
কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির যুগে দাঁড়িয়ে যখন যেকোন মামলার আসামি দ্রুত শনাক্ত, নজরদারি এমনকি সহজভাবে গ্রেফতার হওয়ার কথা, ঠিক তখনই নেত্রকোণার কেন্দুয়া থানার এসআই (নিরস্ত্র) জাহিদ হাসান রানার চরম গাফিলতির কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার প্রধান আসামি মো. তমজিদ আহম্মেদ নির্বিঘ্নে দেশত্যাগ করে দুবাই চলে গেছে বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, মামলাটি দ্রুত তুলে নিতে বাদী সহ তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে আসামিদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের চন্দলাড়া গ্রামের।
চন্দলাড়া গ্রামের আল মামুন ফকিরের স্ত্রী মারুফা বেগম বাদী হয়ে একই গ্রামের মো. ওয়াদুদ মড়লের ছেলে তমজিদ আহম্মেদকে প্রধান আসামি করে ৭/৯(১)/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০(সং/২০), অপহরণ পূর্বক ধর্ষণ ও সহায়তা করার অপরাধে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, কেন্দুয়া থানা মামলা নং ৩৭(৬)২৫, কিন্তু মামলার তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই (নিরস্ত্র) মো. জাহিদ হাসান রানা'র গাফিলতি, উদাসীনতা ও রহস্যজনক নিস্ক্রিয়তার কারণে শুরু থেকেই ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘুরে যেতে থাকে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থেকে আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতারে তেমন কোন তৎপরতা দেখায়নি। এমনকি মামলা দায়েরের কিছুদিন পরেই প্রধান আসামি তমজিদ আহম্মেদ দেশের বাইরে দুবাই চলে যায়, যা একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত। বিষয়টি এসআই জাহিদকে পরিবারের লোকজন অবহিত করলে তিনি কোন কর্ণপাত করেননি, দেখছি দেখছি বলে তালবাহানা করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা পেতে চলতি মাসের ১৬ জুলাই নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদনও করেন।
ভিকটিমের মা মামলার বাদী মারুফা বেগম বলেন, প্রধান আসামী তমজিদ আহম্মেদ দুবাই পৌঁছার পর মামলা তুলে নিতে বিদেশী নম্বর +৮৮০৯৭১৫৪২৬৩১৪৭৮ থেকে আমার ০১৭০৩-৪৪৪৯৯৪ নাম্বারে কল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে।
এছাড়াও মামলার অন্য আসামি ওয়াদুদ মড়ল জামিনে এসে তার অন্য সহযোগীদের সাথে নিয়ে ভিকটিমের বাড়ির আশেপাশে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘুরাঘুরি করে ভয় দেখাচ্ছে মামলটি তুলে নিতে। চলতি মাসের ২৭ জুলাই রবিবার আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভিকটিমের মা বাদী মারুফা বেগম তার মেয়েকে নিয়ে চন্দলাড়া গ্রামের সাইকুল ইসলামের বাড়ির সামনে দিয়ে আসার পথে বিবাদী ওয়াদুদ মড়ল, সুমন মড়ল, আমিন মড়ল, ও শাহীন মড়ল রাস্তায় গতিরোধ করে বাদী মারুফা বেগম ও তার মেয়েকে কিল-ঘুষি মেরে টানাহেঁচড়া করে নিলাফুলা জখম করে আনুমানিক ১২ হাজার টাকা মূল্যের একটি এন্ড্রয়েড ফোন ও ছয় আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন যা বর্তমান আনুমানিক বাজার মূল্য ৭২ হাজার টাকা জোরপূর্বকভাবে চিনিয়ে নেয়। যাবার সময় বিবাদীরা হুমকি দিয়ে বলে যায় অতি দ্রুত মামলাটি তুলে না নিলে তাদের খুন করিয়া লাশ গুম করিয়া ফেলিবে। এবিষয়েও কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মারুফা বেগম।
গড়াডোবা ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য লাকী আক্তার বলেন, “এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আসামির অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও, পুলিশ চুপ করে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে।”
অভিযোগের বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি জানান, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কেউ গাফিলতি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা জানান, এমন একটি স্পর্শকাতর মামলায় যদি এসআই পর্যায়ের কর্মকর্তার দায়িত্বে গাফিলতি থাকে, তবে তা শুধুই বিচারের বিলম্বই নয়, ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কাও তৈরি করে। সঠিক তদন্ত, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বাদীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে, এটি হবে আইনের চোখে আরেকটি পরাজয়ের দৃষ্টান্ত।
উল্লেখ্য, নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের চন্দলাড়া গ্রামের আল মামুন ফকির ও মারুফা বেগম দম্পতির কন্যার ও একই গ্রামের মো. ওয়াদুদ মড়লের ছেলে দুবাই প্রবাসী মো. তমজিদ আহম্মেদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই পরিবারের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পক্ষই বিয়ের সম্মতিতে রাজি হন। পরবর্তী অভিযুক্ত তমজিদ আহম্মেদ চলতি বছরের ৪ জুন বিয়ে করার জন্য দেশে ছুটিতে আসে। পরেরদিন অর্থাৎ ৫ জুন প্রেমিক তমজিদ আহম্মেদ প্রেমিকাকে ফুসলাইয়া তাদের বাড়িতে নিয়ে পরিত্যক্ত ঘরে দৈহিক মেলামেশা করে। এছাড়াও কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আবাসিক হোটেলে নিয়ে দৈহিক মেলামেশা করে। মেয়েটির বাবা মা ধারে ধারে ঘুরেও সঠিক কোন বিচার পাচ্ছে না, বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার দৈহিক মেলামেশা করে বিয়ে না করে প্রেমিক তমজিদ আহম্মেদ মামলার প্রধান আসামি হয়ে কিভাবে বিদেশ চলে গেল জনমনে সেটাই প্রশ্নজাগছে! প্রধান আসামি দেশত্যাগ করেছে বাকিরা জামিনে, তাহলে কি এটা নারী জীবনের কলঙ্ক?
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, নতুন করে অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর পূর্বের মামলাটি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই এর কোন গাফিলতি থাকার কথা না।
এসআই (নিরস্ত্র) জাহিদ হাসান বলেন, আমি সাক্ষী দিতে গিয়েছিলাম। বাদী ও তার পরিবারকে হুমকির বিষয়ের অভিযোগটি আজকে পেয়েছি। আগামীকাল হয়তো যেতে পারি। আর পূর্বের মামলার প্রধান আসামি বিদেশ চলে গেছে আমিও ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বাকি দুই আসামি একজন মুরব্বি মানুষ তারপরও তিনি আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা করেছি, তবে তারাও জামিনে চলে এসেছে। মামলার তদন্তে ও আসামি গ্রেফতারে আমার বিন্দুমাত্র গাফিলতি ছিল না। না জেনে অনেকেই অনেক কিছু মনগড়া মন্তব্য করতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho