বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোগা হতে চান, কী কী খাবার খাবেন?

নুরুজ্জামান লিটন:/=

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বা কোনও শারীরিক সমস্যার কারণে ওজনের পারদ হূ-হূ করে বাড়তে থাকলে, রাশ টানুন ডায়েটের মাধ্যমে। ছিপছিপে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ ডায়েটিশিয়ান।


আমি একজন থাইরয়েডের রোগী। শত চেষ্টা করেও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছি না। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট চার্ট ফলো করেও কোনও লাভ হচ্ছে না। ওজন কমাতে খাওয়াদাওয়ায় ঠিক কী কী পরিবর্তন আনলে উপকার পাব?

যাঁদের থাইরয়েড রয়েছেসাধারণত তাঁদের বিএমআর বা বেসাল মেটাবলিক রেট খুব কম হয় এমনকী কারওর হাইপোথাইরয়েডিজ়ম রয়েছেতা বোঝার অন্যতম উপায় হল ওজন কমাতে সমস্যা হওয়া।এই অবস্থায় ডায়েটিং করলে যেহেতু খাবার থেকে প্রাপ্ত দৈনিক ক্যালরির পরিমাণ আরও কমে যায়তাই ‘মেটাবলিক বার্ন’-এর রেটও দ্রুত কমতে থাকে। একই কারণে যাঁদের লোথাইরয়েড রয়েছেতাঁদের ক্ষেত্রে কড়া ডায়েট রুটিন মেনে চলা সত্বেও ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায় মেটাবলিজ়ম সংক্রান্ত এই সমস্যা ঠিক করতে প্রথমে আপনাকে নিজের শরীরের অবস্থা ভালভাবে বুঝতে হবে। সেলেনিয়ামের মতো নিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্ট এবং স্বাভাবিক মিলপ্ল্যান যদি ঠিকমতো ব্যালান্স করে চলতে পারেনতাহলে শরীরে প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেটের অনুপাতও ঠিক থাকবে। এতে মেটাবলিক রেটও ভাল থাকবে এবং ওজন কমানো সহজ হবে। হাই ফাইবার ডায়েট এবং লোগ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার বেছে নিন। টাটকা ফলসবুজ শাকসবজিব্রাউন ব্রেডহোল হুইটওটসরাঙা আলুবার্লি ইত্যাদি বেশি করে খানঅতিরিক্ত সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে লোডোজ় থাইরয়েড রিপ্লেসমেন্ট হরমোনও নিতে পারেন।

আমার বয়স ৩৬ বছর। প্রেশার ১৪০/৯০। উচ্চতা অনুযায়ী ওজন অনেকটাই বেশি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট এবং এক্সারসাইজ় করে কয়েকমাসে ৭৬ কেজি থেকে ওজন ৭৩-তে এনেছি। তবে চিকিৎসক বলেছেন অন্তত আরও ৮-১০ কেজি ওজন কমানো জরুরি। শুনেছি একমাসে ৭-৮ কেজি অবধি ওজন কমানো সম্ভব। কী ধরনের ডায়েট ও এক্সারসাইজ় করলে দ্রুত ফল পাব?আমাদের ওজনের কিছুটা অংশের জন্য দায়ী শরীরে সঞ্চিত থাকা জল, যাকে সহজ ভাষায় ওয়াটার ওয়েট’ বলা হয়। এই জল সঠিক ডায়েট রুটিন মেনে চললে খুব দ্রুত বেশ খানিকটা ওজন কমে যায়। মোটামুটি এক সপ্তাহেই ২-৪ কেজি ওজন কমানো সম্ভব। তবে তারপর থেকে ওজন কমার গতি হ্রাস পায়। একমাসে মোটামুটি ৪-৫ কেজি ওজন কমানো যেতে পারে। তার বেশি ওজন কমানো একদিকে যেমন স্বাস্থ্যকর নয়, তেমনই খুব দ্রুত ওজন কমে বলে, তা ধরে রাখাও বেশ কঠিন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমতবস্থায় হিতে বিপরীত হয়। তাছাড়া দ্রুত এতখানি ওজন কমলে শরীরের বিভিন্ন অংশে স্ট্রেচমার্ক পড়ারও আশঙ্কা থাকে, যা একবার এলে দূর করা বেশ কঠিন। তাই এক ধাক্কায় অনেকটা ওজন কমানোর চেয়ে ধীরে ধীরে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন। ক্যালরি মেপে খাবার খান। বাইরের খাবার একেবারে বন্ধ করে দিন। সেইসঙ্গে তেল, ময়দা এবং চিনির পরিমাণে লাগাম পড়ান। এই ধরনের উপকরণ যতটা সম্ভব কম খান। নিয়মিত ব্রেকফাস্ট করুন। ব্রাউন ব্রেড, চিনি ছাড়া লিকার টি বা গ্রিন টি, টাটকা ফল, ডিমের সাদা অংশ, দালিয়া, ওটস ইত্যাদি খেতে পারেন। দুপুরে একটা বা দুটো রুটির সঙ্গে গ্রিন স্যালাড, সেদ্ধ ডাল, তরকারি এবং এক টুকরো মাছ বা মাংস খান। রাতের খাবারে স্টু বা সামান্য চিকেন বা কর্নফ্লাওয়ার ছাড়া সুপ খেতে পারেন। রাতে একদম অল্প খান। সন্ধেবেলা খিদে পেলে আমন্ড, অল্প পরিমাণে শুকনো খোলায় ভাজা চিড়ে বা সেদ্ধ ছোলা খেতে পারেন। হাতের কাছে সবসময় মাল্টিগ্রেন হুইট বিস্কুট বা ফল রাখতে পারেন। এর বাইরে স্ন্যাক্স হিসেবে অন্যকিছু খাবেন না। এতে দৈনিক ক্যালরির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

জনপ্রিয়

বার্তাকণ্ঠের সম্পাদক মহসিন মিলনের মায়ের ইন্তেকাল

রোগা হতে চান, কী কী খাবার খাবেন?

প্রকাশের সময় : ০৪:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২০

নুরুজ্জামান লিটন:/=

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বা কোনও শারীরিক সমস্যার কারণে ওজনের পারদ হূ-হূ করে বাড়তে থাকলে, রাশ টানুন ডায়েটের মাধ্যমে। ছিপছিপে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ ডায়েটিশিয়ান।


আমি একজন থাইরয়েডের রোগী। শত চেষ্টা করেও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছি না। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট চার্ট ফলো করেও কোনও লাভ হচ্ছে না। ওজন কমাতে খাওয়াদাওয়ায় ঠিক কী কী পরিবর্তন আনলে উপকার পাব?

যাঁদের থাইরয়েড রয়েছেসাধারণত তাঁদের বিএমআর বা বেসাল মেটাবলিক রেট খুব কম হয় এমনকী কারওর হাইপোথাইরয়েডিজ়ম রয়েছেতা বোঝার অন্যতম উপায় হল ওজন কমাতে সমস্যা হওয়া।এই অবস্থায় ডায়েটিং করলে যেহেতু খাবার থেকে প্রাপ্ত দৈনিক ক্যালরির পরিমাণ আরও কমে যায়তাই ‘মেটাবলিক বার্ন’-এর রেটও দ্রুত কমতে থাকে। একই কারণে যাঁদের লোথাইরয়েড রয়েছেতাঁদের ক্ষেত্রে কড়া ডায়েট রুটিন মেনে চলা সত্বেও ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায় মেটাবলিজ়ম সংক্রান্ত এই সমস্যা ঠিক করতে প্রথমে আপনাকে নিজের শরীরের অবস্থা ভালভাবে বুঝতে হবে। সেলেনিয়ামের মতো নিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্ট এবং স্বাভাবিক মিলপ্ল্যান যদি ঠিকমতো ব্যালান্স করে চলতে পারেনতাহলে শরীরে প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেটের অনুপাতও ঠিক থাকবে। এতে মেটাবলিক রেটও ভাল থাকবে এবং ওজন কমানো সহজ হবে। হাই ফাইবার ডায়েট এবং লোগ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার বেছে নিন। টাটকা ফলসবুজ শাকসবজিব্রাউন ব্রেডহোল হুইটওটসরাঙা আলুবার্লি ইত্যাদি বেশি করে খানঅতিরিক্ত সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে লোডোজ় থাইরয়েড রিপ্লেসমেন্ট হরমোনও নিতে পারেন।

আমার বয়স ৩৬ বছর। প্রেশার ১৪০/৯০। উচ্চতা অনুযায়ী ওজন অনেকটাই বেশি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট এবং এক্সারসাইজ় করে কয়েকমাসে ৭৬ কেজি থেকে ওজন ৭৩-তে এনেছি। তবে চিকিৎসক বলেছেন অন্তত আরও ৮-১০ কেজি ওজন কমানো জরুরি। শুনেছি একমাসে ৭-৮ কেজি অবধি ওজন কমানো সম্ভব। কী ধরনের ডায়েট ও এক্সারসাইজ় করলে দ্রুত ফল পাব?আমাদের ওজনের কিছুটা অংশের জন্য দায়ী শরীরে সঞ্চিত থাকা জল, যাকে সহজ ভাষায় ওয়াটার ওয়েট’ বলা হয়। এই জল সঠিক ডায়েট রুটিন মেনে চললে খুব দ্রুত বেশ খানিকটা ওজন কমে যায়। মোটামুটি এক সপ্তাহেই ২-৪ কেজি ওজন কমানো সম্ভব। তবে তারপর থেকে ওজন কমার গতি হ্রাস পায়। একমাসে মোটামুটি ৪-৫ কেজি ওজন কমানো যেতে পারে। তার বেশি ওজন কমানো একদিকে যেমন স্বাস্থ্যকর নয়, তেমনই খুব দ্রুত ওজন কমে বলে, তা ধরে রাখাও বেশ কঠিন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমতবস্থায় হিতে বিপরীত হয়। তাছাড়া দ্রুত এতখানি ওজন কমলে শরীরের বিভিন্ন অংশে স্ট্রেচমার্ক পড়ারও আশঙ্কা থাকে, যা একবার এলে দূর করা বেশ কঠিন। তাই এক ধাক্কায় অনেকটা ওজন কমানোর চেয়ে ধীরে ধীরে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন। ক্যালরি মেপে খাবার খান। বাইরের খাবার একেবারে বন্ধ করে দিন। সেইসঙ্গে তেল, ময়দা এবং চিনির পরিমাণে লাগাম পড়ান। এই ধরনের উপকরণ যতটা সম্ভব কম খান। নিয়মিত ব্রেকফাস্ট করুন। ব্রাউন ব্রেড, চিনি ছাড়া লিকার টি বা গ্রিন টি, টাটকা ফল, ডিমের সাদা অংশ, দালিয়া, ওটস ইত্যাদি খেতে পারেন। দুপুরে একটা বা দুটো রুটির সঙ্গে গ্রিন স্যালাড, সেদ্ধ ডাল, তরকারি এবং এক টুকরো মাছ বা মাংস খান। রাতের খাবারে স্টু বা সামান্য চিকেন বা কর্নফ্লাওয়ার ছাড়া সুপ খেতে পারেন। রাতে একদম অল্প খান। সন্ধেবেলা খিদে পেলে আমন্ড, অল্প পরিমাণে শুকনো খোলায় ভাজা চিড়ে বা সেদ্ধ ছোলা খেতে পারেন। হাতের কাছে সবসময় মাল্টিগ্রেন হুইট বিস্কুট বা ফল রাখতে পারেন। এর বাইরে স্ন্যাক্স হিসেবে অন্যকিছু খাবেন না। এতে দৈনিক ক্যালরির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণে আসবে।