শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্র এখন আমলাদের হাতে বন্দি: মেনন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : ১০:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • ১২৭

ফাইল ছবি

রাষ্ট্র এখন ক্ষুদ্র অতিধনী আর সামরিক-বেসামরিক আমলা নেতৃত্বের হাতে বন্দি। বাহাত্তরের সংবিধানের খোলসটি রয়েছে মাত্র বলে মন্তব্য করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ‘স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলা’ ঘোষণার ৫২তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বামপন্থীদের ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ দেশ দিয়েছে, কিন্তু ৫০ বছরেও মুক্তিযুদ্ধের সেই প্রেক্ষাপটে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগে ছিল পশ্চিম আর পূর্ব পাকিস্তানের দুই অর্থনীতি, এখন সেই দুই অর্থনীতি ব্যপ্ত হয়েছে ধনী আর দরিদ্রের দুই অর্থনীতিতে। শহর আর গ্রামের দুই সমাজ। মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি শাসকরা ধর্মের আবরণ নিয়ে হত্যা করেছে, ধর্ষণ করেছে, লুট করেছে। এখন ধর্মের আচরণ সবখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত। সাম্প্রদায়িকতার ঘৃণ্য ছোবল পড়ছে মাঝেমধ্যেই। কিন্তু যারা অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলছেন তারাই সাম্প্রদায়িক তাণ্ডবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘খুব সহজেই এখন জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাঙার কথা বলা যায়, খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনেই ব্লাসফেমী আইন প্রণয়নের দাবি করা যায়। জেলখানা থেকে আলেম-ওলামার নামে দুষ্কৃতিকারীদের মুক্ত করার কথা বলা হয়। পাকিস্তানি আমলে রাষ্ট্র অর্থনীতি সামরিক-বেসামরিক আমলা ও ২২ পরিবারের হাতে বন্দী ছিল, এখন তার পরিসর আরও সংকীর্ণ হয়েছে।’

মেনন বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের ভূমিকা অস্বীকৃত। কারণ ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত, এমনকি বাংলাদেশ পরবর্তীকালেও বামপন্থীরা লড়েছে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একটি সমতাভিত্তিক সমাজের জন্য। আর তা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বীকৃত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু তাকে সংবিধানে রূপ দিয়েছিলেন গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের নামে। বাহাত্তরের সংবিধানের খোলসটি রয়েছে। কিন্তু তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অন্তর্ধান করেছে। ১৯৪০ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে, যদি পরিবর্তন না ঘটানো যায় তবে সেই বাংলাদেশের চেহারাটি কেমন হবে এখনই তা বোঝা যায়।

বামপন্থীদের শাসকদের অস্বীকৃতির জন্য আফসোস না করে, জনগণের স্বীকৃতির জন্য লড়াই করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন মেনন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা, উন্নয়নকর্মী ও সাবেক বামনেতা শামসুল হুদা, পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য মাহমুদুল হাসান মানিক প্রমুখ।

জনপ্রিয়

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সামনে অনশনে গণঅধিকারের প্রার্থী

রাষ্ট্র এখন আমলাদের হাতে বন্দি: মেনন

প্রকাশের সময় : ১০:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২২

রাষ্ট্র এখন ক্ষুদ্র অতিধনী আর সামরিক-বেসামরিক আমলা নেতৃত্বের হাতে বন্দি। বাহাত্তরের সংবিধানের খোলসটি রয়েছে মাত্র বলে মন্তব্য করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ‘স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলা’ ঘোষণার ৫২তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বামপন্থীদের ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ দেশ দিয়েছে, কিন্তু ৫০ বছরেও মুক্তিযুদ্ধের সেই প্রেক্ষাপটে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগে ছিল পশ্চিম আর পূর্ব পাকিস্তানের দুই অর্থনীতি, এখন সেই দুই অর্থনীতি ব্যপ্ত হয়েছে ধনী আর দরিদ্রের দুই অর্থনীতিতে। শহর আর গ্রামের দুই সমাজ। মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি শাসকরা ধর্মের আবরণ নিয়ে হত্যা করেছে, ধর্ষণ করেছে, লুট করেছে। এখন ধর্মের আচরণ সবখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত। সাম্প্রদায়িকতার ঘৃণ্য ছোবল পড়ছে মাঝেমধ্যেই। কিন্তু যারা অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলছেন তারাই সাম্প্রদায়িক তাণ্ডবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘খুব সহজেই এখন জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাঙার কথা বলা যায়, খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনেই ব্লাসফেমী আইন প্রণয়নের দাবি করা যায়। জেলখানা থেকে আলেম-ওলামার নামে দুষ্কৃতিকারীদের মুক্ত করার কথা বলা হয়। পাকিস্তানি আমলে রাষ্ট্র অর্থনীতি সামরিক-বেসামরিক আমলা ও ২২ পরিবারের হাতে বন্দী ছিল, এখন তার পরিসর আরও সংকীর্ণ হয়েছে।’

মেনন বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের ভূমিকা অস্বীকৃত। কারণ ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত, এমনকি বাংলাদেশ পরবর্তীকালেও বামপন্থীরা লড়েছে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একটি সমতাভিত্তিক সমাজের জন্য। আর তা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বীকৃত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু তাকে সংবিধানে রূপ দিয়েছিলেন গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের নামে। বাহাত্তরের সংবিধানের খোলসটি রয়েছে। কিন্তু তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অন্তর্ধান করেছে। ১৯৪০ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে, যদি পরিবর্তন না ঘটানো যায় তবে সেই বাংলাদেশের চেহারাটি কেমন হবে এখনই তা বোঝা যায়।

বামপন্থীদের শাসকদের অস্বীকৃতির জন্য আফসোস না করে, জনগণের স্বীকৃতির জন্য লড়াই করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন মেনন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা, উন্নয়নকর্মী ও সাবেক বামনেতা শামসুল হুদা, পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য মাহমুদুল হাসান মানিক প্রমুখ।