শুভ তংচংগ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ১২ মার্চ বুধবার বিকাল ৩টায় আদিবাসী নারীদের ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের মূল দাবি ছিল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে পাহাড় ও সমতলের নারী নিপীড়নের বিচার নিশ্চিত করা।
সমাবেশটি আয়োজন করে ঢাকাস্থ আদিবাসী শিক্ষার্থীরা। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হ্লামংচিং মারমার সঞ্চালনায় সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অনন্ত তঞ্চঙ্গ্যা। এতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রুমেন চাকমা, মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিলের ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক নুমংপ্রু মারমা, মাহাতো আদিবাসী ছাত্র সংগঠনের সভাপতি শুভ্রময় মাহাতো, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সদস্য কোলি চাকমা, ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের সভাপতি মিশাল ত্রিপুরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুর্মি চাকমা ও স্নেহলাল তঞ্চঙ্গ্যা।
সমাবেশে বক্তারা সারাদেশে নারীর ওপর সহিংসতা, ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা বলেন, “আজও আদিবাসীদের ওপর হামলা ও নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় যে রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা লাঠি দিয়ে হাসিনাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল, তাকেই এখন হামলার শিকার হতে হচ্ছে। এটা কি নতুন দেশের পরিবর্তন?”
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রুমেন চাকমা বলেন, সম্প্রতি বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে এক জুম্ম কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতায় মাত্র ৪০,০০০ টাকা জরিমানা দিয়ে মীমাংসা করা হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই ঘটনা জাতীয় কোনো গণমাধ্যমে আসে না, বিচার হয় না।”
বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক নুমংপ্রু মারমা বলেন, “নারী নির্যাতনের বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই দেশে সহিংসতা বেড়েছে। পাহাড়ি নারীরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হলেও সরকারের নীরব ভূমিকা ধর্ষকদের আরও সাহসী করে তুলছে।”
বাংলাদেশ মাহাতো আদিবাসী ছাত্র সংগঠনের সভাপতি শুভ্রময় মাহাতো বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকি। প্রতিদিন আদিবাসী শিশু, নারী ও পুরুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আমাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য কোলি চাকমা বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এখনো তারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটেলার ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে জুম্ম নারীরা।”
বক্তারা উল্লেখ করেন, কল্পনা চাকমার অপহরণের ২৮ বছর পরও বিচার হয়নি। সম্প্রতি আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে, যা পাহাড়ে বিচারহীনতার একটি বড় উদাহরণ। বক্তারা আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় আদিবাসীরা রাজপথে ছিল, অথচ অভ্যুত্থানের পরেও তারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সমাবেশের বক্তারা সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং পাহাড়ে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি করেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সরকারের দ্বিচারিতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho