
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট মানবিক সংকট বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট নিয়ে এবার সরব হলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেছেন, গাজার মানুষের দুর্ভোগ "অবর্ণনীয়" এবং "কোনোভাবেই যৌক্তিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়"। তার মতে, এই যুদ্ধ আর মানবিক বিপর্যয় যত দ্রুত সম্ভব থামানো জরুরি।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানান, গাজার পরিস্থিতি অনেকদিন ধরেই সংকটজনক হলেও এখন তা এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৫ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর প্রকাশ করে। স্টারমার বলেন, "আমরা এখন এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হচ্ছি।" তিনি আরও জানান, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি জার্মানি ও ফ্রান্সের নেতাদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করবেন, যাতে দ্রুত যুদ্ধ থেমে যায় ও মানবিক সহায়তা পৌঁছায়।
বর্তমানে গাজার অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে প্রতিদিন খাদ্য সহায়তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য ফিলিস্তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহায়তায় গঠিত নতুন ত্রাণ ব্যবস্থাপনা ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)’ নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও বাস্তবে তা কাজ করছে না বলেই অভিযোগ উঠেছে। ফলে গাজার খাদ্য ও ওষুধ সংকট আরও ভয়াবহ হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, গাজার এক-চতুর্থাংশ মানুষ বর্তমানে ‘দুর্ভিক্ষের কাছাকাছি’ অবস্থায় দিন পার করছেন।ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যসহ ২৮টি দেশ গত সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা অবিলম্বে ত্রাণ সরবরাহে আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের ত্রাণ সরবরাহ পদ্ধতি শুধু বিপজ্জনকই নয়, তা গাজার সাধারণ মানুষকে মানবিক মর্যাদা থেকেও বঞ্চিত করছে।
ব্রিটিশ লেবার পার্টির ভেতর থেকেও প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের ওপর চাপ বেড়েছে, যাতে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেন। অনেকে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনকে যেন যুক্তরাজ্য স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তবে স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্য তখনই এই স্বীকৃতি দেবে, যখন টেকসই রাজনৈতিক সমাধান বাস্তবায়নের সুযোগ আসবে।
বৃহস্পতিবার রাতে আরেক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইসরায়েলের এখনই পথ পরিবর্তন করা উচিত।” সেইসঙ্গে তিনি আবারও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও হামাসের হাতে থাকা সকল জিম্মির নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানান। তার মতে, “ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্রের অধিকার অপরিবর্তনীয় ও মৌলিক।” যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে সেটাই হবে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে প্রথম ধাপ এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতির শুরু।
এদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বৃহস্পতিবার জানান, ফ্রান্স আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কাতারে চলমান গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনা থেকে তাদের প্রতিনিধি দল ফিরিয়ে নিয়েছে। কাতারের রাজধানী দোহায় গত দুই সপ্তাহ ধরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা চললেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। তথ্যসূত্র : বিবিসি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho