
টিকিট নিয়ে তেলেসমাতির অনুসন্ধানে নেপথ্যে প্রথমেই যার নাম উঠে আসে তার নাম ইমদাদুল। খোজ নিয়ে জানা যায় তার বাড়ি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায়। প্রথমে ঝিকরগাছা স্টেশনের পাশে একটা দর্জির দোকানে কাজ করতেন। এখন তিনি ঝিকরগাছা স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। টিকিট বুকিং সহকারী মেহেদী হাসান জেমস কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে তার কপাল খুলে গেছে। স্টেশনের কয়েকজন কুলি, পরিচ্ছন্নতা কর্মী সহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে তার নিয়োগকর্তার সহযোগিতায় গড়ে তুলেছেন টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট। সাথে স্টেশনের কমন রুম দখল করে দিয়েছেন অবৈধ পাখির দোকান। ইমদাদুলের বিরুদ্ধে কিছু বললেই তিনি এবং তার সহযোগীরা সেই ব্যক্তির ওপর হামলা, শারীরিক নির্যাতন চালায়। কিছু দিন আগে পাশ্ববর্তী অরেশ হোমিও হল আলাল ডাক্তারের দোকানে সে হামলা চালায়। সামান্য ঘটনায় স্হানীয় রিপনের হোটেলের কর্মচারীকেও মারধর করে এই ইমদাদুল।
অনুসন্ধানে জানা যায় স্টেশনের চাবি থাকার সুবাদে এই ইমদাদুল খুব সকালে এসে স্টেশন খুলে বিভিন্ন ভুয়া আই ডি কার্ড ও ফোন নং ব্যবহার করে ৮/১০ টি টিকিট কেটে নেন। আর যদি সেই সুযোগ না পান তবে তার কয়েকজন সহযোগীকে লাইনে দাড় করিয়ে টিকেট কাটান। পরে দ্বিগুণ তিনগুণ দামে সেই টিকিট ঢাকাগামী যাত্রীর কাছে বিক্রি করে। আরিফুল ইসলাম নামে একজন জানান তিনি ৮০০ টাকা দিয়ে এই ইমদাদুল এর কাছ থেকে টিকিট কিনে ঢাকা গেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান ৬ই মে ঢাকা যাওয়ার জন্য ১৮০০ টাকা দিয়ে ইমদাদুল এর কাছ থেকে তিনি দুটি টিকিট নিয়েছেন। এভাবেই স্টেশনে বসে স্টেশন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ঝিকরগাছায় রেলের টিকেট কালোবাজারি করা হচ্ছে। যার ফলে সাধারণ মানুষ টিকিট পাচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে স্টেশনের আশেপাশের দোকানদার এবং বাসিন্দারা জানান, এই ইমদাদুল সারাদিন খুব ফিটফাট হয়ে স্টেশনেই ঘুরে ঘুরে খবরদারি করে বেড়ায়। তার মনিব স্হানীয় হওয়ায় এবং স্টেশন মাস্টারের আশীর্বাদ থাকায় কেউ তাকে কিছু বলতে সাহস পায়না। তারা আরও জানান ইমদাদুলকে দেখে মনে হয় তিনিই স্টেশন মাস্টার। স্টেশনে থাকাকালীন অবসর সময় তিনি স্টেশন মাস্টারের রুমেই সময় কাটান। প্রতিবেদনের জন্য ঘটনাস্থলে যেয়েও এর সত্যতা পাওয়া যায়।
ইমদাদুল এর নিয়োগকর্তা মেহেদি হাসান জেমস এই স্টেশনের টিকিট বুকিং সহকারী। তার পিতা মরহুম গোলাম নবী ছিলেন শ ম র ডিগ্রি কলেজের স্বনামধন্য পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক। আদি বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়। পিতার চাকরির সুবাদে তিনি ঝিকরগাছাতেই বড় হন। ছাত্র জীবনে বি এন পির ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। ২০০৩ সালে গঠিত ঝিকরগাছা পৌর ছাত্র দলের ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে পৌর যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। এখন স্টেশনের পাশেই শেখ আবদুল মালেকের বাসায় ভাড়া থাকেন। তিনি ঠিকমতো অফিসে থাকেননা। নিজের খেয়াল খুশি মত অফিসে যান আসেন। যখন এই প্রতিবেদন করার জন্য ৮মে সকাল১১টায় রেলস্টেশনে যাওয়া হয়েছিল তখনও তিনি তার কর্মস্থলে ছিলেননা। এব্যাপারে স্টেশন মাস্টারকে প্রশ্ন করলে তিনি জানান মেহেদি হাসান অফিসে আসবেন কি আসবেন না সেটা তিনি জানেননা। নাম গোপন রাখার শর্তে বেশ কয়েকজন জানান জেমস বেশির ভাগ সময় স্টেশনের বাইরে আড্ডাবাজী করে বেড়ান। প্রকাশ্যে রাস্তায় ধুমপান করেন, কাউকে সন্মান করেননা। যারতার সাথে যেকোনো সামান্য বিষয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
ইমদাদুল এর বিষয়ে জেমস জানান, স্টেশনে লোকবল কম থাকায় আর রাতে ডিউটি দেয়ার কেউ না থাকায় ইমদাদুলকে রাখা হয়েছে। তবে ইমদাদুলকে নিজে বেতন দেয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন। যদিও ইমদাদুল এর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিডিওতে ইমদাদুল নিজের মুখেই স্বীকার করেন জেমসই তাকে নিয়োগ দিয়েছে এবং তার বেতনও তিনিই দেন। ঝিকরগাছা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জানান স্টেশনটি তার ওয়ার্ড লাগোয়া এবং এই স্টেশনে ইমদাদুলের কাছে গেলেই টিকিট পাওয়া যায় বলে শুনেছি।
এই বিষয়টি নিয়ে গত দুই পর্বের ধারাবাহিক খবর প্রকাশিত হবার পর ঝিকরগাছার সর্ব স্তরের জনগণ ইমদাদুল এবং তার গডফাদারের অপসারণ সহ শাস্তি দাবি করেছেন। এদিকে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী স্টেশন মাস্টার বরাবর কিছু তথ্য পাওয়ার আবেদন জমা দিতে গেলে স্টেশন মাস্টার সেটি গ্রহণ করেননি।
আশরাফুজ্জামান বাবু 







































