সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে প্রথম দিনে কঠোরভাবে পালিত হচ্ছে লকডাউন

যশোর ব্যুরো ##

যশোরে বেশ কঠোরভাবে পালিত হচ্ছে সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দিন। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শহর ছিল প্রায় ফঁকা। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অধিকাংশ মানুষ ঘরের বাইরে বের হয়নি। যারা নির্দেশনা অমান্য করেছেন তাদেরকে কড়া সতর্কতা দেখিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠিয়েছে পুলিশ। সকাল থেকে লকডাউন পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নে মাঠে ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। খোদ পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার মাঠে থেকে কার্যক্রম তদারকি করেছেন।
করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার আজ বুধবার থেকে দেশব্যাপী কঠোর বা সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করে। লকডাউনে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে যশোর। সকাল থেকে শহর ছিল প্রায় ফাঁকা। শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানায় ছিল না মানুষের কোলাহল। সেখানে অবস্থান নেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। দু’-একজন যারা নির্দেশনা অমান্য করছেন তাদেরকে কঠোরভাবে সতর্ক করে বাড়িতে ফেরত পাঠাতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের।

মাত্র একদিন আগে শহরের বড়বাজারে যেখানে মানুষের উপস্থিতিতে পা ফেলার জায়গা ছিল না সেখানে কোনো দোকান খোলা দেখা যায়নি। বিকেল ৩টা পর্যন্ত কাঁচা বাজার খোলা থাকায় কিছু মানুষ কেনাকাটা করে ওই পথ দিয়ে বের হয়েছেন। বড়বাজারের পাশাপাশি রেলস্টেশন, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডেও খোলা ছিল কাঁচা বাজার। সকালের দিকে বাজারে মানুষের উপস্থিতি একটু বেশি থাকলেও সময় যত গড়িয়েছে বাজার তত ফাঁকা হয়েছে। তবে, বাজারে মাছ তরতাকির আমদানি বেশি দেখা যায়নি। দুপুরের মধ্যেই অধিকাংশ তরকারির দোকান খালি হয়ে যায়। সরবরাহ কম থাকায় দোকানিরা জিনিসের দাম নিয়েছেন মাত্রাতিরিক্ত বেশি।
এদিকে, লকডাউনে কোনো বিপনিবিতান খোলা হয়নি। কাঁচাবাজার এলাকায় দু’-একটি চায়ের দোকান খোলা দেখা গেলেও হোটেল-রেস্তোরাঁ ছিল বন্ধ। কাঁচাবাজারের কারণে শহরে কিছু ইঞ্জিনচালিত ও পায়েচলা রিকশা-ভ্যান দেখা গেলেও সংখ্যা ছিল খুবই কম। অন্যকোনো যানবাহন চলতে দেখা যায়নি। যশোর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় বিরাজ করছে শুনসান নীরবতা।
এদিকে, যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার নিজে গাড়িতে করে শহরময় ঘুরে বেড়িয়েছেন লকডাউন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে। এসময় তিনি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের কার্যক্রম তদারকি করেছেন এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। অনেক সময় নিজে নেমে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে করোনার ভয়াবহতা থেকে লকডাউন কার্যকর করার বিষয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

জনপ্রিয়

যশোর সালিশ শেষে ফেরার পথে হিজড়া যুবককে ব্লেড দিয়ে কুপিয়ে জখম

যশোরে প্রথম দিনে কঠোরভাবে পালিত হচ্ছে লকডাউন

প্রকাশের সময় : ০৫:০৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১

যশোর ব্যুরো ##

যশোরে বেশ কঠোরভাবে পালিত হচ্ছে সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দিন। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শহর ছিল প্রায় ফঁকা। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অধিকাংশ মানুষ ঘরের বাইরে বের হয়নি। যারা নির্দেশনা অমান্য করেছেন তাদেরকে কড়া সতর্কতা দেখিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠিয়েছে পুলিশ। সকাল থেকে লকডাউন পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নে মাঠে ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। খোদ পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার মাঠে থেকে কার্যক্রম তদারকি করেছেন।
করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার আজ বুধবার থেকে দেশব্যাপী কঠোর বা সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করে। লকডাউনে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে যশোর। সকাল থেকে শহর ছিল প্রায় ফাঁকা। শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানায় ছিল না মানুষের কোলাহল। সেখানে অবস্থান নেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। দু’-একজন যারা নির্দেশনা অমান্য করছেন তাদেরকে কঠোরভাবে সতর্ক করে বাড়িতে ফেরত পাঠাতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের।

মাত্র একদিন আগে শহরের বড়বাজারে যেখানে মানুষের উপস্থিতিতে পা ফেলার জায়গা ছিল না সেখানে কোনো দোকান খোলা দেখা যায়নি। বিকেল ৩টা পর্যন্ত কাঁচা বাজার খোলা থাকায় কিছু মানুষ কেনাকাটা করে ওই পথ দিয়ে বের হয়েছেন। বড়বাজারের পাশাপাশি রেলস্টেশন, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডেও খোলা ছিল কাঁচা বাজার। সকালের দিকে বাজারে মানুষের উপস্থিতি একটু বেশি থাকলেও সময় যত গড়িয়েছে বাজার তত ফাঁকা হয়েছে। তবে, বাজারে মাছ তরতাকির আমদানি বেশি দেখা যায়নি। দুপুরের মধ্যেই অধিকাংশ তরকারির দোকান খালি হয়ে যায়। সরবরাহ কম থাকায় দোকানিরা জিনিসের দাম নিয়েছেন মাত্রাতিরিক্ত বেশি।
এদিকে, লকডাউনে কোনো বিপনিবিতান খোলা হয়নি। কাঁচাবাজার এলাকায় দু’-একটি চায়ের দোকান খোলা দেখা গেলেও হোটেল-রেস্তোরাঁ ছিল বন্ধ। কাঁচাবাজারের কারণে শহরে কিছু ইঞ্জিনচালিত ও পায়েচলা রিকশা-ভ্যান দেখা গেলেও সংখ্যা ছিল খুবই কম। অন্যকোনো যানবাহন চলতে দেখা যায়নি। যশোর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় বিরাজ করছে শুনসান নীরবতা।
এদিকে, যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার নিজে গাড়িতে করে শহরময় ঘুরে বেড়িয়েছেন লকডাউন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে। এসময় তিনি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের কার্যক্রম তদারকি করেছেন এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। অনেক সময় নিজে নেমে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে করোনার ভয়াবহতা থেকে লকডাউন কার্যকর করার বিষয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন।