
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের কালিতলা নামক এলাকায় কুলিক নদীর অভয়াশ্রমে নদীর পানিতে বিষ প্রয়োগ করে সকল প্রজাতির মা মাছ নিধনের খবর পাওয়া গেছে। এতে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে।
মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সকালে টের পেয়ে নদীর পাশের গ্রাম ঘনশ্যামপুর তাতিপাড়ার লোকজন নদীতে মরা মাছের খবর পেয়ে শত শত মানুষ মাছ ধরা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক লোকজনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা জানান,কে বা কাহারা রাতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরে নিয়ে চলে গেছে। এখন যেগুলো মরা মাছ আছে আমরা সেগুলো ধরতে এসেছি। এসময় যারা নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরে নিয়ে গেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।
রাণীশংকৈল মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কুলিক নদীতে বিভিন্ন জাতের ২০০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। সেই সঙ্গে দেশি মা মাছ সংরক্ষণের জন্য অভয়াশ্রম তৈরি করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের কালিতলা নামক অভয়াশ্রমে নদীর পানির গতিরোধ না থাকায় জমে থাকা পুরো পানিতে বিষ প্রয়োগ করে মা মাছ শিকার করে নিয়েছেন অপরাধীরা। ঘটনার দিন নদীর ধারে মরা মাছ ভেসে বেড়াচ্ছে। পানিতে জীবন্ত কোন মাছ লক্ষ্য করা যায়নি। শুধু তাই নয় মরে গেছে নদীর পানিতে মা মাছ সহ সব জলজ প্রাণী।
নদীর পাশের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা জানান,কে বা কাহারা রাতে বিষ প্রয়োগ করছে আমি জানি না, তবে সকাল বেলা এলাকার লোকজনের জানা জানি হইলে নদীতে মাছ ধরতে আসি।
এতে নদীর পানিতে অভয়াশ্রম থেকে ভেসে আসা বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠে।
ওই এলাকার জেলে ভাটু জানান, আমিসহ এই এলাকার প্রায় কয়েকটি পরিবার মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করি। বাড়ির পাশে নদীর তীরে বারোমাস মাছ পাওয়া যায়। কিন্ত বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের কারণে বর্ষার মৌসুম পর্যন্ত আমাদের প্রচন্ড অভাবের মধ্যে থাকতে হবে। বিষ প্রয়োগের কারণে সব মাছ মরে গেছে।
এ ব্যপারে রাণীশংকৈল উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম এই প্রতিনিধিকে বলেন, বিষ প্রয়োগে মাছসহ জলজ প্রাণী নিধনের কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন,উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল দ্রুত পরিদর্শনে আসি। নদীতে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এখানে আসার আগেই অপরাধিরা পালিয়েছে। তবে জরিত কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বার্তা/এন
জাহাঙ্গীর আলম, (রাণীশংকৈল) ঠাকুরগাঁও 







































