প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২৬, ১১:০১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২৬, ৫:৩৪ পি.এম
ফ্যাসিবাদের দোসররা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: চট্টগ্রাম প্রেস নেতৃবৃন্দ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটিকে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা এবং ক্লাবের ঐতিহ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ।
আজ শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের, চট্টগ্রামে সম্পাদক পরিচয়ে পরিচিত এক ব্যক্তির প্ররোচনায়, তার ফেসবুক পেজে একপেশে ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এটি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের বিভিন্ন মহলকে বিভ্রান্ত করার একটি অপচেষ্টা।
বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অপকর্ম এবং দুর্নীতি নিয়ে সাহসিকতাপূর্ণ প্রতিবেদনের মাধ্যমে সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে পরিচিতি লাভ করেছেন, তা আমাদের নিকট প্রশংসিত ছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ একপেশে, উসকানিমূলক এবং সত্যের অপলাপ মাত্র। আমরা মনেকরি চট্টগ্রামে ফ্যাসিবাদের দোসররা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্পর্কে উনাকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সরবরাহ করছে।
উক্ত বিভ্রান্তি নিরসনে এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বক্তব্য হচ্ছে-
বিনোদনমূলক কর্মসূচি (হাউজি) সংক্রান্ত বিভ্রান্তি
জুলকারনাইন সায়ের চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের একটি সামাজিক সমাবেশ (হাউজি) নিয়ে আপত্তি তুলে বর্তমান কমিটিকে দায়ী করছেন। অথচ তিনি খোঁজ নিলে জানতে পারবেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোতে দীর্ঘকাল ধরে নির্ধারিত নিয়ম মেনে এই ধরনের বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ক্লাবের সদস্যদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। পূর্ববর্তী সকল কমিটির আমলেও এটি সচল ছিল, অথচ বর্তমান কমিটিকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ফ্যাসিবাদের দোসরদের পৃষ্ঠপোষকতা
গত ১৭ বছর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকে ফ্যাসিবাদী সাংবাদিক গোষ্ঠী কুক্ষিগত করে রেখেছিল। সেখানে ফ্যাসিবাদের অনুগত সাংবাদিক ছাড়া অন্য সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। জুলকারনাইন সায়ের সম্ভবত জানেন না যে, এই ফ্যাসিবাদী সাংবাদিকরাই জুলাই বিপ্লবের সময় রাজপথে থাকা ছাত্র-জনতা এবং নারী শিক্ষার্থীদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে, এমনকি গোয়েন্দা সংস্থাকে তথ্য দিয়ে মুক্তিকামী মানুষের ওপর নির্যাতন চালাতে সহায়তা করেছে। আজ যখন সেই বঞ্চিত সাংবাদিকরা তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছেন, তখন সায়ের সাহেবের পোস্টগুলো কার্যত সেই পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসরদেরই সমর্থন যোগাচ্ছে।
প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করুন
আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে, আওয়ামী আমলের লুটপাটের টাকা এবং ইয়াবা ব্যবসার অবৈধ অর্থে যারা সংবাদপত্র খুলে বসেছেন এবং জুলাই আন্দোলনে খুনের সাথে যারা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, তারাই এখন সংঘবদ্ধভাবে বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি শহীদ আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার আসামিদের পৃষ্ঠপোষকতায়ও এই গোষ্ঠীর নাম উঠে আসছে।
বর্তমান কমিটির মানবিক অবস্থান
জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে এই ফ্যাসিবাদী সাংবাদিকদের রক্ষা করেছিলেন বর্তমান কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকরাই। অথচ সেই সাংবাদিক গোষ্ঠী এখন অনুশোচনার পরিবর্তে পুনরায় দখলদারিত্বের স্বপ্নে বিভোর হয়ে লবিং ও প্রোপাগান্ডায় লিপ্ত হয়েছে।
আমাদের আহ্বান: আমরা সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সাহেবকে অনুরোধ করব, আপনি প্রকৃত সত্য যাচাই না করে অগণতান্ত্রিক এবং লুটপাটকারী চক্রের ক্রীড়নক হবেন না। যারা সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে ইয়াবা ব্যবসা, লুটপাট এবং ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতনে লিপ্ত ছিল, তাদের মুখোশ উন্মোচন করাই হবে আপনার মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিকের প্রকৃত কাজ। আমরা আপনাকে বর্তমান কমিটির সাথে সরাসরি কথা বলার এবং প্রকৃত চিত্র সরেজমিনে দেখার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সবসময় স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় আপোসহীন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho