বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাস্তবমুখি পরিকল্পনা প্রণয়ন

রোকনুজ্জামান রিপন:/=

করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে অগ্রসর হচ্ছে। আর এই সব পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের একক কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বিচক্ষণ ও দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংকট মোকাবিলায় তিনি কৃষি, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করেন। সরকারের হিসাব অনুযায়ী ২৮ জুন পর্যন্ত সারা দেশে দেড় কোটির বেশি পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। প্রধানমত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন এই সংকট যতদিন থাকবে ততদিন তার সরকারের এ পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

দেশের ৬৪ জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২৭ জুন পর্যন্ত সারাদেশে  চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ১৭ মেট্রিক টন এবং বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৪ মেট্রিক টন । এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ১ কোটি ৬২ লাখ ৯৫ হাজার ৯০৪  এবং উপকারভোগী লোকসংখ্যা ৭ কোটি ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯৫ জন।

শিশুখাদ্য সহ অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য নগদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ১২৩ কোটি  টাকা। এর মধ্যে সাধারণ ত্রাণ হিসেবে নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯৫ কোটি ৮৩ লাখ ৭২ হাজার ২৬৪ টাকা এবং বিতরণ করা হয়েছে ৮৮ কোটি ৫৭ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৩ টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ১৭৩ এবং উপকারভোগী লোক সংখ্যা ৪ কোটি  ২৮ লাখ ২২ হাজার ৪১১ জন ।

শিশু খাদ্য সহায়ক হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ২৫ কোটি ২১ লাখ ১৯ হাজার ২৪১ টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ৮ লাখ ১৫ হাজার ২৯১ এবং উপকারভোগী লোকসংখ্যা ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৩ জন।

বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয় বাড়ানো হয়েছে। এই ১০ টাকায় চাল পেতে নতুন ৫০ লাখ রেশন কার্ডসহ মোট ১ কোটি রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে ১ কোটি পরিবারের ৫ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এই প্যাকেজে পোশাক শ্রমিকদের শতভাগ বেতন নিশ্চিত করতে ৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও কৃষকের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, বাজেটে ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি, সহজ শর্তে, জামানত ছাড়াই নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক/ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ কর্মসূচি, কওমি মাদ্রাসাগুলোতে ৮ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সম্মুখ সারির যোদ্ধা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ পুরষ্কার ও প্রণোদনায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই কাজে নিয়োজিত থেকে ডাক্তার নার্স, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যসহ সরকারির কর্মকর্তা ও কর্মচারি মারা গেলে এক্ষেত্রে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৫০ কোটি টাকা।

এদিকে করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনকল্যাণের কথা বিবেচনা করে জাতির পিতার কন্যা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি দীর্ঘদিনের আকাঙ্খিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা স্থগিত করতে। সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়। ২৬ মার্চ থেকে অফিস-আদালতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে মানুষের জীবনের পাশাপাশি জীবিকার ও দেশের অর্থনীতির কথা চিন্তা করে তিনি সময়োচিত সিদ্ধান্ত নেন এবং ৬৬ দিন পর সাধারণ ছুটি তুলে দিয়ে সীমিত পরিসরে সকল কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন।

করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই পদক্ষেপগুলো দেশে বিদেশে ব্যাপক প্রসংশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ-বাণিজ্য বিষয়ক সাময়িকী ফোর্বসের এক নিবন্ধে করোনা ভাইরাস মহামারী মোকাবিলায় দ্রুততার সঙ্গে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করা হয়েছে। কানাডিয়ান লেখক অভিভাহ ভিটেনবার্গ-কক্স তার এ নিবন্ধে লেখেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৬ কোটি ১০ লাখের মত মানুষের দেশ বাংলাদেশ সমস্যা-সংকটের সঙ্গে অপরিচিত নয়। তিনি এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দিয়েছেন, যাকে ‘প্রশংসনীয়’ বলেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম।’

দ্য ইকোনমিস্ট করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনীতির নিরাপত্তা নিয়ে অতি সম্প্রতি যে গবেষণার তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে দেখা যায় ভারত-চীন থেকেও নিরাপদ বাংলাদেশের অর্থনীতি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

জনপ্রিয়

রাজবাড়ীতে বিষাক্ত তামাক চাষে ঝুকছে কৃষক, খাদ্য শস্য উৎপাদন ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা

করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাস্তবমুখি পরিকল্পনা প্রণয়ন

প্রকাশের সময় : ১১:৪৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২০

রোকনুজ্জামান রিপন:/=

করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে অগ্রসর হচ্ছে। আর এই সব পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের একক কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বিচক্ষণ ও দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংকট মোকাবিলায় তিনি কৃষি, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করেন। সরকারের হিসাব অনুযায়ী ২৮ জুন পর্যন্ত সারা দেশে দেড় কোটির বেশি পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। প্রধানমত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন এই সংকট যতদিন থাকবে ততদিন তার সরকারের এ পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

দেশের ৬৪ জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২৭ জুন পর্যন্ত সারাদেশে  চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ১৭ মেট্রিক টন এবং বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৪ মেট্রিক টন । এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ১ কোটি ৬২ লাখ ৯৫ হাজার ৯০৪  এবং উপকারভোগী লোকসংখ্যা ৭ কোটি ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯৫ জন।

শিশুখাদ্য সহ অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য নগদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ১২৩ কোটি  টাকা। এর মধ্যে সাধারণ ত্রাণ হিসেবে নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯৫ কোটি ৮৩ লাখ ৭২ হাজার ২৬৪ টাকা এবং বিতরণ করা হয়েছে ৮৮ কোটি ৫৭ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৩ টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ১৭৩ এবং উপকারভোগী লোক সংখ্যা ৪ কোটি  ২৮ লাখ ২২ হাজার ৪১১ জন ।

শিশু খাদ্য সহায়ক হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ২৫ কোটি ২১ লাখ ১৯ হাজার ২৪১ টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ৮ লাখ ১৫ হাজার ২৯১ এবং উপকারভোগী লোকসংখ্যা ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৩ জন।

বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয় বাড়ানো হয়েছে। এই ১০ টাকায় চাল পেতে নতুন ৫০ লাখ রেশন কার্ডসহ মোট ১ কোটি রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে ১ কোটি পরিবারের ৫ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এই প্যাকেজে পোশাক শ্রমিকদের শতভাগ বেতন নিশ্চিত করতে ৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও কৃষকের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, বাজেটে ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি, সহজ শর্তে, জামানত ছাড়াই নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক/ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ কর্মসূচি, কওমি মাদ্রাসাগুলোতে ৮ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সম্মুখ সারির যোদ্ধা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ পুরষ্কার ও প্রণোদনায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই কাজে নিয়োজিত থেকে ডাক্তার নার্স, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যসহ সরকারির কর্মকর্তা ও কর্মচারি মারা গেলে এক্ষেত্রে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৫০ কোটি টাকা।

এদিকে করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনকল্যাণের কথা বিবেচনা করে জাতির পিতার কন্যা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি দীর্ঘদিনের আকাঙ্খিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা স্থগিত করতে। সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়। ২৬ মার্চ থেকে অফিস-আদালতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে মানুষের জীবনের পাশাপাশি জীবিকার ও দেশের অর্থনীতির কথা চিন্তা করে তিনি সময়োচিত সিদ্ধান্ত নেন এবং ৬৬ দিন পর সাধারণ ছুটি তুলে দিয়ে সীমিত পরিসরে সকল কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন।

করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই পদক্ষেপগুলো দেশে বিদেশে ব্যাপক প্রসংশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ-বাণিজ্য বিষয়ক সাময়িকী ফোর্বসের এক নিবন্ধে করোনা ভাইরাস মহামারী মোকাবিলায় দ্রুততার সঙ্গে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করা হয়েছে। কানাডিয়ান লেখক অভিভাহ ভিটেনবার্গ-কক্স তার এ নিবন্ধে লেখেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৬ কোটি ১০ লাখের মত মানুষের দেশ বাংলাদেশ সমস্যা-সংকটের সঙ্গে অপরিচিত নয়। তিনি এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দিয়েছেন, যাকে ‘প্রশংসনীয়’ বলেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম।’

দ্য ইকোনমিস্ট করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনীতির নিরাপত্তা নিয়ে অতি সম্প্রতি যে গবেষণার তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে দেখা যায় ভারত-চীন থেকেও নিরাপদ বাংলাদেশের অর্থনীতি।