প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ১৪, ২০২৬, ৮:২৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ৮, ২০২৫, ২:১৪ পি.এম
ঝিকরগাছার কপোতাক্ষ নদের অবৈধ বালুর মজুদের সন্ধান

স্টাফ রিপোর্টার:
যশোরের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদ থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ বালুর গোপন মজুদের সন্ধান মিলেছে। এসব গোপন আস্তানায় মজুদ করা হয়েছে লাখ লাখ সিএফটি বালু।
ঝিকরগাছা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মিশ্রীদেয়াড়া বাজার সংলগ্ন কপোতক্ষ নদের পাড়ে সাড়ে চার বিঘা আয়তনের একটি পুকুর ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ বালুর গোপন মজুদ। এর পার্শ্ববর্তী আরও কয়েকটি স্থানে বালুর ডিপো থেকে র্দীঘদিন ধরে লাখ লাখ টাকার বালু বিক্রি করছে একটি চক্র। কপোতাক্ষ নদের বালু মাটি বিক্রি করে কোটিপতি বনে যাওয়ার খবর চাউর রয়েছে এলাকা জুড়ে। এসব চিহ্নিত বালু মাটি খোররা কপোতাক্ষ নদের পাশাপাশি সমতল ভূমির আবাদি জমির উপরের অংশের উর্বর মাটি ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করেই চলেছে। কিছুতেই এদের লাগাম টানা যাচ্ছেনা।
অভিযোগ রয়েছে, দিনের পর দিন বালু মাটি ব্যবসায়ী নামধারী দুর্বৃত্তরা উর্বর ফসলি জমির উপরের অংশের মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছে। উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মিশ্রীদেয়াড়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় হদিস মিলেছে এই অবৈধ বালুর বিশাল গোপন মজুদ। এযেনো বালুর অফুরন্ত খনি। আর এসব খনি থেকে বালু মাটি ভর্তি সারিবদ্ধ কিংবা বিচ্ছিন্নভাবে ট্রাক্টর সংযুক্ত ট্রলি ও ট্রাক ভর্তি করে দিনরাত পাচার হয়ে এসেছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এমনটাই দাবি করছেন স্থানীয়রা। এতে গ্রামীণ অবোকাঠামো বিশেষ করে কাঁচাপাকা সড়ক মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ইটভাটার পাশাপাশি এক শ্রেণির সুযোগ সন্ধানী জমি ব্যবসায়ী এই বালুমাটির বড় ক্রেতা। এরা কম দামে নিচু শ্রেণির জমি খরিদ করে তা ভরাট করছে বেশি মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে। বালুখোরদের ব্যাপারে এক শ্রেণির অসাধু পুলিশ অবগত থাকলেও রহস্যজনক কারণে এরা ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। তাছাড়া সুবিধাভোগী উপরি মহলের তদবিরও একটি বড় কারণ।
বালুখোরদের গোপন মজুদ অনুসন্ধান করতে গিয়ে এবার উঠে এসেছে ঝিকরগাছা পৌরসদরের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শরিফুল ইসলামের নাম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পৌর মহাশ্মশান ঘাটের অপর পাড়ে কপোতাক্ষ নদের বিশাল জায়গা দখল করে কয়েক লাখ সিএফটি বালুর মজুদ গড়ে তুলেছেন। পাশে রয়েছে বিশাল এলাকা জুড়ে মাছের ঘের। যদিও তিনি দাবি করে থাকেন পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিক।
জানা গেছে, মাগুরা ইউপির ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ওই এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালি মাটিবালুখোর সিন্ডিকেট। বালুখোরদের মূলহোতা এই ইউপি মেম্বর জামাল উদ্দিন। ৮৬ যশোর-২ চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল(অব) অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন এই ইউনিয়নের বাসিন্দা হওয়ায় তারা দোর্দন্ড প্রতাপশালি হয়ে ওঠেন। তারা এতটাই বেপরোয়া হয়ে ওঠে তাদের ভয়ে স্থানিয়রা টু শব্দটি করার সাহস পায়নি। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্যরা হলো পার্শ্ববর্তী আঙ্গারপাড়া গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে এমপির জামাতা পরিচয়দানকারী আলামিন, মিশ্রীদেয়াড়া গ্রামের হাতেম মেম্বরের ভাই সাত্তারের ছেলে বাপ্পি, হাতেম মেম্বরের বড় ভাই কাঠুর ছেলে টিক্কা, আঙ্গারপাড়ার আবু হোসেনের ছেলে মোরশেদ আলম, বহিরামপুর গ্রামের আমজেদ আলির ছেলে আজাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন।
বলাবাহুল্য কপোতাক্ষ নদের পুরো ঝিকরগাছা উপজেলা অংশ জুড়ে বালুমাটি উত্তোলন ও বিক্রির হিড়িক পড়েছে দীর্ঘদিন ধরে। একইসাথে সমতলের মাটি কাটাও চলছে সমানে। উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের রাজাপুর ঢালিপাড়া গ্রামের রাজ্জাক মেম্বরের ছেলে ইয়াদ আলী ওরফে ইদেল, বাবুল ঢালির ছেলে বাবু, লূতফর ঢালির ছেলে তরিকুল ও হাজিরালি গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে সাহেব আলী অবৈধ মাটিবালুর কারবারি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এব্যাপারে জামাল মেম্বরের সাথে তার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
আলোচিত গোপন বালু মজুদের পুকুর মালিক সাবেক ইউপি মেম্বর হাতেম আলী জানান, গেল ৫বছর আগে বার্ষিক ৫০হাজার টাকায় ৫বছরের চুক্তিতে সাড়ে ৪বিঘা পুকুরটি তিনি একই গ্রামের মেম্বর জামাল উদ্দিনকে ইজারা প্রদান করেন। ইজারার টাকা পরিশোধ ও লীজের মেয়াদ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, পুকুরটি নিজ টাকায় ভরাট করে নিয়েছেন। ভরাটকৃত পুকুরটির সমুদয় বালু কপোতাক্ষ নদ থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা তা তিনি স্বীকার করেছেন। তবে, স্থানীয়দের দাবি মাটিবালুখোর জামাল মেম্বরকে দায় মুক্তি দেবার অপচেষ্টা হিসাবে তার পক্ষ অবলম্বন করেছেন পুকুর মলিক হাতেম আলী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়দের অভিযোগ, গত জুলাই-আগষ্ট ছাত্রজনতার বিপ্লব পরবর্তী পট পরিবর্তনের ফলে অবৈধ বালুমাটি কারবারিদের ব্যবসায় ধস নামে। তবে তা একেবারে থেমে যায়নি। কপোতাক্ষ নদ থেকে উত্তোলিত অবৈধ এই বালুর মজুদ তারা এখনো বিক্রি করা অব্যাহত রেখেছে।
এপ্রসঙ্গে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালি সরকার বলেন, গত দুদিনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho