
রুকন উদ্দিন (কেন্দুয়া-নেত্রকোণা) সংবাদদাতা
চলতি মাসের সোমবার (৫ মে) আনুমানিক রাত ৮টার দিকে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ৯নং নওপাড়া ইউনিয়নের নূরেছা দুখিয়ারগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও দুখিয়ারগাতী গ্রামের বাসিন্দা মো. সাইকুল ইসলাম চান মিয়ার বিরুদ্ধে একই স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ উঠে।
এবিষয়ে ঘটনার রাতেই কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে জানা যায়।
এদিকে আবার উদ্ভব পরিস্থিতি এড়াতে পরেরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
পরবর্তীতে ভিকটিমসহ আরও দুই শিক্ষার্থী ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদস্বরূপ প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন- ২০২৫ পরীক্ষায় অংশ না নিতে সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে ভিকটিম ও তার পরিবার, স্কুলের সহপাঠী, অভিযুক্ত শিক্ষক, স্থানীয় লোকজন এবং উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন সাংবাদিকগণ।
এরিমধ্য এলাকার উত্তেজনা পরিস্থিতি ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমদাদুল হক তালুকদারের নেতৃত্বে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রহিমা আক্তার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনূসুর রহমার রনি, কেন্দুয়া থানার তদন্ত অফিসার ওমর কাইয়ূম সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আগামী এক কার্যদিবসের মধ্য ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমদাদুল হক তালুকদারের এমন সঠিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেন সর্ব মহল। (Uno Kendua) তাঁর ফেসবুক আইডিত ৬মে মঙ্গলবার লিখেন- নূরেছা দুখিয়ারগাতী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনা নিয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামীকাল অর্থাৎ ৭মে (বুধবার) প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত সকলকে ধৈর্য্য ধারণের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হল। কিন্তু আজ সোমবার (১২ মে) তদন্ত প্রতিবেদনের কোন অগ্রগতি না থাকায় নানান ধরনের গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে ভিকটিমের পরিবারের সাথে কথা হলে ভিকটিমের মামা সাজ্জাদুল হক জানান- ঘটনার পরেরদিন ইউএনও স্যার ঘটনাস্থলে এসে সবাইকে শান্ত থাকার জন্য নির্দেশ দেন এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য পদক্ষেপ নেন। আমরা জানতে পেরেছিলাম পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তাঁরা এক কার্যদিবসের মধ্য তদন্ত প্রতিবেদন দিবেন, কিন্তু আজকে তো ১২ তারিখ এখনো কোন খবর নেই। আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় আছি কি হয় জানিনা।
নূরেছা দুখিয়ারগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অভিযুক্ত সাইকুল ইসলাম চান মিয়া মুঠোফোনে বলেন- এটি একটি মিথ্যা ও বানোয়াট ঘটনা। তারপরও ইউএনও স্যার তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন, তদন্ত কোন পর্যায়ে আছে জানি না, আলোচনা চলছে প্রতিবেদন দেয়ার আগেই আজ বা কালের মধ্যে হয়তো সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।
কেন্দুয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির সদস্য ইউনূসুর রহমান রনি বলেন- বলা হয়েছিল ঠিকই, আসলে সময় লাগবে আপনি কমিটির আহ্বায়কের সাথে কথা বলুন।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক রহিমা আক্তার বলেন- আমরা ইউএনও স্যারের কাছে আরও সময় চেয়েছি। চেষ্টা করবো এই সপ্তাহের মধ্যে ইউএনও স্যারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য।
কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমদাদুল হক তালুকদার জানান- দুখিয়ারগাতীর বিষয়ে তদন্ত চলমান। কমিটি সময় চেয়েছে। আর এটি বিভাগীয় তদন্ত হওয়ায় এটি হবার পর অভিযুক্ত ব্যাক্তি দোষী প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho