
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের উত্তর জাহাঙ্গীরপুর (গাঙ্গিনাপাড়) গ্রামের মো. চান মিয়া মাত্র ১৩ দিন আগে তার দ্বিতীয় ছেলে রাকিবকে (২৪) সৌদি আরব পাঠান। ছেলেকে সৌদি আরব পাঠাতে চা বিক্রেতা বাবার খরচ হয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাকিব গত ১ জুন সৌদিআরব যান। ১১ জুন থেকে তায়েফে রোড ক্লিনারের কাজ শুরু করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করে রাকিবের বাবা চান মিয়া জানান, গত রোববার সকালে সর্বশেষ রাকিব ফোন করে পরিবারের সবার খোঁজখবর নিয়েছে। ফোনে জানান, কোনো চিন্তা করো না, কাজ পেয়েছি, মাস শেষে বেতন পেয়েই বাড়িতে টাকা পাঠাবো।
ছেলের কথায় বাবার মন ভরে উঠে।কিন্তু ওই পরিবারের সুখের আমেজে বিষাদ নেমে আসে সৌদি আরব থেকে আসা একটি ফোন পেয়ে। পান্নু মিয়া নামে সৌদি প্রবাসী রাকিবের বাড়িতে ফোন করে জানান, রোববার দুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে রাকিব। এমন সংবাদে প্রস্তুত ছিল না পরিবারের লোকজন। মাথায় যেন তাদের আকাশ ভেঙে পড়লো। চুরমার হয়ে গেলো তাদের সব আশা, স্বপ্ন।
দুই বছরের শিশুপুত্র তাসিনকে নিয়ে বিধবা হলো রাকিবের স্ত্রী তানজিলা আক্তার। মা রোকিয়া আক্তার বিলাপ করে বলেন, ‘তোমরা আমার ছেলেকে এনে দেও। আমার বুকের ধনকে আমার বুকে ফিরিয়ে দেও।’ আমার বাবার মুখটা দেখতে চাই।
বাবা চান মিয়া বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমার বাবারে আমার বুকে আইন্যা দেন। নিজের মাটিতে তাকে কবর দিতে চাই।
স্ত্রী তানজিলা আক্তার বলেন, আমার স্বামীরে আইনা দেন। আমার অবুঝ ছেলে তার বাবাকে দেখতে চায়।
শোক শুধু ওই পরিবারে নয়, গোটা এলাকায় বিরাজ করছে। শোকাহত গ্রামবাসী ভীড় করছেন রাকিবদের বাড়ীতে। শোকাহত পরিবারটি এখন তাদের প্রিয় রাকিবের লাশের অপেক্ষার প্রহর গুনছে।
নিহত রাকিবের লাশ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তার পরিবার।
নিজস্ব প্রতিবেদক 







































