মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কৃষক বাঁচাতে ১ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ট্রাম্পের

US President Donald Trump speaks during the daily briefing on the novel coronavirus, which causes COVID-19, in the Brady Briefing Room of the White House on April 17, 2020, in Washington, DC. (Photo by JIM WATSON / AFP)

নুরুজ্জামান লিটন ।। 

করোনাভাইরাসের কারণে সংকটে পড়া কৃষক, খামারি ও কৃষিশিল্প বাঁচাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। চলমান দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে তাদের জন্য বিশাল অঙ্কের আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কৃষক, খামারি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পগুলো যাতে অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে সে জন্য শুক্রবার ১,৯০০ কোটি ডলারের আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। বাংলাদেশ টাকায় অঙ্কটা ১ লাখ ৬১ হাজার কোটির ওপরে!সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার প্রধান বলেন, “আমাদের অসাধারণ কৃষক ও খামারিদের সহায়তায় ১৯ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা দেওয়া হবে, যাতে তারা বৈশ্বিক মহামারির কারণে সৃষ্ট মন্দার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।”

এর আওতায় কৃষক, খামারি ও কৃষিপণ্য উৎপাদনকারীদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ট্রাম্পের ভাষায় তারা, এই মহামারিতে ‘নজিরবিহীন’ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

দেশটির কৃষিমন্ত্রী মন্ত্রী সনি পেরডু জানান, চলমান লকডাউনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় এবং নাগরিকদের অধিকাংশই এখন ঘরে খাবার খাওয়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছে কৃষকেরা। খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ায় অনেক খামারিরা তাদের দুগ্ধজাত পণ্য ফেলে দিয়েছে। কোনো ক্রেতা না থাকায় নষ্ট হচ্ছে ফসলাদি।

পেরডু বলেন, “বাজারজাত করণের জন্য প্রস্তুত দুগ্ধজাত পণ্য ফেলে দেওয়া এবং শাক শবজি বিনষ্ট করা কেবল অর্থনীতিক ক্ষতিই নয়, যারা এসব উৎপাদনে জড়িত তাদের জন্য এটা হৃদয় বিদারকও।”

কৃষিমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের থেকে সরাসরি পণ্য ও দুধ কিনে কমিউনিটির ফুড ব্যাংকগুলোতে সরবরাহের জন্য ব্যয় করা হবে ৩০০ কোটি ডলার।

চলমান করোনা সংকটে চাকরি হারা হয়ে খাবার ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রমুখী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ নাগরিক। এসব ফুড ব্যাংকে কৃষিপণ্যের জোগানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী পেরডু।

করোনার কারণে খাদ্য-দ্রব্য প্রস্তুত ও মাড়াইয়ের জন্য মৌসুমি শ্রমিক সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকেরা। এই দুর্যোগ বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে মাংস প্রস্তুতকারী প্লান্টগুলোর জন্য। তা ছাড়া চলমান সংকটে নাগরিকদের খাদ্যাভ্যাস বদলের ব্যাপারটিও কৃষকদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ নিয়ে সম্প্রতি আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো জানায় স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, রেস্টুরেন্ট, বার, ক্যাফেটেরিয়াগুলো এখন আর দুধ, মাংস, ফল, শাক সবজি ও অন্যান্য খাদ্য-দ্রব্য কিনছে না। তাতে খাদ্য-শস্য ও মাংস উৎপাদনকারী প্রাণীর দামে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতে সবার ওপরে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৭০০।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

জনপ্রিয়

ইচ্ছামতো চাঁদাবাজি চলছে রাজস্থলীর বাঙ্গালহালিয়ায় সূর্য মেলায়

কৃষক বাঁচাতে ১ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ট্রাম্পের

প্রকাশের সময় : ১১:০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২০
নুরুজ্জামান লিটন ।। 

করোনাভাইরাসের কারণে সংকটে পড়া কৃষক, খামারি ও কৃষিশিল্প বাঁচাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। চলমান দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে তাদের জন্য বিশাল অঙ্কের আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কৃষক, খামারি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পগুলো যাতে অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে সে জন্য শুক্রবার ১,৯০০ কোটি ডলারের আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। বাংলাদেশ টাকায় অঙ্কটা ১ লাখ ৬১ হাজার কোটির ওপরে!সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার প্রধান বলেন, “আমাদের অসাধারণ কৃষক ও খামারিদের সহায়তায় ১৯ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা দেওয়া হবে, যাতে তারা বৈশ্বিক মহামারির কারণে সৃষ্ট মন্দার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।”

এর আওতায় কৃষক, খামারি ও কৃষিপণ্য উৎপাদনকারীদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ট্রাম্পের ভাষায় তারা, এই মহামারিতে ‘নজিরবিহীন’ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

দেশটির কৃষিমন্ত্রী মন্ত্রী সনি পেরডু জানান, চলমান লকডাউনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় এবং নাগরিকদের অধিকাংশই এখন ঘরে খাবার খাওয়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছে কৃষকেরা। খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ায় অনেক খামারিরা তাদের দুগ্ধজাত পণ্য ফেলে দিয়েছে। কোনো ক্রেতা না থাকায় নষ্ট হচ্ছে ফসলাদি।

পেরডু বলেন, “বাজারজাত করণের জন্য প্রস্তুত দুগ্ধজাত পণ্য ফেলে দেওয়া এবং শাক শবজি বিনষ্ট করা কেবল অর্থনীতিক ক্ষতিই নয়, যারা এসব উৎপাদনে জড়িত তাদের জন্য এটা হৃদয় বিদারকও।”

কৃষিমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের থেকে সরাসরি পণ্য ও দুধ কিনে কমিউনিটির ফুড ব্যাংকগুলোতে সরবরাহের জন্য ব্যয় করা হবে ৩০০ কোটি ডলার।

চলমান করোনা সংকটে চাকরি হারা হয়ে খাবার ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রমুখী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ নাগরিক। এসব ফুড ব্যাংকে কৃষিপণ্যের জোগানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী পেরডু।

করোনার কারণে খাদ্য-দ্রব্য প্রস্তুত ও মাড়াইয়ের জন্য মৌসুমি শ্রমিক সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকেরা। এই দুর্যোগ বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে মাংস প্রস্তুতকারী প্লান্টগুলোর জন্য। তা ছাড়া চলমান সংকটে নাগরিকদের খাদ্যাভ্যাস বদলের ব্যাপারটিও কৃষকদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ নিয়ে সম্প্রতি আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো জানায় স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, রেস্টুরেন্ট, বার, ক্যাফেটেরিয়াগুলো এখন আর দুধ, মাংস, ফল, শাক সবজি ও অন্যান্য খাদ্য-দ্রব্য কিনছে না। তাতে খাদ্য-শস্য ও মাংস উৎপাদনকারী প্রাণীর দামে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতে সবার ওপরে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৭০০।