বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছে যেভাবে বুঝবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ সময় গুরুতর কোভিড-১৯ রোগী ছাড়া হাসপাতালে অন্যদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। অন্যান্য কোভিড-১৯ আক্রান্তরা ঘরে বসেই চিকিৎসা গ্রহণ করছেন!

তবে ঘরে বসে যারা চিকিৎসা গ্রহণ করছেন, সেসব করোনা রোগীদের খেয়াল রাখতে হবে তাদের শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক আছে কি না।

যখন থেকে শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা কমতে শুরু করবে, তখন থেকেই করোনা রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হতে পারে। তবে কীভাবে বুঝবেন শরীরের অক্সিজেন লেভেল কমতে শুরু করেছে?

শ্বাসকষ্ট: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর শ্বাসকষ্ট হওয়া একটি সাধারণ লক্ষণ। তবে শ্বাসকষ্টের সম্মুখীন প্রতিটি করোনা রোগীর তাত্ক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই।

সম্প্রতি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এআইএমএস) পরিচালক ড. রণদীপ বলেন, বয়স্ক এবং জটিল রোগাক্রান্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্যদের শ্বাসকষ্টের জন্য অক্সিজেন থেরাপির প্রয়োজন হয় না।

অক্সিজেন স্যাচুরেশন কি? অক্সিজেনের স্যাচুরেশন হলো, রক্তে অক্সিজেনযুক্ত হিমোগ্লোবিনের মাত্রা (শতাংশ)। যা ফুসফুস থেকে বিভিন্ন অঙ্গগুলোতে স্থানান্তরিত হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। ৯৪ এর ওপরে অক্সিজেনের মাত্রা থাকলে রোগী বিপদমুক্ত।

তবে কোভিডে আক্রান্তদের শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ দ্রুত কমতে শুরু করতে পারে যেকোনো সময়। সার্স কোভ-২ ভাইরাসটি ফুসফুসে ব্যাপক প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। যা কাচের মতো অস্পষ্টতা তৈরি করে (সিটি স্ক্যান এবং এক্স-রে এর মাধ্যমে দেখা যায়)। যা শরীরে অক্সিজেনেটেড রক্তের সরবরাহকে প্রভাবিত করে।

যদি অক্সিজেনের মাত্রা ৯৪ এর নীচে থাকে, তাহলে শরীরে হাইপোক্সেমিয়ার লক্ষণ ফুটে উঠবে। ক্রমাগত যদি অক্সিজেনের লেভেল ৯০ নিচে চলে আসতে থাকে, তাহলে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।

কোন কোভিড-১৯ রোগীর জন্য অক্সিজেন নেয়া জরুরি? শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে শুরু করলে সেইসঙ্গে শ্বাসকষ্ট এবং বুকে ব্যথা থাকলে রোগীর তাৎক্ষণিক অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়।

এখন যেহেতু হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর ভিড়, তাই ঘরেই অক্সিজেন যোগাড় করে রোগীকে দিতে পারে। আরো কিছু লক্ষণ আছে, যেগুলো রোগীর শরীরে প্রকাশ পেলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে-

নীল ঠোঁট/মুখের বিবর্ণতা: শরীরে অক্সিজেনের লেভেল কমতে শুরু করলে, ঠোঁট নীলচে রং ধারণ করে। এ ছাড়াও মুখ বিবর্ণ হয়ে যায়। এ ছাড়াও আঙুলের ডগাও নীল হয়ে উঠতে পারে অক্সিজেনের মাত্রা কমে আসলে

বুকে ব্যথা: অক্সিজেনের মাত্রা কমলে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এ সময় অক্সিজেনের ওঠানামায় রোগীর শরীরে যেসব লক্ষণ দেখা দেয় তা হলো:

* বুকে ব্যথা

* শ্বাসকষ্ট

* বুকে চাপ অনুভব করা

* বারবার কাশি

* অস্থিরতা

* মাথা ব্যথা

এসব লক্ষণ দেখা দেয়ার অর্থ হলো রোগী গুরুতর অবস্থায় আছেন, তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

বিভ্রান্তি, প্রলাপ, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: অক্সিজেনের মাত্রা কমতে শুরু করলে মস্তিষ্কের মূল রক্তনালীগুলোতে রক্ত প্রবাহ কমতে শুরু করে। এ কারণে স্নায়বিক সমস্যা হতে পারে যেমন- বিভ্রান্তি, প্রলাপ, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং চোখের সামনে কিছু দেখা ইত্যাদি।

নতুন বেশ কিছু গবেষণা প্রমাণ করেছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশ পরিমিত এবং গুরুতর কোভিড রোগীদের স্নায়ুজনিত জটিলতা আছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

জনপ্রিয়

শেখ হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছে যেভাবে বুঝবেন

প্রকাশের সময় : ১২:০৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুলাই ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ সময় গুরুতর কোভিড-১৯ রোগী ছাড়া হাসপাতালে অন্যদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। অন্যান্য কোভিড-১৯ আক্রান্তরা ঘরে বসেই চিকিৎসা গ্রহণ করছেন!

তবে ঘরে বসে যারা চিকিৎসা গ্রহণ করছেন, সেসব করোনা রোগীদের খেয়াল রাখতে হবে তাদের শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক আছে কি না।

যখন থেকে শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা কমতে শুরু করবে, তখন থেকেই করোনা রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হতে পারে। তবে কীভাবে বুঝবেন শরীরের অক্সিজেন লেভেল কমতে শুরু করেছে?

শ্বাসকষ্ট: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর শ্বাসকষ্ট হওয়া একটি সাধারণ লক্ষণ। তবে শ্বাসকষ্টের সম্মুখীন প্রতিটি করোনা রোগীর তাত্ক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই।

সম্প্রতি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এআইএমএস) পরিচালক ড. রণদীপ বলেন, বয়স্ক এবং জটিল রোগাক্রান্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্যদের শ্বাসকষ্টের জন্য অক্সিজেন থেরাপির প্রয়োজন হয় না।

অক্সিজেন স্যাচুরেশন কি? অক্সিজেনের স্যাচুরেশন হলো, রক্তে অক্সিজেনযুক্ত হিমোগ্লোবিনের মাত্রা (শতাংশ)। যা ফুসফুস থেকে বিভিন্ন অঙ্গগুলোতে স্থানান্তরিত হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। ৯৪ এর ওপরে অক্সিজেনের মাত্রা থাকলে রোগী বিপদমুক্ত।

তবে কোভিডে আক্রান্তদের শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ দ্রুত কমতে শুরু করতে পারে যেকোনো সময়। সার্স কোভ-২ ভাইরাসটি ফুসফুসে ব্যাপক প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। যা কাচের মতো অস্পষ্টতা তৈরি করে (সিটি স্ক্যান এবং এক্স-রে এর মাধ্যমে দেখা যায়)। যা শরীরে অক্সিজেনেটেড রক্তের সরবরাহকে প্রভাবিত করে।

যদি অক্সিজেনের মাত্রা ৯৪ এর নীচে থাকে, তাহলে শরীরে হাইপোক্সেমিয়ার লক্ষণ ফুটে উঠবে। ক্রমাগত যদি অক্সিজেনের লেভেল ৯০ নিচে চলে আসতে থাকে, তাহলে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।

কোন কোভিড-১৯ রোগীর জন্য অক্সিজেন নেয়া জরুরি? শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে শুরু করলে সেইসঙ্গে শ্বাসকষ্ট এবং বুকে ব্যথা থাকলে রোগীর তাৎক্ষণিক অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়।

এখন যেহেতু হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর ভিড়, তাই ঘরেই অক্সিজেন যোগাড় করে রোগীকে দিতে পারে। আরো কিছু লক্ষণ আছে, যেগুলো রোগীর শরীরে প্রকাশ পেলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে-

নীল ঠোঁট/মুখের বিবর্ণতা: শরীরে অক্সিজেনের লেভেল কমতে শুরু করলে, ঠোঁট নীলচে রং ধারণ করে। এ ছাড়াও মুখ বিবর্ণ হয়ে যায়। এ ছাড়াও আঙুলের ডগাও নীল হয়ে উঠতে পারে অক্সিজেনের মাত্রা কমে আসলে

বুকে ব্যথা: অক্সিজেনের মাত্রা কমলে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এ সময় অক্সিজেনের ওঠানামায় রোগীর শরীরে যেসব লক্ষণ দেখা দেয় তা হলো:

* বুকে ব্যথা

* শ্বাসকষ্ট

* বুকে চাপ অনুভব করা

* বারবার কাশি

* অস্থিরতা

* মাথা ব্যথা

এসব লক্ষণ দেখা দেয়ার অর্থ হলো রোগী গুরুতর অবস্থায় আছেন, তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

বিভ্রান্তি, প্রলাপ, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: অক্সিজেনের মাত্রা কমতে শুরু করলে মস্তিষ্কের মূল রক্তনালীগুলোতে রক্ত প্রবাহ কমতে শুরু করে। এ কারণে স্নায়বিক সমস্যা হতে পারে যেমন- বিভ্রান্তি, প্রলাপ, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং চোখের সামনে কিছু দেখা ইত্যাদি।

নতুন বেশ কিছু গবেষণা প্রমাণ করেছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশ পরিমিত এবং গুরুতর কোভিড রোগীদের স্নায়ুজনিত জটিলতা আছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া