মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইলিশের সপ্তম প্রজনন বিচরণ ক্ষেত্র বলেশ্বর-মোহনা ও সুন্দরবনের সুপতি অঞ্চল

দেশে সপ্তম ইলিশ প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র হচ্ছে সুন্দরবনের সুপতি ও বলেশ্বর মোহনা সংলগ্ন অঞ্চল। নতুন এই ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্র ও অভয়াশ্রম করার প্রস্তবনা দিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনষ্টিটিউট। প্রস্তাবিত নতুন এ প্রজনন ক্ষেত্রে ৪৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ৩৪৮ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চল ধরা হয়েছে। এটি হবে দেশের সপ্তম ইলিশ প্রজনন ও অভয়াশ্রম এলাকা।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউট ময়মনসিংহ সূত্রে জানা যায়, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সমীক্ষা চালিয়ে নতুন ইলিশের প্রজনন, বিচরণ ও অভয়াশ্রম করার স্থান নির্ধারণ করেছেন। প্রস্তাবিত এলাকা হচ্ছে, বাগেরহাটের শরণখোলার বগি বন্দর সংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনা, সুন্দরবনের সুপতি কোষ্টগার্ড ষ্টেশন, পক্ষিরচর সংলগ্ন, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ার শাপলেজা সংলগ্ন ভাইজোড়া, বরগুনার পাথরঘাটার রুইতা, এবং পটুয়াখালি জেলার কলাপাড়ার লতাচাপলি ইউনিয়নের লেবুর বাগান পয়েন্ট। বলেশ্বর ও বলেশ্বর নদীর মোহণা অঞ্চলের প্রস্তাবিত এ সপ্তম প্রজনন ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ৩৪৮ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চল ধরা হয়েছে। প্রস্তাবনায় মধ্য আশ্বিণ থেকে মধ্য কার্তিক ২২ দিন সময়কাল কে ইলিশ মাছের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম নির্ধারণ করা হয়ছে । দেশে বিদ্যমাণ অপর ৬ টি ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্র হচ্ছে, শরিয়তপুরের পদ্মা নদী, মেঘনা- ষাটনল-আলেকজান্ডার, ভোলার শাহবাজপুর, বাউফলের তেতুলিয়া নদী, কলাপাড়ার আন্ধার মানিক নদী, এবং বরিশালের হিজলা মেহেন্দিগঞ্জ এলাকা।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য অফিসার এ এস এম রাসেল জানান, নতুন সমীক্ষায় শরণখোলার বগীর বলেশ্বর নদীর মোহনা ও সুপতি,পক্ষীরচর এলাকা ইলিশের প্রজননের উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউটের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ডঃ মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, ইলিশের বাড়ী বাংলাদেশে ইলিশ উৎপাদন আরো বাড়ানোর জন্য ব্যপক সমীক্ষা চালিয়ে দেশে সপ্তম ইলিশ প্রজনন, বিচরণ ও অভয়াশ্রম করার জন্য দেশের দক্ষিণে পটুয়াখালী, বরগুনা ও বাগেরহাটের প্রায় ৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ৩৪৮ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে। এবিষয়ে ফেব্রæয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মশালায় গৃহিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউট চাঁদপুর নদী কেন্দ্র থেকে সপ্তম প্রজনন ক্ষেত্র অনুমোদন দেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে মৎস্য অধিদপ্তর প্রজনন ক্ষেত্র বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে ঐ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান।

 

বার্তা/এন

জনপ্রিয়

সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান

ইলিশের সপ্তম প্রজনন বিচরণ ক্ষেত্র বলেশ্বর-মোহনা ও সুন্দরবনের সুপতি অঞ্চল

প্রকাশের সময় : ০৭:২২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২

দেশে সপ্তম ইলিশ প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র হচ্ছে সুন্দরবনের সুপতি ও বলেশ্বর মোহনা সংলগ্ন অঞ্চল। নতুন এই ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্র ও অভয়াশ্রম করার প্রস্তবনা দিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনষ্টিটিউট। প্রস্তাবিত নতুন এ প্রজনন ক্ষেত্রে ৪৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ৩৪৮ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চল ধরা হয়েছে। এটি হবে দেশের সপ্তম ইলিশ প্রজনন ও অভয়াশ্রম এলাকা।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউট ময়মনসিংহ সূত্রে জানা যায়, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সমীক্ষা চালিয়ে নতুন ইলিশের প্রজনন, বিচরণ ও অভয়াশ্রম করার স্থান নির্ধারণ করেছেন। প্রস্তাবিত এলাকা হচ্ছে, বাগেরহাটের শরণখোলার বগি বন্দর সংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনা, সুন্দরবনের সুপতি কোষ্টগার্ড ষ্টেশন, পক্ষিরচর সংলগ্ন, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ার শাপলেজা সংলগ্ন ভাইজোড়া, বরগুনার পাথরঘাটার রুইতা, এবং পটুয়াখালি জেলার কলাপাড়ার লতাচাপলি ইউনিয়নের লেবুর বাগান পয়েন্ট। বলেশ্বর ও বলেশ্বর নদীর মোহণা অঞ্চলের প্রস্তাবিত এ সপ্তম প্রজনন ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ৩৪৮ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চল ধরা হয়েছে। প্রস্তাবনায় মধ্য আশ্বিণ থেকে মধ্য কার্তিক ২২ দিন সময়কাল কে ইলিশ মাছের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম নির্ধারণ করা হয়ছে । দেশে বিদ্যমাণ অপর ৬ টি ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্র হচ্ছে, শরিয়তপুরের পদ্মা নদী, মেঘনা- ষাটনল-আলেকজান্ডার, ভোলার শাহবাজপুর, বাউফলের তেতুলিয়া নদী, কলাপাড়ার আন্ধার মানিক নদী, এবং বরিশালের হিজলা মেহেন্দিগঞ্জ এলাকা।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য অফিসার এ এস এম রাসেল জানান, নতুন সমীক্ষায় শরণখোলার বগীর বলেশ্বর নদীর মোহনা ও সুপতি,পক্ষীরচর এলাকা ইলিশের প্রজননের উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউটের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ডঃ মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, ইলিশের বাড়ী বাংলাদেশে ইলিশ উৎপাদন আরো বাড়ানোর জন্য ব্যপক সমীক্ষা চালিয়ে দেশে সপ্তম ইলিশ প্রজনন, বিচরণ ও অভয়াশ্রম করার জন্য দেশের দক্ষিণে পটুয়াখালী, বরগুনা ও বাগেরহাটের প্রায় ৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ৩৪৮ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে। এবিষয়ে ফেব্রæয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মশালায় গৃহিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউট চাঁদপুর নদী কেন্দ্র থেকে সপ্তম প্রজনন ক্ষেত্র অনুমোদন দেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে মৎস্য অধিদপ্তর প্রজনন ক্ষেত্র বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে ঐ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান।

 

বার্তা/এন