ইবি প্রতিনিধি:
পবিত্র মাহে রমজান ও আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মানবিক বিবেচনায় চলতি মাসের পূর্ণ বেতন ও ঈদ বোনাস পাচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই বিরোধীরা। তবে আগামী মাস থেকে পুনরায় পূর্বের ন্যায় শাস্তির আওতায় আসবেন তারা। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মনজুরুল হক এ তথ্য জানান। এ ঘটনায় বিএনপিপন্থী কর্মকর্তার উচ্ছ্বাসসহ মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত ১৭ জন শিক্ষক ও ১১ জন কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ফেব্রুয়ারি মাসের পূর্ণ বেতন এবং ঈদ বোনাস দেওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে তাঁরা শুধুমাত্র জীবনধারণ ভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে আগামী মাস থেকে পুনরায় পূর্বের ন্যায় শাস্তির আওতায় আসবে।
বিশেষ বিবেচনায় পূর্ণ বেতন ও ঈদ বোনাস প্রাপ্তরা হচ্ছেন—ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন, প্রফেসর ড. তপন কুমার জোয়াদ্দার, অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. দেবাশীষ শর্মা, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী প্রফেসর শহিদুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. বাকী বিল্লাহ ও প্রফেসর ড. রবিউল হোসেন, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের প্রফেসর ড. শেলীনা নাসরিন, ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ড. এ. এইচ. এম আক্তারুল ইসলাম ও প্রফেসর ড. মিয়া রাশিদুজ্জামান, প্রফেসর ড. আফরোজা বানু, আইন বিভাগের প্রফেসর ড. শাহজাহান মণ্ডল ও প্রফেসর ড. রেবা মণ্ডল, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী প্রফেসর মাজেদুল হক, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের প্রফেসর ড. আমজাদ হোসেন, ল অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী প্রফেসর মেহেদী হাসান এবং সিএসই বিভাগের সহযোগী প্রফেসর জয়শ্রী সেন।
এছাড়াও প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার আলমগীর হোসেন খান, ড. ইব্রাহীম হোসেন সোনা ও আব্দুল হান্নান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরের সহকারী রেজিস্ট্রার ও কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ হাসান মুকুট, একই দফতরের উপ-রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম সেলিম, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শাখা কর্মকর্তা উকীল উদ্দিন, ফার্মেসি বিভাগের জাহাঙ্গীর আলম (শিমুল), আইসিটি সেলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জে এম ইলিয়াস, অর্থ ও হিসাব বিভাগের শাখা কর্মকর্তা তোফাজ্জেল হোসেন, তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ দফতরের উপ-রেজিস্ট্রার (ফটোগ্রাফি) শেখ আবু সিদ্দিক রোকন এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরের সহকারী রেজিস্ট্রার মাসুদুর রহমান।
এ সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিএনপিপন্থী এক কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ইবির ১১ জন কর্মকর্তার বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার এবং বেতন বোনাস চালু। আজ কবি নজরুলের কবিতার দুটো লাইন মনে পড়ে গেল। আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগ বগিয়ে খুন হাসে। আজকের দিনটি ৪৮৬ জন কর্মকর্তাদের কাছে ঈদের আনন্দের চেয়েও খুশির দিন, আজকের এই দিনে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে লক্ষ কোটি শুকরিয়া ও ইবির মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রো ভাইস চ্যান্সেলর, মাননীয় ট্রেজারার ও হিসাব পরিচালক (ভার) মহোদয় কে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
ভিসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের পরিচালক ও বিএনপিপন্থী আরেক কর্মকর্তা ড. ওয়ালিদ হাসান পিকুল তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন, জুলাই বিপ্লবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপরাধ শিক্ষক, কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় না আনতে মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলরকে অনুরোধ করা হয়েছিল। তিনি মঞ্জুর করেছেন, ধন্যবাদ মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর।
এছাড়া শাখা বৈষম্যবিরোধী নেতা বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন,
যদি প্রশাসন জুলাই গণহত্যা সমর্থনকারী এবং ফ্যাসিস্টের দোসর শিক্ষক অথবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিঃশর্ত ক্ষমা করে দেওয়ার কথা চিন্তা করে, তাহলে আমি প্রশাসনকে বলে দিতে চাই, যারা আগস্টের ৪ তারিখে জুলাই বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে "আর নয়-হেলা ফেলা, এবার হবে- ফাইনাল খেলা" স্লোগান দিয়েছে, তাদের কোনোভাবেই ক্ষমা করে দেওয়া যাবে না। অন্যথায় যদি এইটা করতে যান, তাহলে কিন্তু ইবিতে আবারও জুলাই নেমে আসবে। গণহত্যাকারী এবং সমর্থনকারী কারো সাথে কোনো আপোষ নেই।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে মানবিক বিবেচনায় তাদেরকে এক মাসের (ফেব্রুয়ারি) পূর্ণবেতন এবং ঈদ বোনাস প্রদান করা হবে। তবে শাস্তি মাফ করা হয়নি৷ পরের মাস থেকে পুনরায় পূর্বের ন্যায় জীবনধারণ ভাতা পাবেন৷
উল্লেখ্য, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় ১৯ শিক্ষক ও ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিরোধী ভূমিকার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। পরে মানবিক বিবেচনায় দুই শিক্ষককে শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেয় প্রশাসন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho