
ঠাকুরগাঁওয়ে শাপলা আকতার (২০) নামে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধুকে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুর, স্বামী ও ননদ সহ শশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
নিহত শাপলা আকতার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পদমপুর গ্রামের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী রফিকুল ইসলামের মেয়ে ।
স্হানিয় ও পরিবার সুত্রে জানা যায় যে, ‘গত বছর ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় ফয়সাল শাপলাকে বিয়ে করে। ছেলের পরিবার বিষয়টি তখন মেনে নেয়নি। এরই মধ্যে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয় শাপলা। এ অবস্থায় কোরবানি ঈদের কথা বলে ৯জুলাই শনিবার শাপলাকে তার শশুর বাড়িতে নিয়ে যায় স্বামী ফয়সাল।
কিন্তু শ্বশুরবাড়ির দরজায় পা দিতেই ঈদের আগের দিন রাত দুটোয় হালের লাঠি দিয়ে শাপলাকে মারধর শুরু করেন তার শ্বশুর আব্দুল খালেক, স্বামী ফয়সাল ও ননদসহ আরও কয়েকজন।
এ সময় শাপলার পেটে একের পর এক লাথি মারা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সেখানকার এক প্রতিবেশী শাপলাকে উদ্ধার করে তার মামার বাড়িতে দিয়ে যায়।
শাপলার মামা মোস্তফা আহম্মেদ বলেন, আমার বাসায় দিয়ে যাওয়ার পর আমি তার চাচা হায়দার আলীকে জানাই। আমার বাসা থেকে তার বাবার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় শাপলাকে। শাপলার কাছেই জানতে পারি, কিভাবে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। গত দুদিন ধরে সে ব্যাথার কাতরাচ্ছিল। কিন্তু ঈদের ব্যস্ততায় হাসপাতালে না পাঠিয়ে তাকে বাড়িতেই সুস্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
অতঃপর ১১জুলাই সোমবার সকালে বাড়িতেই শাপলার মৃত্যু হয়। মহিলারা শাপলার লাশ গোসল দেওয়ার সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেলে তার বাবাকে জানান। পরে তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে দ্রুত আসার চেষ্টা করি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জাহাঙ্গীর আলম ঠাকুরগাঁও 







































