রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বে মহামারিতে ক্ষুধা ও অপুষ্টি বেড়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।
করোনা মহামারির মধ্যে এ বছর বিশ্বজুড়ে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ক্ষুধার্থ ও অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৮ লাখে। গত বছরের সঙ্গে এ বছরের এই আমূল পরিবর্তনকে অনেকটা নাটকীয় বলেই আখ্যা দিচ্ছে জাতিসংঘ।

 

জাতিসংঘের পাঁচটি অঙ্গসংগঠনের প্রধান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে এই মহামারি আমাদের খাদ্য ব্যবস্থায় দুর্বলতাগুলি প্রকাশ করে চলেছে, যা বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকিস্বরূপ। বিশ্বের কোনো অঞ্চলই এই অবস্থা থেকে রেহাই পায়নি।’ তারা এই অবস্থাকে ‘ক্রিটিক্যাল জাংচার’ অর্থাৎ সঙ্কটকালীন অবস্থা বলে আখ্যায়িত করেছেন। 

অপুষ্টিতে ভোগা মানুষদের প্রায় অর্ধেকরও বেশি সংখ্যক মানুষ এশিয়া মহাদেশের। এ মহাদেশে এই সংখ্যাটি ৪১৮ মিলিয়ন ছুঁয়েছে বলে জানা যায়। অন্যদিকে আফ্রিকা মহাদেশে তাদের জনসংখ্যার প্রায় ২১ ভাগ মানুষই অপুষ্টিতে ভোগে বলে রিপোর্ট থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রায় ১৪৯ মিলিয়নই হচ্ছে শিশু যাদের বয়স পাঁচ বছরেরও কম। 

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ তাদের স্থিতিশীল লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি ক্ষুধামুক্ত পৃথিবীর অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে যে হারে মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছে তাতে করে এই লক্ষ্যমাত্রা কতটুকু সফল হবে সে বিষয়ে অনেকেই সন্দিহান। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগামের (ডব্লিউএফপি) সিস্টেম এনালাইসিসের প্রধান সাসকিয়া ডি’পিয়ারের ভাষ্যমতে, ‘আমরা তাত্ক্ষণিক ১৩৮ মিলিয়ন খাদ্য সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্য রেখেছি এবং আরও অনেক লোকের দীর্ঘমেয়াদী পরিস্থিতি উন্নতির জন্য আমরা দেশগুলোর সরকার্রের সাথে আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’ 

 

সংকটকালীন এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে এই প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে যে নীতি-নির্ধারকদের পুষ্টিহীনতা রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যেমন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে মানবিক উন্নয়ন ও শান্তি-নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করা; অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার জন্য সবচেয়ে দুর্বলদের স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালীকরণ; এবং দারিদ্র্য এবং কাঠামোগত বৈষম্য মোকাবিলা।
জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় হেযবুত তওহীদের জনসভা অনুষ্ঠিত

বিশ্বে মহামারিতে ক্ষুধা ও অপুষ্টি বেড়েছে

প্রকাশের সময় : ১২:৩২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০২১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।
করোনা মহামারির মধ্যে এ বছর বিশ্বজুড়ে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ক্ষুধার্থ ও অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৮ লাখে। গত বছরের সঙ্গে এ বছরের এই আমূল পরিবর্তনকে অনেকটা নাটকীয় বলেই আখ্যা দিচ্ছে জাতিসংঘ।

 

জাতিসংঘের পাঁচটি অঙ্গসংগঠনের প্রধান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে এই মহামারি আমাদের খাদ্য ব্যবস্থায় দুর্বলতাগুলি প্রকাশ করে চলেছে, যা বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকিস্বরূপ। বিশ্বের কোনো অঞ্চলই এই অবস্থা থেকে রেহাই পায়নি।’ তারা এই অবস্থাকে ‘ক্রিটিক্যাল জাংচার’ অর্থাৎ সঙ্কটকালীন অবস্থা বলে আখ্যায়িত করেছেন। 

অপুষ্টিতে ভোগা মানুষদের প্রায় অর্ধেকরও বেশি সংখ্যক মানুষ এশিয়া মহাদেশের। এ মহাদেশে এই সংখ্যাটি ৪১৮ মিলিয়ন ছুঁয়েছে বলে জানা যায়। অন্যদিকে আফ্রিকা মহাদেশে তাদের জনসংখ্যার প্রায় ২১ ভাগ মানুষই অপুষ্টিতে ভোগে বলে রিপোর্ট থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রায় ১৪৯ মিলিয়নই হচ্ছে শিশু যাদের বয়স পাঁচ বছরেরও কম। 

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ তাদের স্থিতিশীল লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি ক্ষুধামুক্ত পৃথিবীর অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে যে হারে মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছে তাতে করে এই লক্ষ্যমাত্রা কতটুকু সফল হবে সে বিষয়ে অনেকেই সন্দিহান। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগামের (ডব্লিউএফপি) সিস্টেম এনালাইসিসের প্রধান সাসকিয়া ডি’পিয়ারের ভাষ্যমতে, ‘আমরা তাত্ক্ষণিক ১৩৮ মিলিয়ন খাদ্য সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্য রেখেছি এবং আরও অনেক লোকের দীর্ঘমেয়াদী পরিস্থিতি উন্নতির জন্য আমরা দেশগুলোর সরকার্রের সাথে আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’ 

 

সংকটকালীন এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে এই প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে যে নীতি-নির্ধারকদের পুষ্টিহীনতা রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যেমন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে মানবিক উন্নয়ন ও শান্তি-নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করা; অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার জন্য সবচেয়ে দুর্বলদের স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালীকরণ; এবং দারিদ্র্য এবং কাঠামোগত বৈষম্য মোকাবিলা।