শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনীয় সেনাদের আত্মসমর্পণের সময় বেঁধে দিল রাশিয়া

ছবি-সংগৃহীত

ইউক্রেনের খারকিভসহ বিভিন্ন শহরে চলছে তীব্র লড়াই। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মারিউপোলে ইউক্রেনীয় সেনাদের আত্মসমর্পণের জন্য স্থানীয় সময় সোমবার (২১ মার্চ) ভোর ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে রাশিয়া। আর রাশিয়াকে মোকাবিলায় ইসরাইলের কাছে অস্ত্র সহায়তা চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে দাবি করেছে তুরস্ক।

রোববার (২০ মার্চ) জেলেনস্কি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউক্রেনের খারকিভ শহরে দেশটির সেনাবাহিনী ও রুশ বাহিনীর মধ্যে চলমান তীব্র লড়াইয়ের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ওই ভিডিওতে মলদোভা সীমান্তের কাছাকাছি রাশিয়ার ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্যও তুলে ধরা হয়। একই দিন দোনবাস থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে বিতাড়িত করার দাবি করে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। দফতরের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, সেখানে সরকারি বাহিনীর কয়েকটি ট্যাংক, যুদ্ধযান ও মর্টার ধ্বংস করা হয়েছে।

এ অবস্থার মধ্যেই মারিউপোলে স্থানীয় সেনা সদস্যদের আত্মসমর্পণের জন্য পাঁচ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে শহরটিতে আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নিতে মানবিক করিডোর চালু রাখার কথা জানায় মস্কো। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ হাজার মানুষ সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম।

এমন পরিস্থিতিতে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র সহায়তা চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রোববার (২০ মার্চ) ইসরাইলের পার্লামেন্টে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে দেশটিকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বাঁচতে চাই, কিন্তু প্রতিবেশীরা আমাদের মৃত দেখতে চায়। এটা পুরোপুরি একটা যুদ্ধ। যার লক্ষ্য আমাদের ধ্বংস করা। আপনাদের কাছে সবচেয়ে ভালো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। আপনারা আমাদের সাহায্য করে জীবন বাঁচাতে পারেন।

এর আগে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে নিজের প্রস্তুতির কথা জানান জেলেনস্কি। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এদিকে, ইউক্রেন ও মস্কো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে তুরস্ক। রোববার (২০ মার্চ) দেশটির আনতালিয়া শহরে শান্তি আলোচনায় বসেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা। তাদের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসৌলু।

আল জাজিরাকে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বলেন, ইউক্রেনের নিরপেক্ষ থাকা, নিরস্ত্রীকরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইউক্রেনে রুশ ভাষাভাষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দোনেৎস্ক ও ক্রিমিয়াকে আলাদা প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। যদিও মস্কো বা কিয়েভ এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি।

জনপ্রিয়

নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে অযোগ্য ঘোষণার দাবি আখতার হোসেনের

ইউক্রেনীয় সেনাদের আত্মসমর্পণের সময় বেঁধে দিল রাশিয়া

প্রকাশের সময় : ১২:২১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ মার্চ ২০২২
ইউক্রেনের খারকিভসহ বিভিন্ন শহরে চলছে তীব্র লড়াই। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মারিউপোলে ইউক্রেনীয় সেনাদের আত্মসমর্পণের জন্য স্থানীয় সময় সোমবার (২১ মার্চ) ভোর ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে রাশিয়া। আর রাশিয়াকে মোকাবিলায় ইসরাইলের কাছে অস্ত্র সহায়তা চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে দাবি করেছে তুরস্ক।

রোববার (২০ মার্চ) জেলেনস্কি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউক্রেনের খারকিভ শহরে দেশটির সেনাবাহিনী ও রুশ বাহিনীর মধ্যে চলমান তীব্র লড়াইয়ের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ওই ভিডিওতে মলদোভা সীমান্তের কাছাকাছি রাশিয়ার ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্যও তুলে ধরা হয়। একই দিন দোনবাস থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে বিতাড়িত করার দাবি করে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। দফতরের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, সেখানে সরকারি বাহিনীর কয়েকটি ট্যাংক, যুদ্ধযান ও মর্টার ধ্বংস করা হয়েছে।

এ অবস্থার মধ্যেই মারিউপোলে স্থানীয় সেনা সদস্যদের আত্মসমর্পণের জন্য পাঁচ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে শহরটিতে আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নিতে মানবিক করিডোর চালু রাখার কথা জানায় মস্কো। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ হাজার মানুষ সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম।

এমন পরিস্থিতিতে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র সহায়তা চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রোববার (২০ মার্চ) ইসরাইলের পার্লামেন্টে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে দেশটিকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বাঁচতে চাই, কিন্তু প্রতিবেশীরা আমাদের মৃত দেখতে চায়। এটা পুরোপুরি একটা যুদ্ধ। যার লক্ষ্য আমাদের ধ্বংস করা। আপনাদের কাছে সবচেয়ে ভালো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। আপনারা আমাদের সাহায্য করে জীবন বাঁচাতে পারেন।

এর আগে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে নিজের প্রস্তুতির কথা জানান জেলেনস্কি। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এদিকে, ইউক্রেন ও মস্কো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে তুরস্ক। রোববার (২০ মার্চ) দেশটির আনতালিয়া শহরে শান্তি আলোচনায় বসেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা। তাদের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসৌলু।

আল জাজিরাকে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বলেন, ইউক্রেনের নিরপেক্ষ থাকা, নিরস্ত্রীকরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইউক্রেনে রুশ ভাষাভাষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দোনেৎস্ক ও ক্রিমিয়াকে আলাদা প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। যদিও মস্কো বা কিয়েভ এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি।