
সাংবাদিক, লেখক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে অতীতের পলাতক জীবন, গৃহবন্দিত্ব, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।
পোস্টে মারুফ কামাল খান লেখেন, দীর্ঘদিন পর হঠাৎ একটি ছবি সামনে আসে, যা তাকে ফিরিয়ে নেয় তার জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিন-রাত্রির স্মৃতিতে। তিনি জানান, তখন তিনি আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিলেন এবং নগরপ্রান্তের একটি আশ্রয়স্থলে ওই ছবিটি তোলা হয়। সে সময় তিনি স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার শাসনামলের ভয়াবহ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হন বলে দাবি করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, পলাতক জীবনের আগেই গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে টানা তিন মাস অনেকের সঙ্গে আটকা ছিলেন। ওই সময় তার জীবন ছিল কার্যত গৃহবন্দী অবস্থায়, যেখানে সার্বক্ষণিক আতঙ্ক তাকে ঘিরে রাখত। একই সময়ে তার বিরুদ্ধে শতাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব মামলায় নরহত্যা, অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি, ভাঙচুর ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।
পোস্টে তিনি আরও জানান, ওই আটক অবস্থাতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মুক্তি পাওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। এরপর শুরু হয় তার দীর্ঘ পলাতক জীবন। নগরী ও নগরীর উপকণ্ঠে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ঘুরে লুকিয়ে থাকতে হতো তাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাকে খুঁজে ফিরছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অনাদর ও অবহেলার মধ্যে দিন কাটাতে হয় বলে জানান মারুফ কামাল খান। নিয়মতান্ত্রিক জীবনের কোনো বালাই ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই পলাতক জীবনের মধ্যেই তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন।
তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বাভাবিক জীবন ধ্বংস হয়ে যাওয়া, সংসার ও পরিবার তছনছ হওয়া এবং অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ার জন্য সম্পূর্ণভাবে তৎকালীন স্বৈরশাসক হাসিনা সরকার দায়ী। তিনি বলেন, তিনি কখনো সক্রিয় দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না এবং কেবল লেখালেখির মাধ্যমেই নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস প্রকাশ করতেন। এ অপরাধের কারণেই তাকে ফ্যাসিবাদী শাসনের ভয়াবহ প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন।
পোস্টে মারুফ কামাল খান আরও লেখেন, তিনি কাউকে অভিশাপ দেননি; বরং যারা নিপীড়ন চালিয়েছে তারা নিজেরাই আজ অভিশপ্ত হয়ে লাঞ্ছিত জীবন যাপন করছে। আল্লাহর অনুগ্রহেই তিনি এখনো বেঁচে আছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। গোপনে দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার এবং পরে দেশে ফেরার সুযোগ পাওয়াকেও তিনি সৃষ্টিকর্তার দয়া হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্তমানে দেশের মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পারলেও অতীতের ভয়াবহ স্মৃতি এখনো তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় বলে জানান তিনি। অনেক সময় বিনিদ্র রাতে সেই দুঃসহ স্মৃতি মনে পড়ে শিউরে ওঠেন বলেও লেখেন মারুফ কামাল খান। জীবনের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো ও সুস্থ প্রাণশক্তি আর কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে কিনা— সে প্রশ্ন রেখেই পোস্টটি শেষ করেন তিনি।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho