
উপকরণের মূল্য লাগামহীন চরম সংকটে পড়েছে পঞ্চগড় জেলার বেকারি শিল্প। উৎপাদন খরচ ও পণ্য বিক্রির মধ্যে লাভ (মুনাফা) না থাকায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে এ শিল্প। বেকারি ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পণ্যের দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প দেখছেন না ফ্যাক্টরি মালিকরা। ফলে ক্ষুদ্র শিল্পের বেকারি ফ্যাক্টরি চালানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে উপজেলার বেকারি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এমনিতেই বিপর্যস্ত দেশের বেকারি শিল্প। তার উপরে মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাড়িয়েছে প্রয়োজনীয় কাচামালের দাম একবছরে প্রায় দিগুণ হওয়া। ১ বছরের মধ্যে দাম আমাদের প্রয়োজনীয় কাচামালের দাম দিগুন হয়েছে। কিন্তু বেকারির উৎপাদিত পন্যের দাম কাচামালের দামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দাম বাড়ছে না। বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায়ীরা।এদিকে ভোজ্য তেলের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে ব্যাবসা চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পরেছে বলে জানিয়েছে পঞ্চগড়ের বেকারি ব্যাবসায়ীরা।গত বছর ৬০ টাকা লিটার মূল্যে যে পাম তেল ক্রয় করতাম তা এবছর ১৬০ টাকা হয়েছে।মহাজনের কাছে বাকিতে কাচামাল এনে বিস্কিট পাউরুটি সহ অনান্য খাদ্য উৎপাদন করছি। আমাদেরও লাইনে কিছু টাকা পড়ে আছে বিধায় এই মহুর্তে বেকারি বন্ধ করতে পারছিনা বলে জানিয়েছে দেবিগঞ্জ উপজেলার শাপলা বেকারির মালিক শহিদুল ইসলাম।
উপজেলার ইমরান বেকারির’ মালিক মোঃ রোকন জানান, ১৯৮৮ সালে ব্যাবসা শুরু করে এখনো বেকারির ব্যবসা করছি। একসময় সপ্তাহে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ বস্তা ময়দার কাজ হত। এখন তা সপ্তাহে ১০ থেকে ১২ বস্তায় নেমেছে।বেকারি ব্যবসায় কারখানার কারিগর ও শ্রমিকদের ভরন-পোষণ ও থাকার ব্যবস্থা মালিকরাই করে থাকে। আমার কারখানার ১২জন শ্রমিক ও কর্মচারী এদের থাকা-খাওয়া ও বেতন বাবদ মাসে এক থেকে দের লাখ টাকা খরচ রয়েছে।ব্যবসা মন্দা থাকায় ইতোমধ্যেই অনেক টাকা দেনা হয়েছি।এভাবে মূল্য বৃদ্ধি হতে থাকলে বেকারি সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায়িরা নিঃস্ব হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
ব্যবসায়ীরা আরো জানান, লোকসানের ভারে অনেকেই বন্ধ করে দিচ্ছে তাদের বেকারি ব্যবসা। তারা অবিলম্বে দ্রবমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্য মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেকারি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ এবং ক্ষুদ্র বেকারি ব্যবসায় সরকারি সহযোগিতা দাবি জানিয়েছেন।
মাহামুদুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি 



























