সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এখনও ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার সন্ত্রাসবাদী সক্রিয় পাকিস্তানে, স্বীকারোক্তি ইমরানের

শেখ নাছির উদ্দিন : স্টাফ  রিপোর্টার ।। 

পাকিস্তানে বর্তমানে ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী রয়েছে। ইনস্টিটিউট অফ পিস-এ মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বৈঠকে উঠে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। এছাড়াও, গত ১৫ বছরে পাক সরকার কখনও যে সত্যিটা জানায়নি আমেরিকাকে, তা হল আমেরিকা যখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সে সময় পাকিস্তানে ৪০টি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন সক্রিয় ছিল। ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার এমনই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি শোনা গেল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বক্তব্যে।

মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যা শিলা জ্যাকসন লি আয়োজিত ক্যাপিটল হিলের নৈশভোজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধে আমরাও লড়ছি। ৯/১১-র সঙ্গে পাকিস্তানের কোনও সম্পর্ক নেই। আল-কায়দা আফগানিস্তানে ছিল। পাকিস্তানে কোনও সন্ত্রাসবাদী তালিবান ছিল না। তবু আমরা আমেরিকার যুদ্ধে সামিল হয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যখন কোনও কিছুই ঠিকঠাক চলছিল না, তখন আমার সরকারের উপর দোষারোপ করে বলছি আমরা আমেরিকাকে যথার্থ সত্য বলিনি। পাকিস্তান থেকে ৪০টি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন কাজ করছিল। ফলে পাকিস্তান এমন একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, যেখানে আমাদের মতো নাগরিকরা বেঁচে থাকবে কি না চিন্তায় ছিল। সে জন্য আমেরিকা যখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের থেকে আরও বেশি কিছু আশা করেছিল, তখন পাকিস্তান নিজের অস্তিত্বের জন্য লড়াই চালাচ্ছিল।” তালিবানকে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য পাকিস্তান চেষ্টা চালিয়েছে বলে জানান পাক প্রধানমন্ত্রী।

এরপর তিনি বলেন, তাঁর পাকিস্তান তেহরীক-ই-ইনসাফ ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত পূর্ববর্তী সরকারের সন্ত্রাস দমনে কোনও ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা’ ছিলই না। তিনি বলেছেন, “আমরা ক্ষমতায় আসার আগে সন্ত্রাস দমনে সরকারের কোনও ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা’ই ছিল না। এখন সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কথা উঠলে পাকিস্তানে ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী রয়েছে, যাদের আফগানিস্তান এবং কাশ্মীরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রথমবার সন্ত্রাস দমনে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পাকিস্তান সরকার।” তাঁর সফরের পর আমেরিকা-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা প্রকাশ করে ইমরান বলেন, “দুই দেশের অবিশ্বাসের সম্পর্ক আমাদের কাছে খুবই বেদনাদায়ক। আশা করি এর পর থেকে আমাদের সম্পর্ক সম্পূর্ণ বদলে যাবে।”

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

জনপ্রিয়

শার্শায় বিএনপির আলোচনা সভা

এখনও ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার সন্ত্রাসবাদী সক্রিয় পাকিস্তানে, স্বীকারোক্তি ইমরানের

প্রকাশের সময় : ০৮:০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০১৯
শেখ নাছির উদ্দিন : স্টাফ  রিপোর্টার ।। 

পাকিস্তানে বর্তমানে ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী রয়েছে। ইনস্টিটিউট অফ পিস-এ মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বৈঠকে উঠে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। এছাড়াও, গত ১৫ বছরে পাক সরকার কখনও যে সত্যিটা জানায়নি আমেরিকাকে, তা হল আমেরিকা যখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সে সময় পাকিস্তানে ৪০টি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন সক্রিয় ছিল। ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার এমনই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি শোনা গেল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বক্তব্যে।

মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যা শিলা জ্যাকসন লি আয়োজিত ক্যাপিটল হিলের নৈশভোজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধে আমরাও লড়ছি। ৯/১১-র সঙ্গে পাকিস্তানের কোনও সম্পর্ক নেই। আল-কায়দা আফগানিস্তানে ছিল। পাকিস্তানে কোনও সন্ত্রাসবাদী তালিবান ছিল না। তবু আমরা আমেরিকার যুদ্ধে সামিল হয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যখন কোনও কিছুই ঠিকঠাক চলছিল না, তখন আমার সরকারের উপর দোষারোপ করে বলছি আমরা আমেরিকাকে যথার্থ সত্য বলিনি। পাকিস্তান থেকে ৪০টি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন কাজ করছিল। ফলে পাকিস্তান এমন একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, যেখানে আমাদের মতো নাগরিকরা বেঁচে থাকবে কি না চিন্তায় ছিল। সে জন্য আমেরিকা যখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের থেকে আরও বেশি কিছু আশা করেছিল, তখন পাকিস্তান নিজের অস্তিত্বের জন্য লড়াই চালাচ্ছিল।” তালিবানকে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য পাকিস্তান চেষ্টা চালিয়েছে বলে জানান পাক প্রধানমন্ত্রী।

এরপর তিনি বলেন, তাঁর পাকিস্তান তেহরীক-ই-ইনসাফ ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত পূর্ববর্তী সরকারের সন্ত্রাস দমনে কোনও ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা’ ছিলই না। তিনি বলেছেন, “আমরা ক্ষমতায় আসার আগে সন্ত্রাস দমনে সরকারের কোনও ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা’ই ছিল না। এখন সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কথা উঠলে পাকিস্তানে ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী রয়েছে, যাদের আফগানিস্তান এবং কাশ্মীরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রথমবার সন্ত্রাস দমনে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পাকিস্তান সরকার।” তাঁর সফরের পর আমেরিকা-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা প্রকাশ করে ইমরান বলেন, “দুই দেশের অবিশ্বাসের সম্পর্ক আমাদের কাছে খুবই বেদনাদায়ক। আশা করি এর পর থেকে আমাদের সম্পর্ক সম্পূর্ণ বদলে যাবে।”