বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুখোমুখি মমতার পুলিশ বনাম মোদির সিবিআই

 দেবুল কুমার দাস ## গত ৪৮ ঘণ্টায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতা শহরে দুটি ঘটনা দেশটির জাতীয় সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে জায়গা করে। এক, রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশি। দুই, বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের বাড়িতে কলকাতা পুলিশে অভিযান এবং রাতে গ্রেফতার। 

কেন্দ্রেীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই পশ্চিমবঙ্গে কয়লা ও গরু পাচারের তদন্ত করছে। অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কয়লা পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে কিনা সেটা তদন্তে মঙ্গলবার দুপুরে অভিষেকের স্ত্রীকে দেড় ঘণ্টা জেরা করেন। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, কয়লা, স্বর্ণ এবং গরু পাচারের সঙ্গে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ রয়েছে। এমন কী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রথম প্রকাশ্যে এক রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে অভিষেকের স্ত্রীর ব্যাংককের অ্যাকাউন্টে পাচারের টাকা জমা পড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই অভিযোগ তোলার ১৫ দিনের মধ্যে সিবিআই অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করে।
তৃণমূলের অভিযোগ, সিবিআই কেন্দ্রেীয় সরকারের সংস্থা। ভোটের আগে তৃণমূলকে চাপে ফেলতে বিজেপি সিবিআই ব্যবহার করছে।

তৃণমূলের এই অভিযোগের পাল্টা অভিযোগ রয়েছে মমতার পুলিশ-সিআইডি নিয়েও। দুদিন আগেই বিজেপির এক যুব নেত্রী পামেলা গোস্বামীকে ১০০ গ্রাম কোকেনসহ গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। ওই নেত্রী আদালতে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বলেছিলেন, এই ঘটনার পেছনে বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের হাত আছে। তাকে ফাঁসানোর জন্য রাকেশের কোনও লোক তার হাতে কোকেন তুলে দিয়েছিল। পামেলার এই অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাকেশের বাড়িতে তল্লাশি চালায় কলকাতা পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিজেপির প্রভাবশালী নেতা রাকেশের আলিপুরের বাড়িতে শুধু পুলিশ তল্লাশি চালায়নি। বরং তল্লাশি শেষে রাকেশের দুই তরুণ ছেলেকেও আটক করে লালবাজারে নিয়ে যায়। বিজেপি নেতোদের অভিযোগ, ভোটের মুখে রাজ্য বিজেপি নেতাদের কায়ে কালি লাগাতেই মমতার পুলিশ অতিসক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।

আরও পড়ুন>>> স্বাধীন ভারতে প্রথম কোনো নারী ফাঁসির অপেক্ষায়

একদিকে মোদির সিবিআই অন্যদিকে মমতার পুলিশ, দুটি সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধেই নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি-তৃণমূল উভয়পক্ষই। যদিও এই অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও সারদা-নারদার ঘটনায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠে।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ২০২১ এর বিধানসভা ভোটের যুযুধান দুটি পক্ষই নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে রাজনৈতিক শক্তি ছাড়াও নিজেদের হাতে থাকে প্রশাসনিক শক্তিও কাজে লাগাতে শুরু করেছে। ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন আরো চমক দেখা যাবে বলেই মনে করছেন তারা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

জনপ্রিয়

টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন: মাহদী আমিন

মুখোমুখি মমতার পুলিশ বনাম মোদির সিবিআই

প্রকাশের সময় : ০১:১৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১

 দেবুল কুমার দাস ## গত ৪৮ ঘণ্টায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতা শহরে দুটি ঘটনা দেশটির জাতীয় সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে জায়গা করে। এক, রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশি। দুই, বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের বাড়িতে কলকাতা পুলিশে অভিযান এবং রাতে গ্রেফতার। 

কেন্দ্রেীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই পশ্চিমবঙ্গে কয়লা ও গরু পাচারের তদন্ত করছে। অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কয়লা পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে কিনা সেটা তদন্তে মঙ্গলবার দুপুরে অভিষেকের স্ত্রীকে দেড় ঘণ্টা জেরা করেন। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, কয়লা, স্বর্ণ এবং গরু পাচারের সঙ্গে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ রয়েছে। এমন কী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রথম প্রকাশ্যে এক রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে অভিষেকের স্ত্রীর ব্যাংককের অ্যাকাউন্টে পাচারের টাকা জমা পড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই অভিযোগ তোলার ১৫ দিনের মধ্যে সিবিআই অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করে।
তৃণমূলের অভিযোগ, সিবিআই কেন্দ্রেীয় সরকারের সংস্থা। ভোটের আগে তৃণমূলকে চাপে ফেলতে বিজেপি সিবিআই ব্যবহার করছে।

তৃণমূলের এই অভিযোগের পাল্টা অভিযোগ রয়েছে মমতার পুলিশ-সিআইডি নিয়েও। দুদিন আগেই বিজেপির এক যুব নেত্রী পামেলা গোস্বামীকে ১০০ গ্রাম কোকেনসহ গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। ওই নেত্রী আদালতে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বলেছিলেন, এই ঘটনার পেছনে বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের হাত আছে। তাকে ফাঁসানোর জন্য রাকেশের কোনও লোক তার হাতে কোকেন তুলে দিয়েছিল। পামেলার এই অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাকেশের বাড়িতে তল্লাশি চালায় কলকাতা পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিজেপির প্রভাবশালী নেতা রাকেশের আলিপুরের বাড়িতে শুধু পুলিশ তল্লাশি চালায়নি। বরং তল্লাশি শেষে রাকেশের দুই তরুণ ছেলেকেও আটক করে লালবাজারে নিয়ে যায়। বিজেপি নেতোদের অভিযোগ, ভোটের মুখে রাজ্য বিজেপি নেতাদের কায়ে কালি লাগাতেই মমতার পুলিশ অতিসক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।

আরও পড়ুন>>> স্বাধীন ভারতে প্রথম কোনো নারী ফাঁসির অপেক্ষায়

একদিকে মোদির সিবিআই অন্যদিকে মমতার পুলিশ, দুটি সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধেই নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি-তৃণমূল উভয়পক্ষই। যদিও এই অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও সারদা-নারদার ঘটনায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠে।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ২০২১ এর বিধানসভা ভোটের যুযুধান দুটি পক্ষই নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে রাজনৈতিক শক্তি ছাড়াও নিজেদের হাতে থাকে প্রশাসনিক শক্তিও কাজে লাগাতে শুরু করেছে। ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন আরো চমক দেখা যাবে বলেই মনে করছেন তারা।