
আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান :=
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীর নয়া পল্টনে সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ শুরু হয়। এরই মধ্যে হাজারো নেতাকর্মীর ভীড়ে সমাবেশস্থল লোকে লোকারণ্য। স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল নয়া পল্টন।
‘খালেদা জিয়া জেলে কেন জবাব চাই জবার চাই’, ‘জেলে নিলে আমায় নে, আমার মাকে মুক্তি দে’, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই দিতে হবে দিয়ে দাও’, এরকম শ্লোগান দিচ্ছেন সেখানে উপস্থিত বিএনপি কর্মীরা।
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির সমাবেশে শুরু হয়েছে। সমাবেশ উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ বানানো হয়েছে। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ওলামা দলের সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা নজরুল ইসলামের কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করেছে বিএনপি। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সমাবেশের ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাবেশকে কেন্দ্র করে বেলা ১২টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের নামে থাকা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দেন।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লা বুলু, মো. শাহজাহান ড. এজেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবীব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতানান সালাউদ্দিন টুকু, ওলামা দলের সভাপতি শাহ নেছারুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।
সমাবেশে ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বলেন, ‘শেখ হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে। গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য রাজপথে থেকে কর্মসূচি সফল করতে হবে।’
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘কেয়ারটেকার সরকার বাতিল করার পরই জনগণ বুঝতে পারে এই সরকারের নীলনকশা। ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের নামে জাতীয় তামাশা করা হয়েছিল। আমরা সিটি নির্বাচন ভেবেছিলাম সুষ্ঠুভাবে করবে, কিন্তু জনগণ দেখেছে নির্বাচন কীভাবে চুরি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে দেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধ করেছে। দেশের মালিকানা হবে দেশের মানুষের। আওয়ামী লীগ কখনও ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলে বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থাসহ প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে।’ তার বক্তব্যের পর থেকে নেতাকর্মীরা সাবাস-সাবাস বলে স্লোগান দেন।
তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘দেশবাসী বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। দেশের সব মানুষ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির অপেক্ষায় আছে।’ এদিকে সমাবেশ শুরুর আগে থেকেই ফকিরাপুল থেকে নয়াপল্টনমুখী সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘অনুমতির পর বিএনপি সমাবেশ শুরু করেছে। সমাবেশ স্থলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ নয়াপল্টন, নাইটিঙ্গেল মোড়, কাকরাইল, শান্তিনগর, ফকিরাপুল, পুরানা পল্টন মোড়ে পুলিশ দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে প্রথমে পাঁচ বছরের সাজা দেন আদালত। এরপর পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ বাতিল চেয়ে করা আপিলে সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন উচ্চ আদালত। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩৩টি মামলা বিচারাধীন।
নিজস্ব সংবাদদাতা 







































