
ভালো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সুন্দর, মিষ্টি কথার মানুষ হতে হয় না। কিন্তু কী বলছি, কীভাবে বলছি— এটাই অনেক সময় সবকিছু বদলে দেয়। আপনি হয়তো খেয়ালই করছেন না, কিন্তু আপনার কিছু সাধারণ কথাই প্রিয় মানুষকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। ছোট ছোট শব্দ, মন্তব্য বা অভিব্যক্তিও ধীরে ধীরে সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে করে দিতে পারে।
চলুন আজ জেনে নিই এমন ১১টি কথা বা মন্তব্য, যেগুলো সম্পর্ক দুর্বল করে দেয়, আর কীভাবে সেগুলোর জায়গায় আরও সহানুভূতিশীল ও মানবিক কিছু বলা যায়। - চুপ করো বা শান্ত হও! কেউ কষ্টে থাকলে তাকে ‘চুপ করো’ বলা তাকে থামিয়ে দেওয়ার মতো। এতে সে হয়তো ভাববে, তার আবেগ বা অনুভূতির কোনো দাম আপনার কাছে নেই।
বরং বলুন, ‘তুমি যা বলছো, আমি শুনছি। চাইলে বলো কীভাবে পাশে থাকতে পারি।’
- যা খুশি করো— আগ্রহের অভাব দেখায়। কারও পরামর্শ চাওয়া মানে সে আপনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আপনি যদি বলেন, ‘যা খুশি করো’, সে বুঝে নেবে আপনি একদমই আগ্রহী নন।
বরং বলুন, ‘একসাথে চিন্তা করি, চাইলে কিছু আইডিয়া দিতে পারি।’
- আমি তো এটা বলিনি! — দোষ না নেওয়ার প্রবণতা। এভাবে বললে মনে হয় আপনি নিজের ভুল বা প্রভাব বোঝার চেষ্টা করছেন না। এতে সম্পর্কের জায়গায় দূরত্ব তৈরি হয়।
বরং বলুন, ‘দুঃখিত, হয়তো আমি বোঝাতে পারিনি। চলো আবার বুঝিয়ে বলি।’
- ‘তুমি তো খুবই সেনসিটিভ’ — অনুভূতিকে হালকা করে দেখানো। এই কথা শোনার পর কেউ আর খোলামেলাভাবে নিজের অনুভূতির কথা বলতে চায় না।
বরং বলুন, তোমার এমনটা লাগাটা একদম স্বাভাবিক। চাইলে এ নিয়ে কথা বলি।
- ‘আমি এমনই’ বা ‘আমি শুধু সত্য বলি’ — দায় এড়ানো নয়। এই কথাগুলো অনেক সময় নিজের রূঢ়তা বা কটূক্তি ঢাকতে বলা হয়।
বরং বলুন, ‘ভবিষ্যতে আরও ভেবে বলব। যদি খারাপ লেগে থাকে, আমি দুঃখিত।’
- ‘না না, কিছু না...’ — নিজের কষ্ট লুকানো। এইভাবে কথা বলা একধরনের দূরত্ব তৈরি করে। বারবার এমন করলে মানুষ ধীরে ধীরে পাশে নাও থাকতে পারে।
বরং বলুন, আমি একটু খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। পরে কথা বলি?’
- ‘মজা করছিলাম’ — সত্যিই কি তাই? বারবার কটাক্ষ করে ‘মজা’ বললে সেটা আঘাতই হয়ে দাঁড়ায়।
বরং বলতে শিখুন, ‘দুঃখিত, আমি বুঝিনি এটা তোমাকে কষ্ট দিতে পারে।’
- সবসময় ‘আমি’ বা ‘আমার’ — মানে আপনি শুধু নিজেকে দেখছেন। সম্পর্ক মানে একসাথে পথ চলা। যদি শুধু নিজের গল্প বলেন, অন্যজন আগ্রহ হারায়।
বরং বলুন, ‘তোমার দিন কেমন গেল? কিছু শেয়ার করতে চাও?’
- ‘এখন সময় নেই’— মানে আমি ব্যস্ত, তুমি গুরুত্বপূর্ণ না। সত্যিই সময় না থাকলে সেটাও বলার একটা মানবিক উপায় আছে।
বলুন, ‘এখন একটু ব্যস্ত, কিন্তু তোমার কথা শুনতে চাই। একটু পর কথা বলি?’
- ‘দেখলে, আমি তো আগেই বলেছিলাম’ — ইগো বাড়ায়, সম্পর্ক নয়। এই কথা বললে মনে হয় আপনি স্রেফ ‘ঠিক প্রমাণ’ করতে চাচ্ছেন, সাপোর্ট দিতে নয়।
বরং বলুন, তুমি এখন যেটা শিখলে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। চাইলে আমি পাশে আছি।
- ‘তুমি সবসময়ই...’ বা ‘তুমি কখনোই...’ — এমন চরম শব্দে সম্পর্ক কাঁপে। এই ধরনের কথা কোনো সমস্যা সমাধান করে না, বরং আরও বড় করে তোলে।
বরং বলুন, সাম্প্রতিক কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। আমরা কি এ নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে পারি?
আমরা যা বলি, সেটাই শুধু নয়—কীভাবে বলি, সেটাও অনেক কিছু বদলে দিতে পারে। একটু চিন্তা করে, একটু বুঝে বললেই সম্পর্ক আরও গভীর, সুন্দর আর টেকসই হতে পারে। ভালোবাসা টিকিয়ে রাখার জন্য দরকার আন্তরিকতা, সম্মান আর একটু কম ইগো।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho