
মানুষ হিসেবে আমরা কেউই নিজেদের ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করি না। কিন্তু প্রাত্যহিক জীবনের নানা বাঁকে আমরা ছোট-বড় অনেক মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ফেলি। কখনো অন্যকে খুশি করতে, কখনো নিজেকে রক্ষা করতে, আবার কখনো স্রেফ অতিরঞ্জিত করে কোনো বিষয় উপস্থাপন করতে গিয়ে আমরা মিথ্যার জালে জড়িয়ে পড়ি। বিশেষ করে বড়দের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে মারাত্মক আস্থার সংকট তৈরি করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সদিচ্ছা ও সচেতনতা থাকলে এই ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।যেকোনো অভ্যাস পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হলো এর পেছনের কারণ বা ‘ট্রিগার’ খুঁজে বের করা। মিথ্যা বলার মুহূর্তে নিজেকে থামিয়ে প্রশ্ন করুন—আপনি কেন এটি করছেন? আপনার মনের ভেতরে কোনো ভয় বা অস্বস্তি কাজ করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করুন।
আপনি কি তথ্য গোপন করছেন নাকি বাড়িয়ে বলছেন, সেই ধরনটি শনাক্ত করতে পারলে এর মূল কারণ খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। অনেক সময় আমরা অন্যদের সরাসরি ‘না’ বলতে পারি না বলে মিথ্যার আশ্রয় নিই।নিজের সীমাবদ্ধতা বা প্রয়োজন সম্পর্কে স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে কথা বলতে শেখা এই অভ্যাস ত্যাগে বড় ভূমিকা রাখে। কোনো অস্বস্তিকর প্রশ্নে মিথ্যা না বলে সরাসরি বলতে পারেন যে আপনি এই বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী নন।
অনেক সময় আমরা সত্যের পরিণাম নিয়ে অহেতুক ভীত থাকি। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সত্যের ফলাফল আমাদের ভাবনার চেয়ে অনেক বেশি ইতিবাচক হয়। সত্য বললে সাময়িকভাবে কেউ বিরক্ত হলেও দীর্ঘ মেয়াদে তা পারস্পরিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করে। তাই বড় কোনো পরিবর্তন নয়, বরং ছোট ছোট পদক্ষেপ দিয়ে সত্য বলার যাত্রা শুরু করা উচিত। যেকোনো কথা বলার আগে নিজের অন্তর্দৃষ্টি বা ‘গাট ফিলিংস’ যাচাই করে দেখা প্রয়োজন যে কথাটি সবার জন্য সম্মানজনক কি না।
বাস্তবতা মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা মিথ্যা ত্যাগের অন্যতম প্রধান শর্ত। নিজের ভুল স্বীকার করতে শেখা এবং তথাকথিত ‘সাদা মিথ্যা’ দিয়ে বিষয়টিকে জায়েজ করার প্রবণতা ছাড়তে হবে। সত্যকে মেনে নেওয়ার অভ্যাস কষ্টকর মনে হলেও এটি মানুষকে আত্মিক শান্তি দেয় এবং সুন্দর জীবনের পথ প্রশস্ত করে।
তবে কারো ক্ষেত্রে যদি মিথ্যা বলাটা বাধ্যতামূলক বা আসক্তির মতো হয়ে দাঁড়ায়, তবে দেরি না করে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শৈশবের কোনো ট্রমা বা মানসিক চাপ থেকেও এই প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যা সঠিক থেরাপির মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
দিনশেষে সততা বজায় রাখা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা দীর্ঘমেয়াদী বিশ্বাস ও মজবুত সম্পর্ক গঠনে সহায়তা করে। সূত্র: হেলথ লাইন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho