শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্ষেতলালে মৌ চাষে ঘুরেছে মুশফিকুরের ভাগ্যের চাকা

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় মৌ চাষে ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে বড়তারা  ইউনিয়নের নিমতলী গ্রামের বাসিন্দা মুশফিকুর রহমানের।
জানা গেছে, মৌ চাষে একবুক স্বপ্ন পূরনের আশায় কৃষক মুশফিকুর রহিম। দিনাজপুর বিসিক শিল্প এলাকা হতে, হাতে কলমে শিখে আসেন মৌ চাষ। আর সেই শিক্ষা কে কাজে লাগিয়ে নিজ গ্রামে এসে গত বছর সরিষার মৌসুমে দুইটি বক্স বসিয়ে শুরু করেন মৌ চাষ।
আগের বছর ওই বক্স থেকে ২০ কেজি মধু সংগ্রহ করেন তিনি। গুণগত মান  ভালো হওয়ায় তার উৎপাদিত সেই মধু নিজ গ্রামের মানুষের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। প্রথমবারেই মৌ চাষে এমন ভালো উৎসাহ  পেয়ে। এ বছর আরো ব্যাপক আকারে মধু উৎপাদন শুরু করেন তিনি।
সরমজিনে উপজেলার নিমতলী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক মুশফিকুর রহমান তার সরিষা খেতের পাশে বসানো মৌ বাক্স গুলোর পরিচর্যা করছেন।  সরিষার খেতে মৌমাছিদের মধু আহরণের দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে।
শখের মৌ চাষের ব্যাপারে মুশফিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, অনেকদিনের স্বপ্ন পূরনে এই মৌ চাষ শিখতে এবং ভালভাবে জানতে ট্রেনিং নিতে গিয়েছিলাম দিনাজপুরের বিসিক শিল্প এলাকায়। প্রশিক্ষণ নিয়ে তা কাজে লাগাতে এবং নিজের স্বপ্ন পূরনের আশায় বক্স ও মৌমাছি সংগ্রহ করি। প্রথমবার দুইটি বক্সে পরিক্ষামূলক মৌ চাষ করে সফল হয়েছি। তাই এবার নিজের তিন একর জমিতে সরিষা চাষ করে তাতে পাঁচটি বক্স বসিয়েছি। এরমধ্যেই গত দুই মাসে বক্স গুলো হতে ১৫ কেজি মধু সংগ্রহ হয়েছে। এবার এক হাজার পাঁচশো টাকায় প্রতি কেজি মধু বিক্রি করেছি। সব কিছু ঠিক থাকলে সরিষার পর আমের মুকুলের মৌসুম পর্যন্ত আরো ৩০-৪০ কেজি মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। সরকারি কোন সহযোগিতা পেলে আগামী মৌসুমে এই মাঠে মৌ চাষ আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে।
মৌ চাষে সফলতা অর্জনকারী  মুশফিকুর রহমানের বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, ক্ষেতলাল উপজেলায় এখনো কোথাও বাণিজ্যিক ভাবে তেমন মৌ চাষ করা হয় না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মৌ চাষে আগ্রহী করার সকল চেষ্টা চলছে।
উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের নিমতলী গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান। ইতিমধ্যে মৌ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। সম্প্রতি তার মৌ চাষ প্রকল্প পরিদর্শন করে চাষ বাড়াতে এ বছর তাকে একটি মৌ বাক্স দিয়ে সহযোগিতা করেছি আমরা। এবং আগামীতেও সকল ধরনের সহোযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বার্তা/এন
জনপ্রিয়

তারেক রহমান, শফিকুর রহমান ও নাহিদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার ফোনালাপ

ক্ষেতলালে মৌ চাষে ঘুরেছে মুশফিকুরের ভাগ্যের চাকা

প্রকাশের সময় : ০৭:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় মৌ চাষে ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে বড়তারা  ইউনিয়নের নিমতলী গ্রামের বাসিন্দা মুশফিকুর রহমানের।
জানা গেছে, মৌ চাষে একবুক স্বপ্ন পূরনের আশায় কৃষক মুশফিকুর রহিম। দিনাজপুর বিসিক শিল্প এলাকা হতে, হাতে কলমে শিখে আসেন মৌ চাষ। আর সেই শিক্ষা কে কাজে লাগিয়ে নিজ গ্রামে এসে গত বছর সরিষার মৌসুমে দুইটি বক্স বসিয়ে শুরু করেন মৌ চাষ।
আগের বছর ওই বক্স থেকে ২০ কেজি মধু সংগ্রহ করেন তিনি। গুণগত মান  ভালো হওয়ায় তার উৎপাদিত সেই মধু নিজ গ্রামের মানুষের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। প্রথমবারেই মৌ চাষে এমন ভালো উৎসাহ  পেয়ে। এ বছর আরো ব্যাপক আকারে মধু উৎপাদন শুরু করেন তিনি।
সরমজিনে উপজেলার নিমতলী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক মুশফিকুর রহমান তার সরিষা খেতের পাশে বসানো মৌ বাক্স গুলোর পরিচর্যা করছেন।  সরিষার খেতে মৌমাছিদের মধু আহরণের দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে।
শখের মৌ চাষের ব্যাপারে মুশফিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, অনেকদিনের স্বপ্ন পূরনে এই মৌ চাষ শিখতে এবং ভালভাবে জানতে ট্রেনিং নিতে গিয়েছিলাম দিনাজপুরের বিসিক শিল্প এলাকায়। প্রশিক্ষণ নিয়ে তা কাজে লাগাতে এবং নিজের স্বপ্ন পূরনের আশায় বক্স ও মৌমাছি সংগ্রহ করি। প্রথমবার দুইটি বক্সে পরিক্ষামূলক মৌ চাষ করে সফল হয়েছি। তাই এবার নিজের তিন একর জমিতে সরিষা চাষ করে তাতে পাঁচটি বক্স বসিয়েছি। এরমধ্যেই গত দুই মাসে বক্স গুলো হতে ১৫ কেজি মধু সংগ্রহ হয়েছে। এবার এক হাজার পাঁচশো টাকায় প্রতি কেজি মধু বিক্রি করেছি। সব কিছু ঠিক থাকলে সরিষার পর আমের মুকুলের মৌসুম পর্যন্ত আরো ৩০-৪০ কেজি মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। সরকারি কোন সহযোগিতা পেলে আগামী মৌসুমে এই মাঠে মৌ চাষ আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে।
মৌ চাষে সফলতা অর্জনকারী  মুশফিকুর রহমানের বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, ক্ষেতলাল উপজেলায় এখনো কোথাও বাণিজ্যিক ভাবে তেমন মৌ চাষ করা হয় না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মৌ চাষে আগ্রহী করার সকল চেষ্টা চলছে।
উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের নিমতলী গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান। ইতিমধ্যে মৌ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। সম্প্রতি তার মৌ চাষ প্রকল্প পরিদর্শন করে চাষ বাড়াতে এ বছর তাকে একটি মৌ বাক্স দিয়ে সহযোগিতা করেছি আমরা। এবং আগামীতেও সকল ধরনের সহোযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বার্তা/এন