![]()
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর হওয়া বাণিজ্য চুক্তির শর্ত মানতে সিউল ব্যর্থ হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর আরোপিত শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এই বাড়তি শুল্কের আওতায় থাকবে গাড়ি, কাঠ, ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্য ও সব ধরনের পারস্পরিক শুল্ক।
ট্রাম্প দাবি করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতারা চুক্তিটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে ধীরগতি দেখাচ্ছেন, অথচ যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত শুল্ক কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিক কোনো নোটিশ পায়নি। বিষয়টি নিয়ে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসতে চায়।
সিউল আরও জানায়, বর্তমানে কানাডায় অবস্থানরত দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পমন্ত্রী কিম জং-কোয়ান যত দ্রুত সম্ভব ওয়াশিংটন সফর করবেন এবং মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিকের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এ ঘোষণার পর মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে পতন দেখা যায়। গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুন্দাইয়ের শেয়ার প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়। ওষুধ ও কাঠ সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারও নিম্নমুখী হয়।
গত বছরের অক্টোবরে সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন বা ৩৫ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়। এর একটি অংশ জাহাজ নির্মাণ খাতে ব্যয় হওয়ার কথা।
এর পরের মাসে দুই দেশ একমত হয় যে, দক্ষিণ কোরিয়া চুক্তি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে।
চুক্তিটি গত ২৬ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিষদে জমা দেওয়া হয় ও বর্তমানে তা পর্যালোচনাধীন রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের মতে, এটি ফেব্রুয়ারিতে অনুমোদন পেতে পারে।
শুল্ক মূলত আমদানিকারক কোম্পানিগুলোকে পরিশোধ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পণ্য আমদানি করা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২৫ শতাংশ কর দিতে হবে।
হোয়াইট হাউজে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ট্রাম্প প্রায়ই পররাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে শুল্ক ব্যবহার করছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) তিনি হুমকি দেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে, তাহলে দেশটির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) চীনা কর্মকর্তারা জানান, কানাডার সঙ্গে তাদের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ অন্য কোনো দেশকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে নয়। এদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, তার দেশ চীনের সঙ্গে কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করছে না ও কখনোই এমন কিছু ভাবেনি।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কানাডীয় কর্মকর্তারা তাদের অবস্থান মার্কিন সমকক্ষদের কাছে স্পষ্ট করেছেন।
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের মার্কিন পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় যুক্তরাজ্যসহ আটটি দেশের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ও ন্যাটোভুক্ত।
পরে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির’ অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প শুল্কের হুমকি থেকে সরে আসেন। তবে এই ঘটনা ডেনমার্কসহ ন্যাটোর কয়েকটি মিত্র দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করে।
সূত্র: এএফপি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho