
মহসাগরের অতল গভীরে লুকিয়ে রয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ৬৪ অদৃশ্য দানব। শত্রুপক্ষের রাডার যাদের অস্তিত্ব টের পেতেই হিমশিম খায়। হিমশীতল পানির নিচে এরা অপেক্ষা করে আছে রাশিয়ার শত্রুদের জন্য। ভ্লাদিমির পুতিন তার সাবমেরিন বাহিনীকে নিয়ে যে কথা বলেছেন, তার সারমর্ম করলে এমনটাই দাঁড়ায়।
বর্তমানে রাশিয়ার হাতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় সাবমেরিন বাহিনী। বহরে আছে প্রায় ৬৪টি সাবমেরিন। এগুলো নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। রাশিয়ার কৌশলগত সাবমেরিনগুলো বিদেশি রাডারের নজর এড়িয়ে আর্কটিকের বরফের নিচে গোপনে চলাচল করতে সক্ষম। এ ছাড়া বর্তমানে রাশিয়াই একমাত্র দেশ, যাদের আছে নিজস্ব পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার নৌবহর। এমন শক্তিশালী সাবমেরিন শক্তিতে পুতিনকে নাকাল করার ক্ষমতা নেই যুক্তরাষ্ট্রের।
২০০০ সালের পর থেকে রুশ সাবমেরিন বহরে যুক্ত হয়েছে আটটি ‘বরে’ শ্রেণীর পারমাণবিক সাবমেরিন। সর্বশেষ কানিয়াজ পোজারসকি নামের সাবমেরিনটি গত বছর পানিতে নামানো হয়। নির্মাণাধীন রয়েছে আরও দু’টি সাবমেরিন। এ ধরনের সাবমেরিন বুলাভা ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে সজ্জিত, যেগুলোর পাল্লা সর্বোচ্চ ৮০০০ কিলোমিটার। পানির নিচে শত্রুর সাবমেরিন ধ্বংসে রকেট ও সমুদ্রতলের মাইন ব্যবহারের ক্ষমতাও রয়েছে এগুলোর। প্রতিটি সাবমেরিনে কাজ করেন শতাধিক নাবিক।
এছাড়া রুশ বহরে রয়েছে প্রায় ১৪টি ব্যালিস্টিক মিসাইলবাহী সাবমেরিন। এগুলোকে রাশিয়ার কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ধরা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির পরদিনই জাপান সাগরে শত্রুপক্ষের সাবমেরিন ধ্বংসে মহড়া চালিয়েছিল চীন ও রাশিয়া। এর বাইরে রাশিয়া নিয়মিতই সাবমেরিন সংক্রান্ত উন্নয়ন ও মহড়া চালাচ্ছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর এই ইস্যুতেও উচ্চকণ্ঠ হয়েছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাশিয়ার কৌশলগত পরমাণু সাবমেরিনগুলো বিদেশি রাডারের নজর এড়াতে সক্ষম। এমনকি আর্কটিকের বরফের নিচে গোপনে চলাচলও করতে পারে। আর এটাই রাশিয়ার সামরিক সুবিধা।
পুতিন জানান, আর্কটিক অঞ্চল রুশ প্রতিরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এই অঞ্চলে গবেষণাও জরুরি। কারণ বরফ গলার ফলে নতুন শিপিং রুট বা নৌপথ উন্মুক্ত হচ্ছে। শুধু রাশিয়াই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে আর্কটিকের গুরুত্ব তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। এটি শুধু নিরাপত্তার কারণেই নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন রুট হিসেবেও অনস্বীকার্য।
মহাসাগরের নিচে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার তীব্র লড়াইয়ে লিপ্ত রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের হাতেও রয়েছে বিশাল সাবমেরিন বাহিনী। তারা তিন ধরনের ফাস্ট অ্যাটাক সাবমেরিন পরিচালনা করে— ভার্জিনিয়া ক্লাস, সিওলফ ক্লাস এবং লস অ্যানজেলস ক্লাস।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho