বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সারওয়ারসহ তিন ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা বাতিল চেয়ে রিট

আব্দুল লতিফ :=

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে সারওয়ার আলমসহ র‌্যাবের তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা বাতিল করতে হাইকোর্টে একটি সম্পূরক রিট আবেদন করা হয়েছে। সারওয়ার আলম ছাড়া অন্য যে দুজনের ক্ষমতা বাতিল চাওয়া হয়েছে তারা হলেন আক্তারুজ্জামান ও নিজাম উদ্দিন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিশুদের দণ্ডের বিরুদ্ধে জারি করা রুলের সঙ্গে সম্পূরক আবেদনটি আদেশের জন্য রাখা হয়েছে। চিলড্রেন’স চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (সিসিবি ফাউন্ডেশন) পক্ষে এ আবেদনটি করা হয়েছে।

বুধবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রায় দেবেন।

আবেদনে ওই তিন ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- একই সময়ের মধ্যে দুই জায়গায় (শিশুমেলা ও ফার্মগেট) মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অভিযোগ, যা ক্ষমতার অপব্যবহার। একই সাক্ষীরা বার বার বিভিন্ন জায়গায় এসেছেন। এক ধারার অপরাধ দেখিয়ে ভিন্ন ধারায় চার্জগঠন। চলন্ত ভ্যান থেকে কলা চুরির অপরাধে ৬ মাসের সাজা, যা মোবাইল কোর্ট দিতে পারে না।  ৯, ১০ ও ১১ বছর বয়সী শিশুদের সাজা দেওয়া হয়েছে, যেখানে দণ্ডবিধির ৮৩ ধারা অনুযায়ী ১২ বছরের নিচের শিশুদের সাজা দেওয়া যায় না।  আবেদনে বলা হয়েছে, সাজানো সাক্ষী, সাজানো মামলা আর ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার করেছেন তারা।

জোর করে শিশুদের স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগও আনা হয়েছে। যা সংবিধানের ৩৩ ও ৩৫ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ৩১ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিশুদের দেওয়া দণ্ড ও আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। একইসঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া দণ্ডে যশোর ও টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অন্তরীণ ১২১ শিশুকে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতের আদেশে পরে এসব শিশুদের মুক্তি দেওয়া হয়।

‘আইনে মানা, তবু ১২১ শিশুর দণ্ড’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি নজরে নিয়ে আদালত শিশুদের মুক্তির নির্দেশ ও রুল জারি করেন।প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন চিলড্রেন’স চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (সিসিবি ফাউন্ডেশন) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

জনপ্রিয়

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ায় অমিতকে প্রেসক্লাব বেনাপোলের অভিনন্দন

সারওয়ারসহ তিন ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা বাতিল চেয়ে রিট

প্রকাশের সময় : ০২:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২০
আব্দুল লতিফ :=

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে সারওয়ার আলমসহ র‌্যাবের তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা বাতিল করতে হাইকোর্টে একটি সম্পূরক রিট আবেদন করা হয়েছে। সারওয়ার আলম ছাড়া অন্য যে দুজনের ক্ষমতা বাতিল চাওয়া হয়েছে তারা হলেন আক্তারুজ্জামান ও নিজাম উদ্দিন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিশুদের দণ্ডের বিরুদ্ধে জারি করা রুলের সঙ্গে সম্পূরক আবেদনটি আদেশের জন্য রাখা হয়েছে। চিলড্রেন’স চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (সিসিবি ফাউন্ডেশন) পক্ষে এ আবেদনটি করা হয়েছে।

বুধবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রায় দেবেন।

আবেদনে ওই তিন ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- একই সময়ের মধ্যে দুই জায়গায় (শিশুমেলা ও ফার্মগেট) মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অভিযোগ, যা ক্ষমতার অপব্যবহার। একই সাক্ষীরা বার বার বিভিন্ন জায়গায় এসেছেন। এক ধারার অপরাধ দেখিয়ে ভিন্ন ধারায় চার্জগঠন। চলন্ত ভ্যান থেকে কলা চুরির অপরাধে ৬ মাসের সাজা, যা মোবাইল কোর্ট দিতে পারে না।  ৯, ১০ ও ১১ বছর বয়সী শিশুদের সাজা দেওয়া হয়েছে, যেখানে দণ্ডবিধির ৮৩ ধারা অনুযায়ী ১২ বছরের নিচের শিশুদের সাজা দেওয়া যায় না।  আবেদনে বলা হয়েছে, সাজানো সাক্ষী, সাজানো মামলা আর ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার করেছেন তারা।

জোর করে শিশুদের স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগও আনা হয়েছে। যা সংবিধানের ৩৩ ও ৩৫ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ৩১ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিশুদের দেওয়া দণ্ড ও আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। একইসঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া দণ্ডে যশোর ও টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অন্তরীণ ১২১ শিশুকে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতের আদেশে পরে এসব শিশুদের মুক্তি দেওয়া হয়।

‘আইনে মানা, তবু ১২১ শিশুর দণ্ড’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি নজরে নিয়ে আদালত শিশুদের মুক্তির নির্দেশ ও রুল জারি করেন।প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন চিলড্রেন’স চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (সিসিবি ফাউন্ডেশন) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম।