সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনে ভারী অস্ত্র পাঠাতে পারে জার্মানি

ছবি-সংগৃহীত

ইউক্রেনের অনুরোধে দেশটিতে সাঁজোয়া ট্যাংকসহ ভারী অস্ত্র পাঠাতে পুরোপুরি প্রস্তুত জার্মানি। এমনকি এসব সমরাস্ত্র চালাতে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ দিতেও পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

ইউক্রেনে রুশ বাহিনীকে ঠেকাতে অত্যাধুনিক ফাইটার হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া ট্যাংক ও যুদ্ধজাহাজসহ ভারী অস্ত্র সহায়তায় কিয়েভের আবেদনে সাড়া দিতে সোভিয়েত যুগের আর্টিলারি, বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র লেওপার্ড ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্র জেপার্ড দিতে যাচ্ছে জার্মানি।

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) জার্মানির রাইনলান্ড ফাল্জ অঙ্গরাজ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানঘাঁটি রামস্টাইনে বিশ্বের ৪০টি দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে এ খবর জানান জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টিনা লাম্বরেখট।

এ সময় ইউক্রেনের মানবিক দিক চিন্তা করে এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক শেষে ইউক্রেনকে ভারী সামরিক সরঞ্জাম দিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ক্রিস্টিনা বলেন, আমরা সব দিক বিবেচনা করে ভারী সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে ইউক্রেনের অনুরোধ রাখতে রাজি হয়েছি।

জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শুরুতেই বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র জেপার্ড ও আমাদের অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ৮৮টি লেওপার্ড সাঁজোয়া ট্যাংক ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে পাঠানো হবে। সবই জার্মান সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্রাগার থেকে সরবরাহ করা হবে। ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মুক্তির জন্য আমরা সাহায্য অব্যাহত রাখব।

এ সময়, জার্মানির প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্রাউস মাফাই ভেগমানকে ইউক্রেনের চাওয়া সমরাস্ত্রের প্রকৌশলগত সবকিছু দেখাশোনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান ক্রিস্টিনা।

জার্মানির কাছে ভারী অস্ত্রের সহায়তায় ইউক্রেনের আবেদন নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই চাপে ছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজ। দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে এমন সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক হবে মনে করছে শলজ প্রশাসন।

এদিকে, বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য সামরিক ও অর্থ সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী অনিতা আনান্দ বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়া যেভাবে অবৈধ ও অনৈতিকভাবে সামরিক অভিযান শুরু করেছে তার বিরুদ্ধে আমরা মিত্রদেশগুলো জোরালোভাবে রাজনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যে ৩৩ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা ও দুই হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি।

অন্যদিকে, ইউক্রেনকে ভারী সমরাস্ত্র সহায়তা দেওয়ার কারণে জার্মানিসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পশ্চিমা কোনো সাহায্যই ইউক্রেনকে রুশ বাহিনীর কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না বলেও দাবি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের।

জনপ্রিয়

যশোরে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ইউক্রেনে ভারী অস্ত্র পাঠাতে পারে জার্মানি

প্রকাশের সময় : ১১:৪৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ এপ্রিল ২০২২
ইউক্রেনের অনুরোধে দেশটিতে সাঁজোয়া ট্যাংকসহ ভারী অস্ত্র পাঠাতে পুরোপুরি প্রস্তুত জার্মানি। এমনকি এসব সমরাস্ত্র চালাতে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ দিতেও পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

ইউক্রেনে রুশ বাহিনীকে ঠেকাতে অত্যাধুনিক ফাইটার হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া ট্যাংক ও যুদ্ধজাহাজসহ ভারী অস্ত্র সহায়তায় কিয়েভের আবেদনে সাড়া দিতে সোভিয়েত যুগের আর্টিলারি, বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র লেওপার্ড ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্র জেপার্ড দিতে যাচ্ছে জার্মানি।

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) জার্মানির রাইনলান্ড ফাল্জ অঙ্গরাজ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানঘাঁটি রামস্টাইনে বিশ্বের ৪০টি দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে এ খবর জানান জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টিনা লাম্বরেখট।

এ সময় ইউক্রেনের মানবিক দিক চিন্তা করে এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক শেষে ইউক্রেনকে ভারী সামরিক সরঞ্জাম দিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ক্রিস্টিনা বলেন, আমরা সব দিক বিবেচনা করে ভারী সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে ইউক্রেনের অনুরোধ রাখতে রাজি হয়েছি।

জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শুরুতেই বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র জেপার্ড ও আমাদের অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ৮৮টি লেওপার্ড সাঁজোয়া ট্যাংক ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে পাঠানো হবে। সবই জার্মান সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্রাগার থেকে সরবরাহ করা হবে। ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মুক্তির জন্য আমরা সাহায্য অব্যাহত রাখব।

এ সময়, জার্মানির প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্রাউস মাফাই ভেগমানকে ইউক্রেনের চাওয়া সমরাস্ত্রের প্রকৌশলগত সবকিছু দেখাশোনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান ক্রিস্টিনা।

জার্মানির কাছে ভারী অস্ত্রের সহায়তায় ইউক্রেনের আবেদন নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই চাপে ছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজ। দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে এমন সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক হবে মনে করছে শলজ প্রশাসন।

এদিকে, বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য সামরিক ও অর্থ সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী অনিতা আনান্দ বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়া যেভাবে অবৈধ ও অনৈতিকভাবে সামরিক অভিযান শুরু করেছে তার বিরুদ্ধে আমরা মিত্রদেশগুলো জোরালোভাবে রাজনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যে ৩৩ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা ও দুই হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি।

অন্যদিকে, ইউক্রেনকে ভারী সমরাস্ত্র সহায়তা দেওয়ার কারণে জার্মানিসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পশ্চিমা কোনো সাহায্যই ইউক্রেনকে রুশ বাহিনীর কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না বলেও দাবি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের।