প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ২৮, ২০২৬, ১২:১৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ২৭, ২০২৬, ১১:৩৫ এ.এম
চাকরি দেওয়ার নামে ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ধীরেন চন্দ্র দেবনাথ নামে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. হাবিবুর রহমান ঠাকুরগাঁও বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার অভিযুক্ত ধীরেন চন্দ্র দেবনাথ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের ফাড়াবাড়ি দক্ষিণ বঠিনা গ্রামের মৃত দীনবন্ধু দেবনাথের ছোট ছেলে। তিনি বর্তমানে দিনাজপুর জেলা পুলিশে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পুলিশের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত ধীরেন চন্দ্র দেবনাথ সদর উপজেলার দক্ষিণ সালন্দর এলাকার মৃত ওমর আলীর ছেলে মো. হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে একাধিকবার টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত নানা টালবাহানা করতে থাকেন।
একপর্যায়ে পাওনা টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে গত ৯ নভেম্বর Dutch-Bangla Bank PLC-এর একটি সঞ্চয়ী হিসাব থেকে ১২ লাখ টাকার একটি চেক নিজ হাতে স্বাক্ষর করে বাদীকে দেন। তবে চেকটি ২৩ নভেম্বর ঠাকুরগাঁও শাখায় জমা দিলে অপর্যাপ্ত তহবিল দেখিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ডিজঅনার করে। এরপর আবারও অভিযুক্তের কাছে টাকা দাবি করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব না দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এতে বাধ্য হয়ে বাদী বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে ডাকযোগে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশটি অভিযুক্ত গ্রহণ করলেও নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে তিনি কোনো টাকা পরিশোধ করেননি কিংবা পরিশোধের উদ্যোগ নেননি। এ অবস্থায় বাদী অভিযোগ করেন, প্রতারণার উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ইচ্ছাকৃতভাবে তার ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না রেখে চেক প্রদান করেছেন, যা The Negotiable Instruments Act, 1881-এর ১৩৮ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরবর্তীতে ন্যায়বিচারের আশায় ভুক্তভোগী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমি একজন সাধারণ যুবক। জীবনে কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে চাকরির আশায় অভিযুক্ত ধীরেন চন্দ্র দেবনাথের কথায় বিশ্বাস করি। তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে আমাকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তার কথায় আস্থা রেখে আমি ১২ লাখ টাকা তাকে প্রদান করি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি আমাকে কোনো চাকরি দিতে পারেননি।
পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে আমাকে আশ্বস্ত করে ১২ লাখ টাকার একটি চেক দেন। কিন্তু সেই চেক ব্যাংকে জমা দিলে অপর্যাপ্ত তহবিল দেখিয়ে তা ডিজঅনার হয়। এরপর আবারও তার কাছে গেলে তিনি টাকা না দিয়ে উল্টো আমাকে ঘোরাতে থাকেন। আমি আইনগতভাবে লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো টাকা ফেরত দেননি। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি এবং আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির শিকার হয়েছি। নিরুপায় হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আমি চাই, আমার সঙ্গে প্রতারণার সঠিক বিচার হোক এবং ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এভাবে প্রতারিত না হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ধীরেন চন্দ্র দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত ধীরেন চন্দ্র দেবনাথের ভাই রতন চন্দ বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছি, তবে এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত লেনদেনের বিষয়। আমার ভাই কোনোভাবেই পুলিশের চাকরি দেওয়ার নামে কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সঙ্গে জড়িত নন। অভিযোগকারী যেসব কথা বলছেন, সেগুলো অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমাদের ধারণা।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব। যদি প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের সুনাম ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho