
মনিরুল আলম মিশর :=
ভারতের তিনটি বন্দর ব্যবহার করে ইউরোপ, আমেরিকাসহ তৃতীয় দেশে রফতানির প্রস্তাবে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। প্রস্তাবে যে তিনটি বন্দরের কথা বলা হয়েছে সেগুলোয় নিয়মিত মাদার ভ্যাসেল না আসা এবং ওই বন্দরগুলো দিয়ে পণ্য রফতানি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক না হওয়ায় প্রস্তাবটি ‘না’ করে দেয়া হয়েছে। তবে নিয়মিত মাদার ভ্যাসেল এলে প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলেও ভারতকে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি এক চিঠিতে এসব বিষয় জানিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। বিষয়টি ভারতকে জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে।
সরকারের এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজারস ফোরামের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, রফতানিকারকরা প্রধানত চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ফিডার ভ্যাসেলে রফতানি পণ্য শ্রীলংকার কলম্বো, মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং ও সিঙ্গাপুর বন্দরে পাঠান। সেখান থেকে মাদার ভ্যাসেলে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়। ভারতীয় বন্দর থেকে ফিডার ভ্যাসেলে অন্য দেশে পাঠিয়ে মাদার ভ্যাসেলে পণ্য উঠাতে গেলে সময় বেশি লাগবে। তবে এসব বন্দরে মাদার ভ্যাসেল এলে তা ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক হবে।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমান চুক্তির আওতায় ভারত হয়ে তৃতীয় দেশে পণ্য আমদানি বা রফতানির সুযোগ নেই। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের বিধান রয়েছে। এমনকি ভারত বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে শুধু ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধার জন্য। এ দুটি বন্দর থেকে তৃতীয় দেশে রফতানির সুযোগ পায়নি। তারা বলেন, পণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ একটি আন্তর্জাতিক চেইন মেনটেইন করছে। ভারতের মাধ্যমে পণ্য রফতানি করার সিদ্ধান্ত নিলে ওই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের কলকাতা, বিশাখাপত্তম ও কৃষ্ণপত্তম বন্দর দিয়ে ইউরোপ বা আমেরিকার দেশগুলোয় পণ্য পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করে আসছে দেশটি। সর্বশেষ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। ভারতের প্রস্তাবে বলা হয়, ঢাকার অদূরে অবস্থিত পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল দিয়ে যেসব পণ্য রফতানি হয়, সেগুলো ভারতের বন্দর দিয়ে রফতানি হতে পারে। এতে সময় ও খরচ কমবে। এটি চালু করতে হলে কোস্টাল শিপিং চুক্তির ৫(২) ধারা এবং পিআইডব্লিউটিএন্ডটির ১১(২) ধারা সংশোধন আনার প্রস্তাব করা হয়।
প্রস্তাবে ভারতের ব্যবসায়িক সংগঠন অ্যাসোসিয়েট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অব ইন্ডিয়ার বরাত দিয়ে বলা হয়, ভারতের পণ্য নিয়ে আসা কার্গো জাহাজগুলো খালি যায় বলে শিপিং লাইনারদের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে পণ্য পরিবহন ব্যয় ও স্থলবন্দরে যানজট বাড়ছে। এটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমবে। ঢাকার পানগাঁও থেকে কলকাতা হয়ে ট্রান্সশিপমেন্ট হলে ব্যয় কমবে এবং এক্সিম ট্রেড বাড়বে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলা হয়েছিল। এরপর নৌ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিভিন্ন সংস্থা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়।
এসব বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা জানান, পানগাঁও বন্দরে বড় আকারে রফতানি কার্যক্রম পরিচালনার মতো কাস্টমস সুবিধা এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কোস্টাল জাহাজে ভারতে পণ্য নেয়া এবং সেখান থেকে ফিডার ভ্যাসেলে আবার সেই পণ্য লোড করতেই অনেক সময় চলে যাবে। এভাবে কয়েক দফায় পণ্য ওঠানামায় খরচও বাড়বে।
এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, পণ্য রফতানি কার্যক্রম কোস্টাল শিপিং চুক্তির আওতায় করতে হবে। পিআইডব্লিউটিএন্ডটির মাধ্যমে তা করা যাবে না। এতে জটিলতা বাড়বে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে আপাতত ভারত হয়ে পণ্য রফতানির প্রস্তাব নাকচ করেছে বাংলাদেশ।
নিজস্ব সংবাদদাতা 





















