
স্টাফ রিপোর্টার ## হঠাৎ বাদামী ধূলিকণায় ছেয়ে গেল পুরো বেইজিং শহর। কয়েকটি প্রদেশের বাতাস এতটাই দূষিত হয়ে গেছে যে বাদামী কুয়াশায় ঢেকে গেছে সবকিছু। সোমবার সকালে মঙ্গোলিয়া ও চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মরু এলাকা থেকে বাতাসে ভেসে আসে এই ধূলিকণা। এতে সেখানে দূষণের মাত্রা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে।
এদিন সকালে এমন দূষণের পর চীনের আবহাওয়া প্রশাসন একটি হলুদ সতর্ক বার্তা ঘোষণা করেছে। তারা জানিয়েছে, বালু ঝড়টি মঙ্গোলিয়া থেকে বেইজিংকে ঘিরে গ্যানসু, শানসি এবং হুবেই প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
সেখানকার বাতাস এতটাই ভারী আর দূষিত হয়ে গেছে যে নগরবাসীকে দমবন্ধ হয়ে যাওয়া সেই বাতাস থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য মাস্ক, গগলস এবং মাথায় চুলের টুপি ব্যবহার করতে হচ্ছে। বাতাস এতটাই ঘোলাটে হয়ে গেছে যে ফরবিডেন সিটির ল্যান্ডমার্ক এবং রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রধান কার্যালয়টিও ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না।
নগর সরকার সমস্ত স্কুলকে বাইরের খেলাধুলা এবং ইভেন্টগুলি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে। শ্বাসকষ্ট আছে এমন রোগীদের ঘরে থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গ্লোবাল টাইমস পত্রিকা জানিয়েছে, সোমবার বেইজিংয়ের বায়ুর মানের সূচক সর্বোচ্চ ৫০০ তে গিয়ে পৌঁছেছে। শহরের ছয়টি স্থানে পিএম১০ নামে পরিচিত উড়ন্ত কণার মাত্রা দাঁড়িয়েছে প্রতি কিউবিক মিটারে ৮ হাজার ১শ মাইক্রোগামে। এর ফলে দৃষ্টিসীমা দাঁড়িয়েছে ৩শ থেকে ৮শ মিটারের মধ্যে।
বায়ু মান সূচক একিউআইতে ৫১ থেকে ১০০ স্কোর পাওয়ার মানে হলো বাতাসের মান গ্রহণযোগ্য। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর পাওয়ার অর্থ হচ্ছে বাতাসের মান দূষিত। আর মান ২০১ থেকে ৩০০ হলে মানুষ লক্ষণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এ সময় মানুষকে বাড়ির ভেতরে থাকতে ও তাদের কার্যক্রম সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ফুসফুসে প্রবেশে সক্ষম আরও ছোট কণা পিএম২.৫ এর মাত্রাও অনেক বেড়ে গিয়েছে। সোমবার এর মাত্রা পৌঁছেছে প্রতি কিউবিক মিটারে ৩শ মাইক্রোগ্রামে। যা চীনের সাধারণ মাত্রা ৩৫ মাইক্রোমের চেয়ে অনেক বেশি। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন পিএম ১০ এর ঘনত্ব সর্বোচ্চ ৫০ মাইক্রোগ্রামের বেশি হলে তা মানবদেহে মারাত্মক ক্ষতি করে বলে জানিয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা ও রয়টার্স
নিজস্ব সংবাদদাতা 






































