প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ২৮, ২০২৬, ১২:১৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ২৭, ২০২৬, ৩:৫০ পি.এম
মৌলভীবাজার-২ আসনে প্রার্থীদের জোর প্রচারণা

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে মৌলভীবাজার-২আসনের নির্বাচনের মাঠ। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলাকে নিয়ে গঠিত এই আসনে চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকা ও নতুন ভোটারদের সমর্থন পেতে জোর প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা। এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মৌলভীবাজার জেলার চারটি আসনের মধ্যে মৌলভীবাজার-২ আসনেই সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে চা-শ্রমিক ভোটার এবং তরুণ প্রজন্মের ভোট এবার ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকে ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শওকতুল ইসলাম শকু পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলী পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাছ খান পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আল-ইসলাহ নেতা মো. ফজলুল হক খান সাহেদ পেয়েছেন কাপ-পিরিচ প্রতীক। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল মালিক পেয়েছেন লাঙ্গল প্রতীক। বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী পেয়েছেন কাঁচি প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. জিমিউর রহমান চৌধুরী পেয়েছেন ঘোড়া প্রতীক।
২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তরুণ ভোটারদের বিশেষ করে জেনজি প্রজন্মের, রাজনৈতিক সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সুশাসনের প্রশ্নে তারা আগের চাইতে অনেকাংশে সোচ্চার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রার্থীরা চা-বাগান এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে উঠান বৈঠক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে।
লংলা চা-বাগান, হিংগাজিয়া চা-বাগান, লুয়াইউনি চা-বাগান এবং গাজীপুর চা-বাগানের স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবারের নির্বাচন শুধু দল বা প্রতীকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনাই তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে।
কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি'র প্রাক্তন প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, কুলাউড়ার সবকটি চা বাগানে আমাদের ধানের শীষ প্রার্থী মো. শওকতুল ইসলাম শকুর প্রচারণা জোরদার প্রচারণা চলছে এবং আমাদের চা শ্রমিকরা অত্যন্ত সচেতন। যেহেতু নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নাই, রাজনৈতিক দল হিসাবে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল হিসাবে তারা বিএনপিকেই বেছে নিবে ধানের শীষকেই বেছে নিবে— এ ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, কুলাউড়া–২আসনের সবকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাছ খান বলেন, কুলাউড়া আমার ভালোবাসার জায়গা। এই এলাকার মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আমি অতীতে সংসদ সদস্য হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। আগামীতেও কুলাউড়া–২ আসনের সার্বিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর জাতীয় সংসদে তুলে ধরতে আপনাদের সমর্থন ও ভোট প্রত্যাশা করছি।
তিনি বলেন, কুলাউড়া–২ আসনের নির্বাচন এবার শুধু প্রতীকের লড়াই নয়; বরং বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব ও বাস্তবভিত্তিক উন্নয়নের প্রশ্নে জনগণের রায় নির্ধারিত হবে বলে আশা করছি।
চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকার বিষয়ে তিনি বলেন, চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই আমি নির্বাচনের মাঠে প্রচারণায় নেমেছি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho