সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শুদ্ধানন্দ মহাথেরের চলে যাওয়া সকল সম্প্রদায়ের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি: তথ্যমন্ত্রী

এম. মতিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো।।
বাংলাদেশে বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সাবেক সভাপতি, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংঘমণীষা, একুশে পদক প্রাপ্ত, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু সহসভার ২৮তম সংঘনায়ক প্রয়াত শুদ্ধানন্দ মহাথের ছিলেন সকল সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধার পাত্র। তিনি ছিলেন মানবতাবাদী মহান বৌদ্ধ ভিক্ষু। তাঁর মৃত্যু সকল সম্প্রদায়ের জন্যই অপূরণীয় ক্ষতি।
শনিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মন্ত্রীর নিজ এলাকা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের পদুয়া সর্বজনীন বৌদ্ধ বিহার চত্বরে বাংলাদেশে বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু সহসভার ২৮তম সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথের এর মরদেহ জন্মভূমিতে আনয়ন, শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, জীবন ও কর্মের ওপর স্মৃতিচারণ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
মন্ত্রী বলেন, প্রয়াত শুদ্ধানন্দ মহাথের আমৃত্যু মানবসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। পদুয়া ডিগ্রী কলেজ, হাইস্কুলসহ ৮টি প্রতিষ্ঠান তিনি গড়ে তুলেছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান গড়তে সহায়তা করেছেন। ঢাকার বৌদ্ধ নিবাসে চট্টগ্রাম থেকে যাওয়া সকলকে থাকার ব্যবস্থা করে দিতেন। তাঁর মৃত্যুতে জাতি একটি মহান উদারতাবাদী, নিবেতিপ্রাণ ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। রাঙ্গুনিয়াবাসী হারিয়েছে একজন প্রিয় মানুষকে। তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতে পদুয়ায় কোন স্মৃতিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়লে তাতে সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলে এ সময় মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ছিলেন। আমি তাঁকে চাচা হিসেবে গণ্য করতাম। তিনিও আমাকে খুব আদর করতেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রয়াত শুদ্ধানন্দ মহাথেরকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় স্বাধীন বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। স্বাধীনতা উত্তরকালে সেই সম্প্রীতির বুকে ছোবল হানতে উদ্যত সকল সাম্প্রদায়িক শক্তি, জঙ্গি প্রভৃতি অপশক্তিকে নস্যাৎ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সম্প্রীতির বন্ধনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। চট্টগ্রাম তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। এখানে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ তিন সম্প্রদায় ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। আবহমান কাল থেকে এখানে তিন সম্প্রদায় আত্মার আত্মীয় হিসেবে বসবাস করে আসছে। সকল সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রোধে মন্ত্রী এসময় সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এর পূর্বে অনুষ্ঠানে এসে মন্ত্রী প্রয়াত শুদ্ধানন্দ মহাথের এর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রয়াতের শ্রদ্ধার্থে এসময় নিরবতা পালন করা হয়।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু সহসভার ২৯তম সংঘনায়ক বনশ্রী মহাথের এর সভাপতিত্বে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আজ দ্বিতীয় দিনে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু সহাসভার সহসভাপতি ভদন্ত সুনন্দ মহাথের, জ্ঞানানন্দ মহাথের, অভয়ানন্দ মহাথের, মহাসচিব ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া, প্রফেসর ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, মানু বড়ুয়া, আয়োজন কমিটির মহাসচিব বিমান বড়ুয়া মুনন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান বাবু স্বজন কুমার তালুকদার প্রমূখ।
  নজরুল/বার্তাকণ্ঠ
জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় হেযবুত তওহীদের জনসভা অনুষ্ঠিত

শুদ্ধানন্দ মহাথেরের চলে যাওয়া সকল সম্প্রদায়ের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৯:০৮:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২
এম. মতিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো।।
বাংলাদেশে বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সাবেক সভাপতি, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংঘমণীষা, একুশে পদক প্রাপ্ত, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু সহসভার ২৮তম সংঘনায়ক প্রয়াত শুদ্ধানন্দ মহাথের ছিলেন সকল সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধার পাত্র। তিনি ছিলেন মানবতাবাদী মহান বৌদ্ধ ভিক্ষু। তাঁর মৃত্যু সকল সম্প্রদায়ের জন্যই অপূরণীয় ক্ষতি।
শনিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মন্ত্রীর নিজ এলাকা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের পদুয়া সর্বজনীন বৌদ্ধ বিহার চত্বরে বাংলাদেশে বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু সহসভার ২৮তম সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথের এর মরদেহ জন্মভূমিতে আনয়ন, শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, জীবন ও কর্মের ওপর স্মৃতিচারণ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
মন্ত্রী বলেন, প্রয়াত শুদ্ধানন্দ মহাথের আমৃত্যু মানবসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। পদুয়া ডিগ্রী কলেজ, হাইস্কুলসহ ৮টি প্রতিষ্ঠান তিনি গড়ে তুলেছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান গড়তে সহায়তা করেছেন। ঢাকার বৌদ্ধ নিবাসে চট্টগ্রাম থেকে যাওয়া সকলকে থাকার ব্যবস্থা করে দিতেন। তাঁর মৃত্যুতে জাতি একটি মহান উদারতাবাদী, নিবেতিপ্রাণ ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। রাঙ্গুনিয়াবাসী হারিয়েছে একজন প্রিয় মানুষকে। তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতে পদুয়ায় কোন স্মৃতিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়লে তাতে সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলে এ সময় মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ছিলেন। আমি তাঁকে চাচা হিসেবে গণ্য করতাম। তিনিও আমাকে খুব আদর করতেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রয়াত শুদ্ধানন্দ মহাথেরকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় স্বাধীন বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। স্বাধীনতা উত্তরকালে সেই সম্প্রীতির বুকে ছোবল হানতে উদ্যত সকল সাম্প্রদায়িক শক্তি, জঙ্গি প্রভৃতি অপশক্তিকে নস্যাৎ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সম্প্রীতির বন্ধনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। চট্টগ্রাম তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। এখানে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ তিন সম্প্রদায় ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। আবহমান কাল থেকে এখানে তিন সম্প্রদায় আত্মার আত্মীয় হিসেবে বসবাস করে আসছে। সকল সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রোধে মন্ত্রী এসময় সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এর পূর্বে অনুষ্ঠানে এসে মন্ত্রী প্রয়াত শুদ্ধানন্দ মহাথের এর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রয়াতের শ্রদ্ধার্থে এসময় নিরবতা পালন করা হয়।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু সহসভার ২৯তম সংঘনায়ক বনশ্রী মহাথের এর সভাপতিত্বে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আজ দ্বিতীয় দিনে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু সহাসভার সহসভাপতি ভদন্ত সুনন্দ মহাথের, জ্ঞানানন্দ মহাথের, অভয়ানন্দ মহাথের, মহাসচিব ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া, প্রফেসর ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, মানু বড়ুয়া, আয়োজন কমিটির মহাসচিব বিমান বড়ুয়া মুনন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান বাবু স্বজন কুমার তালুকদার প্রমূখ।
  নজরুল/বার্তাকণ্ঠ