সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় ফিশিংবোটের দাপটে জেলেরা মাছ ধরতে পারছে না

বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় পতাকাবাহী ফিশিংবোট

বঙ্গোপসাগরে দেশীয় জলসীমায় ভারতীয় ট্রলিং ফিশিংবোটের দাপটে সাধারণ জেলেরা মাছ ধরতে পারছেনা। অপরদিকে চট্রগ্রাম অঞ্চলের ট্রলিং ফিশিংবোট সাগর দাপিয়ে জেলেদের জাল ছিড়ে ফেলছে। ধংস হচ্ছে ছোট মাছের পোনা।
বঙ্গোপসাগর থেকে ফিরে আসা শরণখোলার রাজেস্বর গ্রামের ফিশিংবোট মা-বাবার দোয়ার মাঝি লিটন হাওলাদার, রাজৈর গ্রামের মায়েরদোয়া বোটের মাঝি মোঃ ইউসুফ, খোন্তাকাটা গ্রামের এফবি কারিমা বোটের মাঝি ইউনুসসহ অন্য কয়েকটি ফিশিংবোটের মাঝিরা অভিযোগে জানান, বর্তমানে সাগরে বাংলাদেশ জলসীমায় ভারতীয় ট্রলিং ফিশিংবোট অবাধে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের দুবলারচর, কুয়াকাটা উপকূল, সোনারচর, গঙ্গামতি থেকে আরো পূর্ব দিকে গিয়ে মাছ ধরছে । ভারতীয় বোটের কারণে তারা ঠিকমত সাগরে জাল ফেলতে পারেনা। ভারতীয় শক্তিশালী বোট তাদের জালের উপর দিয়ে চালিয়ে যায় ফলে জাল ছিড়ে নষ্ট হয়। প্রতিবাদ করলে ভারতীয়রা মারমূখী আচরণ করে বলে ঐ মাঝিরা জানান। অপর দিকে চট্রগাম অঞ্চলের ট্রলিং ফিশিংবোটবহর বেপরোয়াভাবে সাধারণ ফিশিংবোটের জাল ছিড়ে চলে যায়। ট্রলিংবোটের জালে মারা পড়ছে ছোট ছোট বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা এতে ধংস হচেছ সাগরের মৎস্য সম্পদ ।
বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় ফিশিংবোট ও চট্রগ্রামের ট্রলিংয়ের দাপটে সাধারণ জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে পারছেনা। গত এক পক্ষকাল সময়ের মধ্যে সাগরে জাল নষ্ট করায় তিনি চট্রগ্রামের এক ট্রলিংবোট মালিকের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে এনেছেন এ ছাড়া গত ১৬ মার্চ সকালে বরগুনা জেলা মৎস্য দপ্তর আয়োজিত ইলিশ উন্নয়ন সংক্রান্ত এক সভায় সাগরে ভারতীয় ট্রলিং ট্রলারের দাপটের বিষয়টি তুলে তিনি বক্তব্য রেখেছেন ঐ সভায় বরগুনা-১ আসনের এমপি ধীরেন্দ্র নাথ দেবনাথ শম্ভু উপস্থিত ছিলেন বলে মোস্তফা চৌধুরী জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, ভারতীয় জেলে ও ট্রলিং ট্রলারের কারণে সাগরে মাছ ধরায় সমস্যা হচ্ছে গত এক মাসে শরণখোলা অঞ্চলের অর্ধশত ফিশিংবোটের জাল নষ্ট করেছে ট্রলিং ট্রলারের জেলেরা। ফলে বোট মালিকরা লাখ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
বাংলাদেশ কোষ্টগার্ড পশ্চিমজোন মোংলার নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে বলেন,বঙ্গোপসাগরে কোষ্টগার্ড নিয়মিত টহল দিচ্ছে। ভারতীয় ট্রলার দেখামাত্র তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং মাঝে মাঝে ২/১টি ভারতীয় ট্রলার ধরা পড়ে। দেশীয় ট্রলিংয়ের বিষয়ে তাদের কাছে কোন অভিযোগ নেই বলে ঐ কর্মকর্তা জানান।

 

বার্তা/এন

জনপ্রিয়

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ দেখার আহ্বান সৌদি আরবের

বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় ফিশিংবোটের দাপটে জেলেরা মাছ ধরতে পারছে না

প্রকাশের সময় : ০৬:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ মার্চ ২০২২

বঙ্গোপসাগরে দেশীয় জলসীমায় ভারতীয় ট্রলিং ফিশিংবোটের দাপটে সাধারণ জেলেরা মাছ ধরতে পারছেনা। অপরদিকে চট্রগ্রাম অঞ্চলের ট্রলিং ফিশিংবোট সাগর দাপিয়ে জেলেদের জাল ছিড়ে ফেলছে। ধংস হচ্ছে ছোট মাছের পোনা।
বঙ্গোপসাগর থেকে ফিরে আসা শরণখোলার রাজেস্বর গ্রামের ফিশিংবোট মা-বাবার দোয়ার মাঝি লিটন হাওলাদার, রাজৈর গ্রামের মায়েরদোয়া বোটের মাঝি মোঃ ইউসুফ, খোন্তাকাটা গ্রামের এফবি কারিমা বোটের মাঝি ইউনুসসহ অন্য কয়েকটি ফিশিংবোটের মাঝিরা অভিযোগে জানান, বর্তমানে সাগরে বাংলাদেশ জলসীমায় ভারতীয় ট্রলিং ফিশিংবোট অবাধে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের দুবলারচর, কুয়াকাটা উপকূল, সোনারচর, গঙ্গামতি থেকে আরো পূর্ব দিকে গিয়ে মাছ ধরছে । ভারতীয় বোটের কারণে তারা ঠিকমত সাগরে জাল ফেলতে পারেনা। ভারতীয় শক্তিশালী বোট তাদের জালের উপর দিয়ে চালিয়ে যায় ফলে জাল ছিড়ে নষ্ট হয়। প্রতিবাদ করলে ভারতীয়রা মারমূখী আচরণ করে বলে ঐ মাঝিরা জানান। অপর দিকে চট্রগাম অঞ্চলের ট্রলিং ফিশিংবোটবহর বেপরোয়াভাবে সাধারণ ফিশিংবোটের জাল ছিড়ে চলে যায়। ট্রলিংবোটের জালে মারা পড়ছে ছোট ছোট বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা এতে ধংস হচেছ সাগরের মৎস্য সম্পদ ।
বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় ফিশিংবোট ও চট্রগ্রামের ট্রলিংয়ের দাপটে সাধারণ জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে পারছেনা। গত এক পক্ষকাল সময়ের মধ্যে সাগরে জাল নষ্ট করায় তিনি চট্রগ্রামের এক ট্রলিংবোট মালিকের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে এনেছেন এ ছাড়া গত ১৬ মার্চ সকালে বরগুনা জেলা মৎস্য দপ্তর আয়োজিত ইলিশ উন্নয়ন সংক্রান্ত এক সভায় সাগরে ভারতীয় ট্রলিং ট্রলারের দাপটের বিষয়টি তুলে তিনি বক্তব্য রেখেছেন ঐ সভায় বরগুনা-১ আসনের এমপি ধীরেন্দ্র নাথ দেবনাথ শম্ভু উপস্থিত ছিলেন বলে মোস্তফা চৌধুরী জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, ভারতীয় জেলে ও ট্রলিং ট্রলারের কারণে সাগরে মাছ ধরায় সমস্যা হচ্ছে গত এক মাসে শরণখোলা অঞ্চলের অর্ধশত ফিশিংবোটের জাল নষ্ট করেছে ট্রলিং ট্রলারের জেলেরা। ফলে বোট মালিকরা লাখ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
বাংলাদেশ কোষ্টগার্ড পশ্চিমজোন মোংলার নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে বলেন,বঙ্গোপসাগরে কোষ্টগার্ড নিয়মিত টহল দিচ্ছে। ভারতীয় ট্রলার দেখামাত্র তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং মাঝে মাঝে ২/১টি ভারতীয় ট্রলার ধরা পড়ে। দেশীয় ট্রলিংয়ের বিষয়ে তাদের কাছে কোন অভিযোগ নেই বলে ঐ কর্মকর্তা জানান।

 

বার্তা/এন