শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শহীদ বিপ্লবী আশফাকুল্লা খানের নামে চিড়িয়াখানা হচ্ছে ফৈজাবাদে –

বিপ্লবী আশফাকুল্লা খান। ফাইল ফটো

 

সাজেদ রহমান (বকুল) যশোর।। 

৯২৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদে ফাঁসি হয় বিপ্লবী আসফাকুল্লা খানের। তিনি ‘ওয়ার্সি’ ও ‘হসরত্’ ছদ্মনামে উর্দু ভাষায় কবিতা লিখতেন। আজীবন রামপ্রসাদ বিসমাইলের সঙ্গী হিসাবে বিভিন্ন বিপ্লবী কার্যকলাপে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯২৫ সালে রামপ্রসাদ বিসমাইলের নেতৃত্বে ‘কাঁকোরি ট্রেন ডাকাতি’র ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
১৯০০ সালের ২২ অক্টোবর উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুরে জন্মগ্রহণ করেন আশফাকুল্লা। তিনি যে সময়ে বড় হয়ে উঠছিলেন, সে সময়েই মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেছিলেন। ভারতবাসীর কাছে তাঁর আহ্বান ছিল ব্রিটিশদের সঙ্গে কোনওরকম সহযোগিতা না করার, সরকারকে কোনওরকম কর না দেওয়ার। এই আন্দোলন শুরু দেড় বছরের মধ্যে, ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গোরখপুরে চৌরিচৌরার ঘটনা ঘটে- বিশাল সংখ্যক অসহযোগীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ও থানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। মারা যান ২২ জন পুলিশ কর্মী। এই হিংসাত্মক আন্দোলনের বিরোধিতায় গান্ধী আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরোর দেওয়া এক বিবৃতি থেকে জানা যায়, এ ঘটনায় দেশের যুবকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়, তাঁরা আস্থা হারাতে শুরু কেরন। আশফাকুল্লা ছিলেন এই যুবকদের দলে। এ সময়েই তিনি বিপ্লবীদের সঙ্গে যোগ দেন এবং বিসমিলের সঙ্গে পরিচিত হন।
২০০৬ সালে বলিউড কাহিনি চিত্র রং দে বাসন্তীতে একটি তথ্যচিত্রে পাঁচ বন্ধুকে চন্দ্রশেখর আজাদ, ভগৎ সিং, শিবরাম রাজগুরু, রামপ্রসাদ বিসমিল ও আশফাকুল্লা খানের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। আশফাকুল্লা খানের চরিত্রে ছিলেন কুণাল কাপুর ও বিসমিলের চরিত্রে অভিনয় করেন অতুল কুলকার্নি। ১৯২৫ সালের অগাস্ট মাসে, শাহজাহানপুর থেকে লখনউগামী কাকোরি এক্সপ্রেস লুঠ হয়। ওই ট্রেনে বিভিন্ন রেল স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা অর্থ লখনউয়ে জমা করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
পরিকল্পিত এই কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল হিন্দুস্তান সোশালিস্ট রিপাবলিক অ্যাসোসিয়েশনের কাজকর্মের অর্থ জোগাড়ের উদ্দেশ্যে। বিসমিল, আশফাকুল্লাসহ ১০ জনেরও বেশি বিপ্লবী ট্রেন থামান এবং যে অর্থ পান, তাই নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনার এক মাসের মধ্যে সংগঠনের অনেকেই গ্রেফতার হন।
১৯২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, বিসমিল গ্রেফতার হলেও আশফাকুল্লা পালিয়ে যান। প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরোর বিবৃতি থেকে যানা যায়, তিনি বাড়ি থেকে আধমাইল দূরে একটি আখের খেতে কিছু সময়ের জন্য গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর প্রথমে বিহার ও পরে দিল্লিতে চলে যান। দিল্লিতেই শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হন তিনি। মামলা চলেছিল প্রায় দেড় বছর ধরে। ১৯২৭ সালের এপ্রিল মাসে মামলা শেষ হয়। বিসমিল, আশফাকুল্লা, রাজেন্দ্র লাহিড়ি ও রোশন সিংকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
উত্তর প্রদেশের গোরখপুরে ১২১ একর জমির উপর একটি চিড়িয়াখানা তৈরির জন্য ২৩৪ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে সে রাজ্যের সরকার। ওই চিড়িয়াখানাটি হবে স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা বিপ্লবী শহিদ আশফাকুল্লা খানের নামে। বর্তমান চিড়িয়াখানা তৈরির কাজ চলছে।

জনপ্রিয়

কলারোয়ায় বাস-নছিমন সংঘর্ষে নিহত ১

শহীদ বিপ্লবী আশফাকুল্লা খানের নামে চিড়িয়াখানা হচ্ছে ফৈজাবাদে –

প্রকাশের সময় : ০৯:১৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২১

বিপ্লবী আশফাকুল্লা খান। ফাইল ফটো

 

সাজেদ রহমান (বকুল) যশোর।। 

৯২৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদে ফাঁসি হয় বিপ্লবী আসফাকুল্লা খানের। তিনি ‘ওয়ার্সি’ ও ‘হসরত্’ ছদ্মনামে উর্দু ভাষায় কবিতা লিখতেন। আজীবন রামপ্রসাদ বিসমাইলের সঙ্গী হিসাবে বিভিন্ন বিপ্লবী কার্যকলাপে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯২৫ সালে রামপ্রসাদ বিসমাইলের নেতৃত্বে ‘কাঁকোরি ট্রেন ডাকাতি’র ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
১৯০০ সালের ২২ অক্টোবর উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুরে জন্মগ্রহণ করেন আশফাকুল্লা। তিনি যে সময়ে বড় হয়ে উঠছিলেন, সে সময়েই মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেছিলেন। ভারতবাসীর কাছে তাঁর আহ্বান ছিল ব্রিটিশদের সঙ্গে কোনওরকম সহযোগিতা না করার, সরকারকে কোনওরকম কর না দেওয়ার। এই আন্দোলন শুরু দেড় বছরের মধ্যে, ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গোরখপুরে চৌরিচৌরার ঘটনা ঘটে- বিশাল সংখ্যক অসহযোগীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ও থানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। মারা যান ২২ জন পুলিশ কর্মী। এই হিংসাত্মক আন্দোলনের বিরোধিতায় গান্ধী আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরোর দেওয়া এক বিবৃতি থেকে জানা যায়, এ ঘটনায় দেশের যুবকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়, তাঁরা আস্থা হারাতে শুরু কেরন। আশফাকুল্লা ছিলেন এই যুবকদের দলে। এ সময়েই তিনি বিপ্লবীদের সঙ্গে যোগ দেন এবং বিসমিলের সঙ্গে পরিচিত হন।
২০০৬ সালে বলিউড কাহিনি চিত্র রং দে বাসন্তীতে একটি তথ্যচিত্রে পাঁচ বন্ধুকে চন্দ্রশেখর আজাদ, ভগৎ সিং, শিবরাম রাজগুরু, রামপ্রসাদ বিসমিল ও আশফাকুল্লা খানের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। আশফাকুল্লা খানের চরিত্রে ছিলেন কুণাল কাপুর ও বিসমিলের চরিত্রে অভিনয় করেন অতুল কুলকার্নি। ১৯২৫ সালের অগাস্ট মাসে, শাহজাহানপুর থেকে লখনউগামী কাকোরি এক্সপ্রেস লুঠ হয়। ওই ট্রেনে বিভিন্ন রেল স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা অর্থ লখনউয়ে জমা করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
পরিকল্পিত এই কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল হিন্দুস্তান সোশালিস্ট রিপাবলিক অ্যাসোসিয়েশনের কাজকর্মের অর্থ জোগাড়ের উদ্দেশ্যে। বিসমিল, আশফাকুল্লাসহ ১০ জনেরও বেশি বিপ্লবী ট্রেন থামান এবং যে অর্থ পান, তাই নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনার এক মাসের মধ্যে সংগঠনের অনেকেই গ্রেফতার হন।
১৯২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, বিসমিল গ্রেফতার হলেও আশফাকুল্লা পালিয়ে যান। প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরোর বিবৃতি থেকে যানা যায়, তিনি বাড়ি থেকে আধমাইল দূরে একটি আখের খেতে কিছু সময়ের জন্য গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর প্রথমে বিহার ও পরে দিল্লিতে চলে যান। দিল্লিতেই শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হন তিনি। মামলা চলেছিল প্রায় দেড় বছর ধরে। ১৯২৭ সালের এপ্রিল মাসে মামলা শেষ হয়। বিসমিল, আশফাকুল্লা, রাজেন্দ্র লাহিড়ি ও রোশন সিংকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
উত্তর প্রদেশের গোরখপুরে ১২১ একর জমির উপর একটি চিড়িয়াখানা তৈরির জন্য ২৩৪ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে সে রাজ্যের সরকার। ওই চিড়িয়াখানাটি হবে স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা বিপ্লবী শহিদ আশফাকুল্লা খানের নামে। বর্তমান চিড়িয়াখানা তৈরির কাজ চলছে।