি

জবি প্রতিনিধি।।
নারিকেল জিজিরা দ্বীপে (সেন্টমার্টিন) যাতায়াত ও অবস্থানের উপর সব ধরণের সরকারি বাধা-নিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি প্লাটফর্ম।
আজ বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জবির রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী এ এইচ ফাইম বলেন, সম্প্রতি পরিবেশ উপদেষ্টার নির্দেশে নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপ (সেন্ট মার্টিন) যাতায়াত ও অবস্থানের উপর সরকার বেশ কিছু বাধা-নিষেধ আরোপ করেছে। সরকারি এই বাধা-নিষেধগুলো নারিকেল জিজিরা দ্বীপ ঘিরে চার ধরণের সমস্যা ও ঝুঁকি তৈরি করবে-ঝুকিগুলো হলো, সার্বভৌমত্বগত ঝুঁকি, অর্থনৈতিক বৃত্তি, পরিবেশগত ঝুঁকি, দ্বীপবাসীর মৌলিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনগত ঝুঁকি।
তিনি বলেন, নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপটি ভৌগলিক অবস্থানগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি জায়গা। ইতিমধ্যেই মিয়ানমার ও আরাকান আর্মি দ্বীপটিকে একাধিকবার তাদের বলে দাবি করেছে। মিয়ানমারের সরকারি ম্যাপেও নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপকে তাদের দেখিয়েছে। এছাড়া আরাকানের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মিও নারিকেল জিজিরা দ্বীপকে তাদের বলে দাবী করেছে। এখন দ্বীপে যাতায়াত ও অবস্থানে বাধা আসলে দ্বীপের নারিকেল দ্বীপের ১০/১২ হাজার বাসিন্দাদের প্রায় শতভাগ মানুষের জীবন-জীবিকার একমাত্র উপায় শীতকালের ৪ মাসের পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবে। জীবিকা নির্বাহের ভিন্ন উপায় না থাকায় দ্বীপবাসী তাই বেঁচে থাকার তাগিদেই দ্বীপ ত্যাগে বাধ্য হবে। এক সময় দ্বীপটি জনশূণ্য হয়ে যাবে। ফলে পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারের মগ, আরাকান ও ভারতীয় জেলেদের নারিকেল দ্বীপে আনাগোনা বেড়ে যাবে। সুযোগ বুঝে তারা দ্বীপটি দখলে নেয়ার চেষ্টা চালাবে।
এসময় বেশ কিছু সমস্যার কথা তুলে তিনি বলেন, নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপ কেন্দ্রীক পর্যটন ক্ষতিগ্রস্থ হলে বাংলাদেশের জনগণ ভারতে চলে যাবে অবকাশ যাপন করতে। ফলে আমাদের দেশের পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ভারতীয় পর্যটন শিল্প প্রতিষ্ঠিত হবে। দ্বীপে পর্যটন বন্ধ হয়ে গেলে দ্বীপবাসী বাধ্য হয়ে কোরাল কেটে সেগুলো বিক্রী করা শুরু করবে। ফলে দ্বীপে পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হবে।দ্বীপে যাতায়াতের উপর বাধা নিষেধ দ্বীপবাসীর মৌলিক ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
তিনি আরও বলেন, দ্বীপবাসীসহ সকলেরই অন্যতম মৌলিক অধিকার হচ্ছে খাদ্য। দ্বীপে বাধা-নিষেধের ফলে দ্বীপবাসীর খাদ্যের যোগান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্বীপবাসীকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার যে পরিকল্পনা এর মাধ্যমে দ্বীপবাসীকে বাসস্থানের মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। দ্বীপের ২০ শয্যা বিশিষ্ট একমাত্র হাসপাতালের চিকিৎসা সেবাও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন দ্বীপবাসী তাদের চিকিৎসা পাবার মৌলিক অধিকার থেকেও সম্পূর্ণ বঞ্চিত। এককথায়, দ্বীপে যাতায়াতে সরকারি বাধা-নিষেধ দ্বীপবাসীকে একটি প্রকাশ্য দুর্ভিক্ষের মধ্যে ফেলে দিয়ে তাদের মৌলিক ও মানবাধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে ধারা ১জ৩ তে বলা হয়েছে, নিজ রাষ্ট্রের চৌহদ্দির মধ্যে স্বাধীনভাবে চলাফেরা এবং বসবাস করার অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে। নারিকেল দ্বীপে যেতে বাধাপ্রাপ্ত করার সরকারি নির্দেশনা উক্ত ঘোষণাপত্রের ২, ৩, ৯, ১৩ ও ১৪ ধারার লঙ্ঘন। এছাড়া বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ীও এটি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন। অতএব, সরকারকে অবশ্যই দ্বীপবাসী ও বাংলাদেশের সকল নাগরিককে নারিকেল জিঞ্জিরা (সেন্টমার্টিন) দ্বীপ ভ্রমণ, অবস্থান ও চলাচলের অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। এখানে কোনো রকম বাধা দেয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, কাজেই দেশের অখণ্ডতা, পর্যটন শিল্প, পরিবেশ ও দ্বীপবাসীর মৌলিক ও মানবাধিকার রক্ষার্থে নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপকে সবসময় জনবান্ধব ও জনগণের আসা যাওয়াকে উৎসাহিত করতে হবে। পরিবেশবাদসহ যে কোনো অজুহাতেই দ্বীপ ভ্রমণে বাধা দিলে দ্বীপের সার্বভৌমত্বগত ঝুঁকি তৈরি হবে। তাই নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপ ভ্রমণে সব ধরণের সরকারি বাধা তুলে নিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীগোষ্ঠী কর্তৃক ভারতে বাংলাদেশের দূতাবাসে হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোও হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টি প্লাটফর্মের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক জিয়ায়ুল হক ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টি প্লাটফর্মের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মুহম্মদ মাহদী হাসানসহ আরও অনেকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho