বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মেটাভার্সে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হলেন নারী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : ০২:০৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • ১৮২

ছবি: সংগৃহীত

জাগতিক বাস্তবতার সঙ্গে ঘটবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মেলবন্ধন, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেটাভার্স নিয়ে আসছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। তবে নতুন এই প্রযুক্তি মানুষের হয়রানি বাড়িয়ে দিতে পারে, এমন আশংকাও দিনে দিনে জোরালো হচ্ছে। 

একজন নারী এরই মধ্যে অভিযোগ তুলেছেন, মেটাভার্সের জগতে ভার্চুয়ালি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনি।

নিনা প্যাটেল নাম ৪৩ বছরের ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘মেটাভার্সে ঢোকার ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে আমাকে মৌখিক ও যৌন হয়রানি করা হয়েছিল। তিন থেকে চারজন পুরুষ অ্যাভাটার কার্যত আমার অবতারকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শুরু করেন এবং তারা ঘটনার ছবি তুলেছিলেন। আমি পালানোর চেষ্টা করলে তারা চিৎকার করে বলেছিলেন- এমন ভান করো না যে, তুমি এটা উপভোগ করছ না।’

ব্রিটিশ ওই নারী জানান, অভিজ্ঞতাটি এত ভয়াবহ এবং দ্রুত ঘটেছিল যে তিনি নিরাপত্তা টুলস ব্যবহারের চিন্তা করতেও ভুলে যান।

এ ঘটনা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলেও অভিযোগ করেন। ব্যক্তি সুরক্ষা জোরদারে গত ১ ডিসেম্বর একটি বিবৃতি দেন নিনা।

অভিযোগটির বিষয়ে অবশ্য পদক্ষেপ নিয়েছে মেটা কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, ভার্চুয়াল সহিংসতা ও নিপীড়ন ঠেকাতে ‘পারসনাল বাউন্ডারি’ নামে একটি ফিচার চালু করা হচ্ছে। এর ফলে হুটহাট করে কারও ভার্চুয়াল প্রতিরূপ বা অ্যাভাটারের কাছে ঘেঁষতে পারবে না।

মেটা কোম্পানির পক্ষ থেকে সম্প্রতি এক ব্লগ পোস্টে ভার্চুয়াল যৌন সহিংসতার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা হয়। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নতুন ফিচার চালুর ঘোষণা দিয়ে তারা বলেন, ‘অনাহূত কেউ আপনার ব্যক্তিগত সীমানায় প্রবেশের চেষ্টা করলেই নতুন ফিচারটি তার এগিয়ে আসা আটকে দেবে। আমরা বিশ্বাস করি, ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে মানুষ কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে সেটি তাদের ব্যক্তিগত সীমানা সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল।’

মেটাভার্স ব্যবহারকারীদের চার ফুটের মধ্যে কোনো বিরক্তিকর অ্যাভাটার এলে তাকে আটকে দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ফেসবুক নিয়ে নানা বিতর্কের মুখে মেটাভার্সকে এগিয়ে নেয়ার উচ্চাভিলাষী প্রকল্প গ্রহণ করেন মার্ক জাকারবার্গ। তবে এ ধরনের বিতর্ক তৈরি হলে মেটাভার্সও ব্যবহারকারীদের আস্থা হারাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয়

যশোরে পেটভর্তি ইয়াবাসহ যুবক আটক

মেটাভার্সে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হলেন নারী

প্রকাশের সময় : ০২:০৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২২

জাগতিক বাস্তবতার সঙ্গে ঘটবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মেলবন্ধন, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেটাভার্স নিয়ে আসছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। তবে নতুন এই প্রযুক্তি মানুষের হয়রানি বাড়িয়ে দিতে পারে, এমন আশংকাও দিনে দিনে জোরালো হচ্ছে। 

একজন নারী এরই মধ্যে অভিযোগ তুলেছেন, মেটাভার্সের জগতে ভার্চুয়ালি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনি।

নিনা প্যাটেল নাম ৪৩ বছরের ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘মেটাভার্সে ঢোকার ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে আমাকে মৌখিক ও যৌন হয়রানি করা হয়েছিল। তিন থেকে চারজন পুরুষ অ্যাভাটার কার্যত আমার অবতারকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শুরু করেন এবং তারা ঘটনার ছবি তুলেছিলেন। আমি পালানোর চেষ্টা করলে তারা চিৎকার করে বলেছিলেন- এমন ভান করো না যে, তুমি এটা উপভোগ করছ না।’

ব্রিটিশ ওই নারী জানান, অভিজ্ঞতাটি এত ভয়াবহ এবং দ্রুত ঘটেছিল যে তিনি নিরাপত্তা টুলস ব্যবহারের চিন্তা করতেও ভুলে যান।

এ ঘটনা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলেও অভিযোগ করেন। ব্যক্তি সুরক্ষা জোরদারে গত ১ ডিসেম্বর একটি বিবৃতি দেন নিনা।

অভিযোগটির বিষয়ে অবশ্য পদক্ষেপ নিয়েছে মেটা কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, ভার্চুয়াল সহিংসতা ও নিপীড়ন ঠেকাতে ‘পারসনাল বাউন্ডারি’ নামে একটি ফিচার চালু করা হচ্ছে। এর ফলে হুটহাট করে কারও ভার্চুয়াল প্রতিরূপ বা অ্যাভাটারের কাছে ঘেঁষতে পারবে না।

মেটা কোম্পানির পক্ষ থেকে সম্প্রতি এক ব্লগ পোস্টে ভার্চুয়াল যৌন সহিংসতার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা হয়। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নতুন ফিচার চালুর ঘোষণা দিয়ে তারা বলেন, ‘অনাহূত কেউ আপনার ব্যক্তিগত সীমানায় প্রবেশের চেষ্টা করলেই নতুন ফিচারটি তার এগিয়ে আসা আটকে দেবে। আমরা বিশ্বাস করি, ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে মানুষ কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে সেটি তাদের ব্যক্তিগত সীমানা সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল।’

মেটাভার্স ব্যবহারকারীদের চার ফুটের মধ্যে কোনো বিরক্তিকর অ্যাভাটার এলে তাকে আটকে দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ফেসবুক নিয়ে নানা বিতর্কের মুখে মেটাভার্সকে এগিয়ে নেয়ার উচ্চাভিলাষী প্রকল্প গ্রহণ করেন মার্ক জাকারবার্গ। তবে এ ধরনের বিতর্ক তৈরি হলে মেটাভার্সও ব্যবহারকারীদের আস্থা হারাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।